Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ মার্চ, ২০২৬ ০১:১৫ অপরাহ্ণ

সব জানা অনুভূতি মানুষকে পিছনে টানে

সব জানা অনুভূতি মানুষকে পিছনে টানে!


মানুষের জীবনে শেখার কোনো শেষ নেই। জন্মের পর থেকেই মানুষ শেখা শুরু করে—চলতে শেখা, কথা বলতে শেখা, মানুষকে বুঝতে শেখা, পৃথিবীকে চিনতে শেখা। এই শেখার পথটাই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়, তাকে নতুন করে গড়ে তোলে। কিন্তু একসময় অনেক মানুষ এমন একটা জায়গায় পৌঁছে যায়, যেখানে সে মনে করে“আমি সব শিখে ফেলেছি, আমার আর নতুন কিছু জানার নেই।” 

আর ঠিক সেখান থেকেই তার পতনের শুরু।

এই “সব জানি” ভাবনাটা খুব সূক্ষ্ম এক অহংকার। এটি মানুষকে অদৃশ্যভাবে গ্রাস করে ফেলে। তখন সে নতুন কিছু শুনতে চায় না, অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় না, নিজের ভুল খুঁজে দেখার চেষ্টাও করে না। তার কাছে মনে হয়, সে-ই সব জানে, বাকিরা ভুল। ফলে তার চিন্তার জগৎ ধীরে ধীরে সংকীর্ণ হয়ে যায়।

শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলাটা আসলে জীবনের গতি হারিয়ে ফেলা। কারণ, পৃথিবী প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে,জ্ঞান, প্রযুক্তি, সমাজ, সম্পর্ক—সবকিছুই পরিবর্তনের মধ্যে আছে। যে মানুষ এই পরিবর্তনের সাথে নিজেকে আপডেট রাখতে পারে না, সে সময়ের সাথে পিছিয়ে পড়ে। আর যে শেখা বন্ধ করে দেয়, সে নিজের অজান্তেই নিজের উন্নতির দরজা বন্ধ করে দেয়।

আসলে জ্ঞান যত বাড়ে, ততই বোঝা যায়,কত কিছু এখনো অজানা রয়ে গেছে। সত্যিকারের জ্ঞানী মানুষ কখনোই নিজেকে পরিপূর্ণ মনে করে না। সে সবসময় নতুন কিছু জানার জন্য আগ্রহী থাকে, প্রশ্ন করে, শোনে, বুঝতে চায়। এই বিনয়ই তাকে বড় করে তোলে।

অন্যদিকে, যে মানুষ মনে করে সে সব জানে, তার চিন্তার জগৎ স্থির হয়ে যায়। আর জীবনে স্থিরতা মানেই ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়া। কারণ, যে থেমে যায়, সে আর সামনে এগোয় না বরং সময় তাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যায়।

তাই জীবনে এগিয়ে থাকতে হলে, নিজের ভিতরে সবসময় একজন শিক্ষার্থীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। বয়স, অবস্থান বা অভিজ্ঞতা যাই হোক না কেন, শেখার মানসিকতা কখনো হারানো যাবে না। কারণ, শেখার আগ্রহই মানুষকে জীবন্ত রাখে, তাকে প্রতিনিয়ত নতুন করে গড়ে তোলে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ