সহকারী অধ্যাপক
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১০:১৩ অপরাহ্ণ
রবের পথে মানুষের যাত্রা* মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
রবের পথে মানুষের যাত্রা*
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
হে মানুষ! পথিক তুমি সময়ের অন্তহীন ধারা,
কঠোর শ্রমে কাটাও জীবন, দিনরাত্রি সারা।
অজানা গন্তব্যে ধীরে ধীরে চলেছ নিরবধি,
শেষে তোমার পৌঁছা হবে রবের দরবারে অবধি।
মাটির বুকে সংগ্রাম করে গড়ো তুমি স্বপ্নের ঘর,
হাসি–কান্না মিলিয়ে লিখো জীবনের অন্তর।
তবু এই সব পরিশ্রমের শেষ যে এক ঠিকানা—
রবের কাছে ফিরতে হবে, এটাই সত্য মানা।
তুমি ভাবো দুনিয়ার পথে অর্জনই সব কিছু,
সুখের পিছু ছুটে চলে হৃদয় অনন্ত পিছু।
কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে,
রবের দিকেই এগিয়ে যাও অদৃশ্য আকাশে।
কেউ গড়ে সৎকর্মের আলো, ঈমানের দীপ্ত পথ,
কেউ আবার আঁধার বুনে ভুলে যায় সত্যের রথ।
তবু সবার পথের শেষ এক মহা সাক্ষাৎ—
রবের সামনে দাঁড়াবে প্রাণ, খুলবে কর্মপাত।
সেদিন লুকানো কর্ম সব প্রকাশ হবে ধরা,
হৃদয়ের গোপন কাহিনি আর থাকবে না ঢাকা সরা।
সৎকর্ম যারা বুনেছিল আলোর সোনার বীজ,
তাদের মুখে ফুটবে হাসি, মিটবে অন্তর-দ্বীজ।
আর যারা ভুলে গেছে রবের ন্যায়ের আহ্বান,
অন্যায় পথে কাটিয়েছে দুনিয়ার সব প্রাণ,
তাদের সামনে খুলে যাবে কর্মের কঠিন ফল,
সত্যের আদালতে তখন হবে ন্যায়ের সম্বল।
হে মানুষ! তাই জাগো আজ, করো সৎপথ ধরা,
রবের সন্তুষ্টির আলো করুক হৃদয় ভরা।
কারণ এই কঠোর সাধনা বৃথা যাবে না কভু,
শেষে তোমার সাক্ষাৎ হবে মহান প্রভুর রভু।
যে হৃদয় চায় আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবেসে,
তার জন্য রহমত নামে শান্তির আবেশে।
আর যে হৃদয় ভয়ে দূরে সরে যায় অন্ধকারে,
সে হারিয়ে যায় নিজেরই ভুলের ভারে।
তাই পরিশ্রম করো আজ সত্যের দীপ্ত আলোয়,
রবের পথে চলুক প্রাণ ঈমানেরই পালোয়।
কারণ জীবন সংগ্রাম শুধু দুনিয়ার নয়—
শেষে রবের সান্নিধ্যই মানুষের মহাময়।
***
হে মানুষ! জন্ম নিলে তুমি ক্ষণিক দুনিয়ার ঘরে,
সময়ের স্রোতে ভাসমান পথিক জীবনের ডরে।
মাটির শরীর, রূহের আলো, রহস্যময় প্রাণ,
রবের দিকে চলা তোমার অনিবার্য জ্ঞান।
শৈশব আসে নির্মল হাসি শিশিরভেজা ভোর,
নির্দোষ প্রাণে তখনও নেই দুনিয়ার কোন শোর।
কিন্তু ধীরে সময় গড়ে জীবনের অধ্যায়,
দুঃখ সুখের পাঠ শেখায় নিয়তিরই মায়া।
কিশোর হৃদয় স্বপ্ন দেখে দূর নীল আকাশ,
দুনিয়ার পথে ছুটে চলে আশা ভরা নিশ্বাস।
যৌবন আসে আগুন হয়ে তেজস্বী ঝড় তোল,
মনের মাঝে জ্বলে ওঠে লক্ষ স্বপ্নের দোল।
মানুষ তখন ভাবে শুধু দুনিয়ার জয়ধ্বনি,
ভুলে যায় সে জীবনের শেষ গন্তব্যখানি।
কেউ গড়ে নেয় জ্ঞানের প্রাসাদ আলো ভরা দীপ,
কেউ আবার অন্ধকারে হারায় নীরব স্নীপ।
কেউ সৎ পথে হাঁটে ধীরে সত্যের দীপ্ত আলোয়,
কেউ মিথ্যার কুয়াশাতে পথ হারায় কালোয়।
তবু সবার যাত্রাপথ এক সত্যে গিয়ে মেলে,
রবের সাথে সাক্ষাৎ শেষে নিয়তিরই খেলে।
দিনের পরে রাত নামে ক্লান্ত সময় ধরে,
মানুষ তখন ভাবে জীবন কত দ্রুত ঝরে।
হৃদয়ের ভেতর প্রশ্ন জাগে নীরব রাতের শেষে,
কেন এ জীবন দুঃখ সুখে সময়েরই দেশে।
কারণ মানুষ চলেছে সব রবেরই আহ্বানে,
অদৃশ্য সেই গন্তব্যে অনন্তের টানে।
প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি ক্ষণ, প্রতিটি শ্রমঘাম,
সবই যেন লিখে চলে অদৃশ্য এক নাম।
সৎকর্ম যেন ফুলের মতো সুবাস ছড়ায় ধরা,
অন্যায় যেন বিষের কাঁটা হৃদয় করে ভরা।
কর্মের বীজ বুনে মানুষ জীবনেরই ক্ষেতে,
ফল তারই পাবে সে এক আখিরাতের রেতে।
কেউ গড়ে নেয় দয়া, ধৈর্য, সত্যের মহা সেতু,
কেউ আবার ভেঙে ফেলে ন্যায়ের সবই কেতু।
তবু সময় থামে না আর নদীর মতো বয়,
প্রতিটি প্রাণ এগিয়ে চলে রবের দিকেই হয়।
বৃদ্ধ বয়স এলে পরে শরীর হয় ক্লান্ত,
চোখের ভেতর জমে থাকে জীবনেরই কান্ত।
স্মৃতির পাতা খুলে যায় অতীত দিনের গান,
মানুষ তখন বোঝে কত ক্ষণিক এই প্রাণ।
দুনিয়ার সব গৌরব ধন ক্ষণিক ধূলি ধরা,
শেষে কেবল কর্মগুলোই থাকে সত্য ভরা।
কবরের নীরব পথে থামে জীবনের গান,
নীরব মাটির বুকে তখন ঘুমায় মানব প্রাণ।
তবু ঘুম নয় সে কেবল অপেক্ষারই ক্ষণ,
পুনরুত্থান দিবসে হবে নতুন এক জীবন।
যখন শিঙ্গা ফুঁকবে ফেরেশতা আকাশ জুড়ে,
মানুষ জাগবে কবর হতে বিস্ময়েরই সুরে।
পৃথিবী তখন কাঁপবে ভীষণ নীরব ভয়ের ঢেউ,
মানুষ বলবে—“কি হলো আজ?” উত্তর জানে নেউ।
আকাশ খুলে যাবে যেন অগ্নিময় দরজা,
সময়ের সব গোপন কথা হবে তখন সজা।
মানুষ তখন দাঁড়াবে সব হাশরের ময়দানে,
কর্মের হিসাব হবে ন্যায়ের মহা ত্রাণে।
খুলে যাবে আমলনামা জীবনেরই খাতা,
লুকানো সব কর্ম তখন উঠবে প্রকাশ পাতা।
সৎকর্ম যারা করেছিল আলোর পথের তরে,
তাদের মুখে জ্বলে উঠবে শান্তিরই নূর ভরে।
আর যারা ভুলে গিয়েছিল রবের ন্যায়ের বাণী,
তাদের চোখে ভয়ের ছায়া গভীর হবে জানি।
তখন বুঝবে মানুষ সব জীবনেরই মান,
কেন ছিল দুনিয়ার পথে শ্রমের অবিরাম।
কারণ এই সব শ্রম ছিল পরীক্ষারই পথ,
যার শেষে রবের সাথে হবে সত্যের রথ।
যে হৃদয় চায় আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবেসে,
তার প্রাণে নামে শান্তি রহমতেরই দেশে।
আর যে হৃদয় ভয় পেয়ে দূরে সরে যায়,
তার জীবনে অন্ধকারের ছায়া নেমে রয়।
রবের ন্যায়ের দরবার তখন দিবে রায়,
সত্য মিথ্যার সব গল্প তখন ফুটে যায়।
ধৈর্যের ফুল যারা বুনেছে দুনিয়ার মাটিতে,
তারা পাবে জান্নাতের পথ শান্তিরই ঘাটিতে।
জান্নাত তখন ফুটবে যেন আলোয় ভরা দেশ,
যেখানে নেই কষ্ট কোনো নেই দুঃখের রেশ।
নদী বইবে দুধ মধুর শান্তিরই সুরে,
আলো হাসবে অনন্ত সুখ জান্নাতের নূরে।
মুমিন হৃদয় তখন ভরে আনন্দেরই ঢেউ,
রবের রহমত দেখে তারা বিস্ময়ে কেঁপে নেউ।
কারণ তাদের শ্রম বৃথা যায়নি কোনদিন,
রবের কাছে পেয়েছে তারা সুখেরই অধীন।
আর যারা অন্যায় পথে কাটিয়েছে কাল,
তাদের সামনে খুলবে শাস্তির অন্ধ জাল।
তখন তারা বুঝবে কত ভুল ছিল পথ,
তবু ফিরে আসার আর থাকবে না রথ।
হে মানুষ! তাই আজই জাগো সত্যের দীপ্ত আলোয়,
রবের পথে চলুক প্রাণ ঈমানেরই পালোয়।
কারণ জীবন ক্ষণিক শুধু সময় নদীর ঢেউ,
শেষে রবের সাক্ষাৎ ছাড়া আশ্রয় নেই নেউ।
দিনের শ্রম রাতের কান্না সবই লিখে যায়,
রবের দিকে মানুষেরই যাত্রা অবিরাম হয়।
পৃথিবীর এই সংগ্রাম তাই বৃথা নয় কভু,
শেষে এরই ফল ফুটবে মহান প্রভুর রভু।
তাই পরিশ্রম করো আজ সত্যের মহা তরে,
রবের সন্তুষ্টি থাকুক হৃদয়েরই ঘরে।
যে হৃদয় সত্যে জাগে সে হারায় না পথ,
রবের নূর তার সামনে খুলে দেয়ই রথ।
মানুষ তাই চলুক ধীরে ন্যায়ের মহা পথে,
আখিরাতের শান্তি যেন থাকে তার সাথে।
কারণ শেষের সেই সাক্ষাৎ অনিবার্য হয়,
মানুষ তার রবের কাছে ফিরবেই নিশ্চয়।
***
হে মানুষ! তুমি এলে ধরণীর ক্ষণিক আশ্রয়ে,
সময়ের নদীতে ভাসা এক পথিক অনন্ত যাত্রায়।
মাটির শরীর, আসমানি রূহ, রহস্যময় প্রাণ,
রবের দিকে চলা তোমার অবধারিত জ্ঞান।
শৈশবের ভোরে হাসি ঝরে শিশিরভেজা ফুলে,
নির্মল হৃদয় খেলায় মাতে পৃথিবীরই কূলে।
তারপর ধীরে সময় বয়ে যৌবনেরই দিন,
স্বপ্নভরা চোখে তখন জাগে শত রঙিন।
মানুষ ভাবে দুনিয়াই সব, এ জীবনই ধন,
ভুলে যায় সে সামনে আছে অনন্ত গন্তব্যপথ।
দুনিয়ার পরীক্ষা***
কেউ সৎ পথে গড়ে নেয় আলোয় ভরা ঘর,
কেউ মিথ্যার আঁধারে হারায় জীবনেরই পর।
কারও হাতে দয়ার ফুল সুবাস ছড়ায় ধরা,
কারও মনে অন্যায়ের কাঁটা বিঁধে সারা।
প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি দিন লিখে যায় ইতিহাস,
রবের দিকে মানুষেরই অবিরাম প্রচেষ্টা।
কর্মের বীজ বুনে মানুষ জীবনেরই ক্ষেতে,
ফল তারই ফুটবে পরে আখিরাতের রেতে।
দিনের পরে রাত নামে সময় নদীর ঢেউ,
মানুষ তবু বুঝতে পারে না নিয়তিরই নেউ।
মৃত্যুর দ্বার**
একদিন হঠাৎ থেমে যায় জীবনেরই গান,
মৃত্যুর নীরব ছায়ায় ঢেকে যায় মানব প্রাণ।
চোখের সামনে ভেসে ওঠে অতীত দিনের পথ,
কর্মের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে হৃদয়েরই রথ।
কবরের নীরব ঘুমে শুয়ে থাকে দেহ,
কিন্তু রূহ অপেক্ষায় থাকে নতুন দিনের সে।
কিয়ামতের সূচনা**
একদিন শিঙ্গা বাজে আকাশ কাঁপিয়ে,
ভেঙে যায় নীরবতা ভয়াল শব্দ ছড়িয়ে।
পৃথিবী কাঁপে ভীষণ কম্পনে অস্থির,
পাহাড় ভেঙে ধূলি হয় আকাশ থাকে স্থির।
সমুদ্র উথলে উঠে আগুনেরই ঢেউ,
আকাশ খুলে যায় যেন অগ্নিময় নেউ।
মানুষ বলে—“কি হলো আজ ধরণীরই বুকে?”
উত্তর আসে—“এসেছে দিন হিসাবেরই সুখে।”
পুনরুত্থান**
কবর হতে জেগে ওঠে মানবগণের দল,
বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখে সময়েরই ফল।
নগ্ন পায়ে দাঁড়ায় সবাই হাশরের ময়দানে,
অতীত জীবনের সব কর্ম সামনে আনে।
সূর্য তখন নিকট এসে জ্বালায় তপ্ত তাপ,
মানুষ কাঁপে ভয়ে তখন দুঃখেরই চাপ।
. আমলনামা**
খুলে যায় কর্মখাতা জীবনেরই দলিল,
লুকানো সব সত্য তখন হয়ে ওঠে প্রকাশিল।
কারও হাতে ডান পাশে আসে আলোর খাতা,
কারও হাতে বাম পাশে আসে ভয়েরই পাতা।
যার ডান হাতে খাতা সে হাসিতে ভরে যায়,
কারণ জানে সামনে তার শান্তিরই ঠাঁই।
যার বাম হাতে খাতা সে কাঁদে দুঃখ ভরে,
কারণ সামনে শাস্তিরই ছায়া নেমে পড়ে।
মিজান ও বিচার**
ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লা ওঠে মহা দরবারে,
সত্য মিথ্যার বিচার হবে ন্যায়েরই ইশারায়।
সৎকর্ম যারা করেছিল আলো ভরা মনে,
তাদের পাল্লা ভারী হয় রহমতেরই ক্ষণে।
অন্যায়ের ভার যাদের বুকের মাঝে রয়,
তাদের সামনে ভয়াল পথ খুলে যায় সয়।
সীরাত সেতু**
জাহান্নামের উপর দিয়ে সীরাত সেতু যায়,
চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম সে তলোয়ারের ধারায়।
মুমিনেরা পার হয় দ্রুত বিদ্যুতেরই মতো,
কারও গতি বাতাসসম, কারও আবার ক্ষত।
কেউ পড়ে যায় পাপের ভারে আগুনেরই কূলে,
কেউ পৌঁছে যায় শান্তিরই জান্নাতেরই দুলে।
জান্নাতের দৃশ্য**
জান্নাত যেন আলো ভরা অনন্ত সুখধাম,
যেখানে নেই দুঃখ কোনো নেই কষ্টের নাম।
নদী বয় দুধ মধুর সুবাস ভরা সুরে,
ফুলের বনে পাখি গায় শান্তিরই নূরে।
সোনার প্রাসাদ ঝলমল করে অনন্তের আলোয়,
মুমিন হৃদয় হাসে তখন আনন্দেরই পালোয়।
তাদের মুখে নূরের দীপ্তি শান্তিরই ছায়া,
রবের রহমত ঘিরে রাখে অনন্ত মায়া।
জাহান্নামের দৃশ্য**
অন্যদিকে জাহান্নামের ভয়াল অগ্নি জ্বলে,
অন্যায়ের পথিকরা কাঁপে তারই ছলে।
আকাশ কাঁপে আর্তনাদে আগুনেরই ঢেউ,
দুঃখের ভারে কাঁদে তারা অনুতাপে নেউ।
তখন তারা স্মরণ করে দুনিয়ার সেই দিন,
যখন সত্যের পথ ছেড়ে চলেছিল রঙিন।
চূড়ান্ত সাক্ষাৎ**
হে মানুষ! এ জীবন তাই বৃথা নয় কভু,
শেষে তোমার সাক্ষাৎ হবে মহান প্রভু।
তুমি যে পরিশ্রম করো দুনিয়ারই পথে,
তারই ফল প্রকাশ পাবে আখিরাতের সাথে।
তাই জাগো আজ সত্য পথে ঈমানেরই আলোয়,
রবের সন্তুষ্টি রাখো হৃদয়েরই পালোয়।
কারণ শেষের সেই সাক্ষাৎ অনিবার্য হয়,
মানুষ তার রবের কাছে ফিরবেই নিশ্চয়।
***
মানুষের রবের পথে মহাযাত্রা
দুনিয়ার জীবন**
হে মানুষ! ধরণীতে তুমি ক্ষণিক পথিক প্রাণ,
সময়ের স্রোতে ভেসে চলে জীবনেরই গান।
মাটির শরীর, আসমানি রূহ, রহস্যময় ধারা,
৪
৪ মন্তব্য