সহকারী অধ্যাপক
২৯ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৫৭ অপরাহ্ণ
মানুষের রবের পথে মহাযাত্রা-1 দুনিয়ার যাত্রা** - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
মানুষের রবের পথে মহাযাত্রা-1
দুনিয়ার যাত্রা**
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
হে মানুষ! ধরণীতে তুমি ক্ষণিক পথিক প্রাণ,
সময়ের স্রোতে ভেসে চলে জীবনেরই গান।
মাটির দেহে আসমানি রূহ, রহস্যময় আলো,
রবের দিকে চলা তোমার নিয়তিরই ভালো।
শৈশব আসে শিশিরভেজা স্নিগ্ধ সকালের মতো,
নির্মল প্রাণে তখন নেই দুঃখের কোনো ক্ষত।
যৌবন এলে জ্বলে ওঠে স্বপ্নের দীপ্ত আগুন,
দুনিয়ার পথে ছুটে চলে মানুষ অগণন।
কেউ গড়ে নেয় সত্যপথে ন্যায়ের উজ্জ্বল ঘর,
কেউ আবার মিথ্যার পথে হারায় অন্তর।
প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি দিন কর্মেরই ইতিহাস,
রবের দিকে মানুষেরই অবিরাম প্রচেষ্টা।
কর্মের বীজ বুনে সবাই জীবনেরই ক্ষেতে,
ফল তারই ফুটবে পরে আখিরাতের রেতে।
দুনিয়ার সব গৌরব ধন ক্ষণিক মরীচিকা,
শেষে থাকে কর্মফল সত্যেরই প্রতীক।
দিনের পরে রাত নামে সময় নদীর ঢেউ,
মানুষ তবু বুঝতে পারে না নিয়তিরই নেউ।
তাই যে জাগে সত্যপথে ঈমানেরই আলোয়,
তার জীবন শান্তি পায় রবেরই পালোয়।
মৃত্যুর দ্বার**
একদিন হঠাৎ থেমে যায় জীবনেরই গান,
মৃত্যুর ছায়া ঢেকে ফেলে মানুষেরই প্রাণ।
চোখের সামনে ভেসে ওঠে অতীত দিনের পথ,
কর্মের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে হৃদয়েরই রথ।
কবরের নীরব বুকে শুয়ে থাকে দেহ,
রূহ অপেক্ষা করে তখন নতুন দিনের সে।
সময়ের গভীর রাতে নীরবতার ঢেউ,
পুনরুত্থানের আহ্বান আসে অদৃশ্য নেউ।
কিয়ামতের সূচনা**
একদিন শিঙ্গা বাজে আকাশ কাঁপিয়ে,
সময়ের সব গোপন কথা জাগে ধ্বনি ছড়িয়ে।
পৃথিবী কাঁপে প্রচণ্ড কম্পে অস্থির ভয়াল,
পাহাড় ভেঙে ধূলি হয়ে যায় মহাকাল।
সমুদ্র উথলে ওঠে আগুনেরই ঢেউ,
আকাশ খুলে যায় যেন অগ্নিময় নেউ।
সূর্য নেমে আসে নিকট তপ্ত অগ্নির রূপে,
মানুষ কাঁপে ভয়ের ঢেউয়ে দিশাহারা কূপে।
মানুষ বলে—“কি হলো আজ ধরণীরই বুকে?”
উত্তর আসে—“হিসাবের দিন এসেছে সুখে।”
আকাশ ফেটে আলো ঝরে অদৃশ্য রহস্য,
সত্য মিথ্যার সব গল্প হয়ে ওঠে স্পষ্ট।
হাশরের ময়দান**
কবর হতে উঠে আসে মানবগণের দল,
বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখে নিয়তিরই ফল।
নগ্ন পায়ে দাঁড়ায় সবাই হাশরের ময়দানে,
জীবনের সব কর্ম তখন সামনে আনে।
মাতা ভুলে সন্তানকে, সন্তান ভুলে মা,
নিজের কর্ম নিয়েই তখন সবার চিন্তা।
সূর্যের তাপে ঘাম ঝরে নদীর মতো ধারা,
ভয়ের ছায়া ঘিরে রাখে মানবজীবন সারা।
নবীদের শাফাআত**
মানুষ ছুটে নবীদের কাছে মুক্তিরই তরে,
কাঁদতে কাঁদতে মিনতি করে ভয়েরই ঘোরে।
শেষে আসে তারা রহমতের নবীর দ্বারে,
সেজদায় পড়ে উম্মতেরই তরে।
দয়ার দরজা খুলে যায় আকাশেরই পরে,
রহমতের ঢেউ নেমে আসে মানবজীবন ঘিরে।
মিজান (ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লা)**
তখন উঠে ন্যায়ের পাল্লা মহা দরবারে,
সত্য মিথ্যার বিচার হবে আলোরই ইশারায়।
সৎকর্ম যারা করেছিল আলো ভরা মনে,
তাদের পাল্লা ভারী হয় রহমতেরই ক্ষণে।
অন্যায়ের ভার যাদের বুকের মাঝে রয়,
তাদের সামনে খুলে যায় শাস্তিরই ভয়।
কাওসার হাউজ**
তখন দেখা যায় শান্তির এক সুধাময় ধারা,
কাওসারের হাউজ যেন আলোয় ভরা সারা।
সেখানে মুমিন পান করে শান্তিরই জল,
যার স্বাদ মধুর চেয়েও অমৃতের সম্বল।
তৃষ্ণা মেটে হৃদয় ভরে রহমতেরই ছায়া,
দুঃখের সব স্মৃতি তখন মিলিয়ে যায় মায়া।
সীরাত সেতু**
জাহান্নামের উপর দিয়ে সীরাত সেতু যায়,
চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম সে তলোয়ারের ধারায়।
মুমিনেরা পার হয় দ্রুত বিদ্যুতেরই মতো,
কারও গতি বাতাসসম কারও ধীর ক্ষত।
কেউ পড়ে যায় পাপের ভারে আগুনেরই কূলে,
কেউ পৌঁছে যায় জান্নাতের শান্তিরই দুলে।
জান্নাতের স্তরসমূহ**
জান্নাত যেন আলো ভরা অনন্ত সুখধাম,
যেখানে নেই দুঃখ কোনো নেই কষ্টের নাম।
বাগানে বয়ে দুধ মধুর স্নিগ্ধ নদীর স্রোত,
ফুলের সুবাস ভরে থাকে অনন্তেরই রথ।
রেশমি বস্ত্র পরে তারা সোনার প্রাসাদে,
শান্তির গান গায় পাখি জান্নাতেরই বাদে।
স্তর স্তরে সুখের ধারা আলোরই সমুদ্র,
রবের সন্তুষ্টি সেখানে সর্বোচ্চ মুদ্র।
জাহান্নামের স্তরসমূহ**
অন্যদিকে জাহান্নামে আগুনেরই ঢেউ,
অন্যায়ের পথিকরা পড়ে দুঃখেরই নেউ।
স্তর স্তরে ভয়াল অগ্নি শাস্তিরই ঘর,
পাপের ফল সেখানে জাগে কঠিন অন্তর।
আর্তনাদে কেঁপে ওঠে ভয়াল অন্ধকার,
অনুতাপে স্মরণ করে হারানো সেই পার।
চূড়ান্ত সাক্ষাৎ**
হে মানুষ! এ জীবন তাই বৃথা নয় কভু,
শেষে তোমার সাক্ষাৎ হবে মহান প্রভু।
তুমি যে পরিশ্রম করো দুনিয়ারই পথে,
তারই ফল প্রকাশ পাবে আখিরাতের সাথে।
তাই জাগো আজ সত্যপথে ঈমানেরই আলোয়,
রবের সন্তুষ্টি রাখো হৃদয়েরই পালোয়।
কারণ শেষের সেই সাক্ষাৎ অনিবার্য হয়,
মানুষ তার রবের কাছে ফিরবেই নিশ্চয়।
***
মানুষের রবের পথে মহাযাত্রা
দুনিয়ার জীবন**
হে মানুষ! মাটির বুকে ক্ষণিক তোমার বাস,
সময়ের স্রোতে ভাসমান জীবনেরই নিশ্বাস।
মাটির শরীর, আসমানি রূহ, রহস্যময় প্রাণ,
রবের দিকে চলা তোমার নিয়তিরই জ্ঞান।
শৈশব আসে শিশিরভেজা সকালেরই মতো,
নির্মল প্রাণে তখন নেই দুঃখের কোনো ক্ষত।
যৌবন এলে আগুন জ্বলে স্বপ্নভরা প্রাণে,
দুনিয়ার পথে ছুটে মানুষ আশা অগণনে।
কেউ গড়ে নেয় সত্যপথে ন্যায়ের উজ্জ্বল ঘর,
কেউ আবার মিথ্যার পথে হারায় অন্তর।
দিনের পরে রাত নামে সময় নদীর ঢেউ,
মানুষ তবু বুঝতে পারে না নিয়তিরই নেউ।
প্রতিটি শ্বাস লিখে যায় কর্মের ইতিহাস,
রবের দিকে মানুষেরই অবিরাম প্রচেষ্টা।
কর্মের বীজ বুনে সবাই জীবনেরই ক্ষেতে,
ফল তারই ফুটবে পরে আখিরাতের রেতে।
দুনিয়ার সব গৌরব ধন মরীচিকার ছায়া,
শেষে থাকে কর্মফল সত্যেরই মায়া।
যে জাগে ঈমানের আলো সত্যের দীপ্ত তরে,
তার জীবন শান্তি পায় রবেরই ঘরে।
মৃত্যুর দ্বার**
একদিন হঠাৎ থেমে যায় জীবনেরই গান,
মৃত্যুর নীরব ছায়ায় ঢেকে যায় প্রাণ।
চোখের সামনে ভেসে ওঠে অতীত দিনের পথ,
কর্মের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে হৃদয়েরই রথ।
কবরের নীরব বুকে শুয়ে থাকে দেহ,
রূহ অপেক্ষা করে তখন নতুন দিনের সে।
অদৃশ্য সময় বয়ে যায় নিঃশব্দ ধারা,
পুনরুত্থানের ডাক আসে অদেখা সাড়া।
কিয়ামতের সূচনা**
একদিন শিঙ্গা বাজে আকাশ কাঁপিয়ে,
সময়ের সব গোপন কথা জাগে ধ্বনি ছড়িয়ে।
পৃথিবী কাঁপে প্রচণ্ড কম্পে অস্থির ভয়াল,
পাহাড় ভেঙে ধূলি হয়ে যায় মহাকাল।
সমুদ্র উথলে ওঠে অগ্নিময় ঢেউ,
আকাশ খুলে যায় যেন অগ্নির নেউ।
সূর্য নেমে আসে কাছে জ্বলন্ত অগ্নি হয়ে,
মানুষ কাঁপে ভয়াল দৃশ্য দেখিতে চেয়ে।
মানুষ বলে—“কি হলো আজ ধরণীরই বুকে?”
উত্তর আসে—“হিসাবের দিন এসেছে সুখে।”
আকাশ ফেটে ঝরে পড়ে আলোরই ধারা,
সত্য মিথ্যার সব গল্প হয় প্রকাশ সারা।
হাশরের ময়দান**
কবর হতে উঠে আসে মানবগণের দল,
বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখে নিয়তিরই ফল।
নগ্ন পায়ে দাঁড়ায় সবাই হাশরের ময়দানে,
জীবনের সব কর্ম তখন সামনে আনে।
মাতা ভুলে সন্তানকে, সন্তান ভুলে মা,
নিজের কর্ম নিয়েই তখন সবার চিন্তা।
সূর্যের তাপে ঘাম ঝরে নদীর মতো ধারা,
ভয়ের ছায়া ঘিরে রাখে মানবজীবন সারা।
নবীদের শাফাআত*৮
মানুষ ছুটে নবীদের কাছে মুক্তিরই তরে,
কাঁদতে কাঁদতে মিনতি করে ভয়েরই ঘোরে।
শেষে আসে তারা রহমতের নবীর দ্বারে,
সেজদায় পড়ে উম্মতেরই তরে।
দয়ার দরজা খুলে যায় আকাশেরই পরে,
রহমতের ঢেউ নেমে আসে মানবজীবন ঘিরে।
মিজান**
তখন উঠে ন্যায়ের পাল্লা মহা দরবারে,
সত্য মিথ্যার বিচার হবে আলোরই ইশারায়।
সৎকর্ম যারা করেছিল আলো ভরা মনে,
তাদের পাল্লা ভারী হয় রহমতেরই ক্ষণে।
অন্যায়ের ভার যাদের বুকের মাঝে রয়,
তাদের সামনে খুলে যায় শাস্তির ভয়।
কাওসার হাউজ**
সেখানে দেখা যায় শান্তির সুধাধারা,
কাওসারের হাউজ যেন আলোয় ভরা সারা।
মুমিনেরা পান করে সেই অমৃতের জল,
তৃষ্ণা মেটে হৃদয় ভরে সুখের সম্বল।
সীরাত সেতু**
জাহান্নামের উপর দিয়ে সীরাত সেতু যায়,
চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম সে তলোয়ারের ধারায়।
মুমিনেরা পার হয় দ্রুত বিদ্যুতেরই মতো,
কারও গতি বাতাসসম কারও ধীর ক্ষত।
জান্নাত**
জান্নাত যেন আলো ভরা অনন্ত সুখধাম,
যেখানে নেই দুঃখ কোনো নেই কষ্টের নাম।
নদী বয় দুধ মধুর সুবাস ভরা স্রোতে,
ফুলের বনে শান্তি হাসে অনন্তেরই নোটে।
সোনার প্রাসাদ ঝলমল করে নূরেরই আলোয়,
মুমিন হৃদয় হাসে তখন আনন্দের পালোয়।
জাহান্নাম**
অন্যদিকে জাহান্নামে আগুনেরই ঢেউ,
অন্যায়ের পথিকরা পড়ে দুঃখের নেউ।
স্তর স্তরে জ্বলছে আগুন শাস্তিরই ঘর,
পাপের ফল সেখানে জাগে কঠিন অন্তর।
শেষ শিক্ষা**
হে মানুষ! এ জীবন তাই বৃথা নয় কভু,
শেষে তোমার সাক্ষাৎ হবে মহান প্রভু।
তুমি যে পরিশ্রম করো দুনিয়ারই পথে,
তারই ফল প্রকাশ পাবে আখিরাতের সাথে।
তাই জাগো আজ সত্যপথে ঈমানেরই আলোয়,
রবের সন্তুষ্টি রাখো হৃদয়েরই পালোয়।
কারণ শেষের সেই সাক্ষাৎ অনিবার্য হয়,
মানুষ তার রবের কাছে ফিরবেই নিশ্চয়।
***
ইসলামী আখিরাত মহাকাব্য
হাশরের মাঠে মানুষের ঢেউ সীমাহীন ধারা,
ভয়ের ছায়া ঢেকে রাখে মানবজীবন সারা।
সূর্য তখন মাথার উপর আগুন হয়ে রয়,
ঘামের স্রোত নদীর মতো গড়িয়ে পড়ে সয়।
কেউ দাঁড়িয়ে গভীর চিন্তা কর্মেরই স্মরণে,
কেউ কাঁদে আজ পাপের ভারে বুকেরই বেদনায়।
মালিকানা ধন গৌরব সব হারায় সে দিন,
কর্ম ছাড়া সঙ্গী হবে না কিছুই তখন বিন।
আত্মা তখন খুঁজে ফেরে মুক্তিরই দিশা,
কার হৃদয়ে ছিল সত্য, কার অন্তরে তৃষা।
পৃথিবীর সব গোপন কথা খুলে যায় ধীরে,
সত্যের আলো ছড়িয়ে পড়ে সময়েরই নীড়ে।
মিথ্যার প্রাসাদ ভেঙে পড়ে ধূলির মতো ক্ষয়,
সত্যের দীপ জ্বলে ওঠে ন্যায়ের মহা জয়।
মানুষ দেখে জীবনের সব ভুল আর ঠিক,
কর্মের ফল সামনে আসে নীরব মহাশিখ।
কেউ হাসিতে ভরে ওঠে সৎকর্মেরই তরে,
কেউ কাঁদে আজ হারানো সেই সত্যপথের ঘরে।
ন্যায়ের বিচার শুরু হয় মহা দরবারে,
সময়ের সব গোপন কথা প্রকাশ ইশারায়।
মিজানের বিস্তারিত দৃশ্য**
তখন উঠে মিজানের পাল্লা বিশাল আকাশতলে,
কর্মের ভার মাপা হবে ন্যায়ের আলোজ্বলে।
সৎকর্ম যেন মুক্তোর মতো ঝলমল আলোয়,
পাপের ভার অন্ধকারে কাঁপে গভীর কালোয়।
যার পাল্লা ভারী হয় ঈমানেরই ফলে,
তার মুখে ফুটে হাসি শান্তিরই ছলে।
যার পাল্লা হালকা হয় পাপের ভারে আজ,
তার হৃদয়ে কাঁপন জাগে অনুতাপের সাজ।
কেউ দেখে দানের ফুল সুবাস ভরা দিন,
কেউ দেখে অবহেলায় হারানো সেই ঋণ।
ছোট্ট সৎকর্ম আজ পাহাড়সম মান,
ছোট্ট পাপও আগুন হয়ে জ্বালায় প্রাণ।
মানুষ তখন বুঝতে পারে কর্মেরই দাম,
কেন ছিল জীবনের সেই ন্যায়ের আহ্বান।
ন্যায়ের পাল্লা থামে না আর সত্যেরই তরে,
রবের বিচার পূর্ণ হয় অটল নিয়ম ঘরে।
কাওসারের হাউজ**
হাশরের মাঠে দেখা যায় সুধাধারার দেশ,
কাওসারের হাউজ যেন শান্তিরই রেশ।
ঝলমলে সে জলধারা নূরের মতো দীপ,
দেখে মুমিন হৃদয় ভরে আনন্দেরই স্নিগ্ধ।
তৃষ্ণার্ত প্রাণ ছুটে যায় সেই সুধার তরে,
শান্তির জল পান করে সুখের আলো ভরে।
যার স্বাদ মধুর চেয়েও অমৃতেরই ঢেউ,
পান করলে আর কখনো তৃষ্ণা থাকে নেউ।
সেখানে হাসেন দয়ার নবী উম্মতেরই মাঝে,
মমতার দৃষ্টি ছড়িয়ে দেন রহমতেরই সাজে।
সীরাত সেতুর ভয়াল দৃশ্য**
এরপর আসে সীরাত সেতু আগুনেরই উপর,
তলোয়ারের ধার সম সূক্ষ্ম সেই পথ ঘোর।
নিচে জ্বলে জাহান্নামের অগ্নিময় ঢেউ,
উপর দিয়ে পার হতে হয় ভয়েরই নেউ।
মুমিনেরা পার হয় দ্রুত বিদ্যুতেরই মতো,
কারও গতি বাতাসসম কারও ধীর ক্ষত।
কারও পা কাঁপে পাপের ভারে পথেরই মাঝে,
কারও হাতে ঈমানের দীপ আলো হয়ে সাজে।
কেউ পড়ে যায় আগুনের ঢেউয়েরই কূলে,
কেউ পৌঁছে যায় জান্নাতের শান্তিরই দুলে।
জান্নাতে প্রবেশ**
তারপর খুলে যায় জান্নাতের সোনার দ্বার,
আলো ঝরে স্বাগত জানায় মুমিনদের পার।
ফেরেশতা হাসিমুখে বলে—“শান্তি তোমার তরে,”
“ধৈর্যের ফল পেয়েছ আজ জান্নাতেরই ঘরে।”
সবুজ বাগান ফুলে ভরা সুবাসিত বাতাস,
নদীর স্রোত গেয়ে চলে অনন্ত সুখের হাস।
দুধের নদী, মধুর ধারা, স্বচ্ছ স্রোতের ঢেউ,
দেখে মুমিন হৃদয় ভরে বিস্ময়েরই নেউ।
রেশমি বস্ত্র পরে তারা শান্তির আসনে,
সোনার
দুঃখের সব স্মৃতি তখন মিলিয়ে যায় ধীরে,
শান্তির আলো ছড়িয়ে পড়ে জান্নাতেরই নীড়ে।
জান্নাতের বিভিন্ন স্তর**
স্তর স্তরে জান্নাত জ্বলে নূরের মহাসাগর,
প্রতিটি স্তরে সুখের ঢেউ অনন্তেরই ঘর।
কারও স্থান উচ্চতর ধৈর্যেরই ফলে,
কারও স্থান আরো কাছে রহমতেরই ছলে।
শহীদদের মর্যাদা জ্বলে নক্ষত্রের মতো,
সৎকর্মীরা শান্তিতে থাকে আলোরই রথে।
সবাই দেখে সৌন্দর্য রবের সৃষ্টির মাঝে,
চিরশান্তি ভরে ওঠে আনন্দেরই সাজে।
জাহান্নামের স্তরসমূহ**
অন্যদিকে জাহান্নামে অগ্নিরই ঝড়,
অন্যায়ের পথিকরা পড়ে দুঃখেরই ঘর।
স্তর স্তরে আগুন জ্বলে ভয়াল অন্ধকার,
পাপের ফল সেখানে জাগে কঠিন অঙ্গার।
আর্তনাদে কেঁপে ওঠে গভীর সেই স্থান,
অনুতাপে স্মরণ করে হারানো সেই জ্ঞান।
কেউ বলে—“হায়! যদি ফিরতাম দুনিয়ারই পথে,”
“সত্যের আলো ধরতাম হৃদয়েরই সাথে।”
কিন্তু সময় ফিরে আসে না নিয়তিরই ডাকে,
সত্য তখন প্রকাশ পায় অশ্রুরই ফাঁকে।
চূড়ান্ত সাক্ষাতের পূর্ব মুহূর্ত**
মুমিনেরা জান্নাতের বাগানে বসে রয়,
রহমতের আলো ঘিরে শান্তিরই জয়।
তাদের হৃদয় ভরে ওঠে অদ্ভুত প্রশান্তি,
কষ্টের সব দিন যেন স্মৃতিরই কান্তি।
তখন আসে মহাসুখের অদ্বিতীয় ক্ষণ,
রবের সন্তুষ্টি নেমে আসে শান্তিরই গগন।
নূরের আলো ভরে দেয় অনন্তেরই দেশ,
মুমিন প্রাণে জাগে তখন সুখের অশেষ।
তারা বলে—“হে প্রভু! তুমি দয়াময় মহান,”
“তোমার রহমত ছাড়া ছিল না কোন ত্রাণ।”
রবের সন্তুষ্টি তখন সর্বোচ্চ দান,
যা জান্নাতের সুখকেও ছাড়িয়ে মহান।
এভাবেই শেষ হয় না শান্তিরই ধারা,
অনন্ত সুখে থাকে মুমিন চিরকাল সারা।
***
ইসলামী আখিরাত
জান্নাতের বাগানে নেমে শান্তির নীল আলো,
চিরসুখের বাতাস বয় নির্মল স্নিগ্ধ ভালো।
সবুজ ঘাসে শিশির ঝরে মুক্তোর মতো দীপ,
নদীর স্রোত গেয়ে চলে প্রশান্তির সুর নীরব।
মুমিনেরা বসে থাকে রেশমি আসন ঘিরে,
চিরশান্তির হাসি ফুটে আনন্দেরই নীড়ে।
দুঃখের স্মৃতি মুছে যায় সময়েরই ছোঁয়ায়,
হৃদয় ভরে সুখের ঢেউ অনন্তেরই মায়ায়।
বন্ধুর সাথে বন্ধু মিলে হাসির গল্প করে,
দুনিয়ার দিন স্মরণ করে বিস্ময়েরই তরে।
কেউ বলে—“সেই কষ্টের দিন কত দূরে গেল,”
“ধৈর্যের ফল আজ আমাদের জান্নাত এনে দিল।”
মাতা পিতা সন্তান মিলে মিলনেরই ক্ষণ,
চিরশান্তির আলো ঘিরে উজ্জ্বল জীবন।
ফেরেশতারা ঘিরে এসে বলে মধুর বাণী,
“শান্তি তোমাদের উপর আজ অনন্তেরই জানি।”
সোনার প্রাসাদ ঝলমল করে নূরেরই আলোয়,
বাগান ভরা ফুলের হাসি শান্তিরই পালোয়।
নদী বয় দুধ মধুর স্বচ্ছ সুধাধারা,
দেখে মুমিন হৃদয় ভরে আনন্দ সারা।
জান্নাতের চূড়ান্ত শান্তির জীবন**
সেখানে নেই ক্লান্তি কোনো নেই দুঃখের ছায়া,
চিরশান্তি ভরে রাখে অনন্ত সুখমায়া।
মধুর ফল ঝুলে থাকে বাগানেরই ডালে,
যে চায় সেই পায় তা হাসিমুখে কালে।
পাখিরা গান গেয়ে ওঠে প্রশান্তিরই সুরে,
শান্তির নূর ছড়িয়ে পড়ে জান্নাতের নূরে।
রেশমি পোশাক পরে মুমিন হাসে তৃপ্ত,
আনন্দের ঢেউ ভেসে ওঠে হৃদয়ে সুস্পষ্ট।
সবচেয়ে বড় দান তখন নেমে আসে ধীরে,
রবের সন্তুষ্টি ভরে দেয় অনন্তেরই নীড়ে।
মুমিন হৃদয় কেঁপে ওঠে আনন্দ অশ্রুতে,
কারণ এ সুখ ছিল স্বপ্ন দুনিয়ারই পথে।
জাহান্নামের সতর্ক বর্ণনা**
অন্যদিকে জাহান্নামে আগুনেরই ঝড়,
পাপের ভারে ডুবে থাকে অন্ধকার ঘর।
স্তর স্তরে জ্বলছে আগুন শাস্তিরই জ্বালা,
অন্যায়ের ফল সেখানে দুঃখেরই জ্বালা।
আর্তনাদে কেঁপে ওঠে গভীর সেই স্থান,
অনুতাপে কাঁদে তারা হারানো সেই জ্ঞান।
কেউ বলে—“হায়! যদি ফিরতাম সেই দুনিয়ার পথে,”
“সত্যের আলো ধরতাম হৃদয়েরই সাথে।”
কিন্তু সময় ফিরে আসে না নিয়তিরই ডাকে,
সত্য তখন প্রকাশ পায় অশ্রুরই ফাঁকে।
স্মরণ করে তারা তখন হারানো সে দিন,
যখন সত্য পথ ছেড়ে চলেছিল রঙিন।
জাহান্নামের অগ্নিধারা সতর্কতার বাণী,
মানুষ যেন সত্যপথে ফেরে আজই জানি।
আখিরাতের শিক্ষা**
হে মানুষ! এ জীবন শুধু ক্ষণিক পথচলা,
আখিরাতের গন্তব্যে সব পথেরই মেলা।
প্রতিটি কর্ম লেখা থাকে অদৃশ্য খাতায়,
সময়ের শেষে তা ফুটে ওঠে ন্যায়েরই প্রভায়।
ছোট্ট সৎকর্ম পাহাড় হয়ে জ্বলে আলোয়,
ছোট্ট পাপও আগুন হয়ে জ্বালায় কালোয়।
তাই আজই জাগো সত্যপথে ঈমানেরই আলোয়,
রবের সন্তুষ্টি রাখো হৃদয়েরই পালোয়।
ধৈর্যের ফুল বুনে দাও জীবনেরই ক্ষেতে,
তারই ফল ফুটবে পরে আখিরাতের রেতে।
মানুষ তাই ভুলে যেও না জীবনেরই মান,
শেষে রবের সামনে হবে তোমারই সম্মান।
যে রব দিল জীবন তোমায় অসীম করুণায়,
তারই পথে চলা হোক হৃদয়েরই মায়ায়।
দুনিয়ার সব গৌরব ধন ক্ষণিক ধূলি ধরা,
শেষে থাকে কর্ম শুধু সত্যেরই ধারা।
হে মানুষ! তাই জাগো আজ সত্যের দীপ্ত তরে,
রবের
কারণ শেষের সেই সাক্ষাৎ অনিবার্য হয়,
মানুষ তার রবের কাছে ফিরবেই নিশ্চয়।
মহাকাব্যের উপসংহার**
দুনিয়ার পথ শেষ হলে খুলবে সত্য দ্বার,
আখিরাতের আলো জ্বলে অনন্তেরই পার।
সৎকর্ম যারা বুনেছে আলো ভরা মনে,
তারা পাবে শান্তির দেশ চিরকালীন ক্ষণে।
আর যারা ভুলে গেছে ন্যায়ের মহা ডাক,
তাদের সামনে জ্বলবে শুধু অনুতাপের ফাঁক।
তাই আজকের এই জীবন পরীক্ষারই স্থান,
সত্যের পথে চলাই হোক মানুষের জ্ঞান।
ধৈর্য, দয়া, ন্যায়ের পথে গড়ো জীবনের রথ,
সেই পথেই পৌঁছাবে তুমি রবের সান্নিধ্য।
শেষে রবের রহমত ঘিরে নেবে প্রাণ,
এটাই মানুষের যাত্রার চূড়ান্ত সম্মান।
এভাবেই শেষ হয় না শান্তিরই ধারা,
অনন্ত সুখে থাকে মুমিন চিরকাল সারা।
রবের সন্তুষ্টি তখন সর্বোচ্চ দান,
যা জান্নাতের সুখকেও ছাড়িয়ে মহান।
আলোয় ভরা সে জীবন অনন্তেরই পথ,
শান্তির সাগরে ভাসে মুমিনেরই রথ।
হে মানুষ! মনে রেখো জীবনেরই মান,
রবের পথে চলাই সত্য অনন্তের জ্ঞান।
তোমার প্রতিটি শ্বাস সাক্ষী হয়ে রয়,
শেষে রবের সামনে সব প্রকাশ হয়।
এই শিক্ষা হৃদয়ে রাখো দিনের পরে দিন,
সত্যপথে চলাই হোক জীবনের রঙিন।
কারণ এই দুনিয়া শুধু যাত্রারই ঘর,
আখিরাতেই স্থায়ী হবে মানুষের অন্তর।
রবের দয়া সীমাহীন করুণারই ঢেউ,
যে তাঁকে স্মরণ করে সে হারায় না নেউ।
শান্তির আলো জ্বালিয়ে দাও হৃদয়েরই মাঝে,
সত্যের পথে চলা হোক জীবনেরই সাজে।
এই মহাযাত্রা শেষ হয় রবেরই সনে,
মানুষ ফিরে যায় শেষে প্রভুরই গৃহে।
৪
৪ মন্তব্য