Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ মার্চ, ২০২৬ ০৭:১৩ অপরাহ্ণ

দ্বিনের পথে বাধা দেওয়া গর্হিত অপরাধ

আল্লাহর দ্বিনের পথে বাধা দেওয়া অত্যন্ত জঘন্য পাপ। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও, এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরি করা, মসজিদে হারামের পথে বাধা দেওয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদের বহিষ্কার করা আল্লাহর কাছে তার চেয়েও বড় পাপ...। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২১৭)

এ আয়াতে দ্বিনের পথে বাধা দেওয়াকে বড় পাপ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। দ্বিনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এক জঘন্যতম কাজ। এর জন্য পরকালে আছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। মহান আল্লাহ বলেন, তারা তাদের শপথকে ঢাল করে রেখেছে, অতঃপর তারা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা প্রদান করে। অতএব তাদের জন্য আছে অপমানজনক শাস্তি। (সুরা : মুজাদালাহ, আয়াত : ১৬)

দ্বিনের পথে বাধা সৃষ্টি করা শয়তানি কাজ

দ্বিনের পথে বাধা, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা মূলত শয়তানি কাজ। মানবসৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে শয়তান এ কাজ করে আসছে। প্রথম মানব ও প্রথম নবী আদম (আ.) থেকে অদ্যাবধি শয়তানের এ কাজ অব্যাহত আছে। শয়তানের সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষ দ্বিনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, শয়তান তো চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে তোমাদের বিরত রাখতে। অতএব তোমরা এখনো কি নিবৃত্ত হবে?

(সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৯১)

আল্লাহর পথে বাধাদান ইহুদি-নাসারাদের কাজ

আল্লাহর দ্বিনে বাধা দেওয়া ইহুদি-নাসারাদের কাজ। তারা একদিকে নবী-রাসুলদের ধারা অস্বীকার করত, অন্যদিকে কেউ কেউ আল্লাহর দ্বিনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত। মহান আল্লাহ বলেন, বলুন, হে কিতাবধারীরা! কেন তোমরা আল্লাহর পথে ঈমানদারদের বাধা দাও, তোমরা তাদের দ্বিনের মধ্যে বক্রতা অনুপ্রবেশ করানোর পন্থা অনুসন্ধান করো, অথচ তোমরা এ পথের সত্যতা প্রত্যক্ষ করছ। আসলে আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনবগত নন। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৯৯)

দ্বিনের পথে বাধা দান করলে বহু কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হতে হয়

ইহুদিরা আল্লাহর দ্বিনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত। ফলে তাদের জন্য অনেক কল্যাণকর বস্তু হারাম করা হয়, যা আগে তাদের জন্য হালাল ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন, বস্তুত ইহুদিদের জন্য আমি হারাম করে দিয়েছি বহু পূত-পবিত্র বস্তু, যা তাদের জন্য হালাল ছিল, তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহর পথে বেশি পরিমাণে বাধাদানের দরুন। (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৬০)

অনুরূপ এখনো কেউ আল্লাহর দ্বিনে বাধা দিলে সেও কল্যাণকর বহু জিনিস থেকে বঞ্চিত হবে।

দ্বিনের পথে বাধা দিলে পথভ্রষ্ট হয়

দ্বিনের কাজে বাধা দান করা বিভ্রান্তিতে নিপতিত হওয়ার কারণ। ধর্মের কাজে যারা বাধা দেয় তারা পথভ্রষ্ট হয়, সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হয়। মহান আল্লাহ বলেন, যারা কুফরি অবলম্বন করেছে এবং আল্লাহর পথে বাধার সৃষ্টি করেছে, তারা সুদূর বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে।

(সুরা : নিসা, আয়াত : ১৬৭)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, যারা পরকালের চেয়ে পার্থিব জীবনকে পছন্দ করে, আল্লাহর পথে বাধা দান করে এবং তাতে বক্রতা অন্বেষণ করে, তারা পথ ভুলে দূরে পড়ে আছে।

(সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৩)

দ্বিনের পথে বাধাদান ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ

দ্বিনের কাজে বাধা দান করা অমার্জনীয় অপরাধ। এ অপরাধ করে কেউ তাওবা না করলে আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই যারা কাফির এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে, অতঃপর কাফির অবস্থায় মারা যায়, আল্লাহ কখনো তাদের ক্ষমা করবেন না। (সুরা : মুহাম্মাদ, আয়াত : ৩৪)


মন্তব্য করুন

ব্লগ