সহকারী অধ্যাপক
২৪ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৪৮ অপরাহ্ণ
প্রকম্পনের দিন - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
প্রকম্পনের দিন
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
পৃথিবীর কম্পন, মানুষের আমল প্রকাশ
প্রচণ্ড কম্পনে কাঁপবে ধরণী, ভাঙবে নীরব রাত,
ভীত হৃদয়ে মানুষ শুনবে কেয়ামতের বারত।
পাহাড় দুলে ধূলি হবে, আকাশ স্তব্ধ নীর,
ভয়াল সেই দৃশ্য দেখে কাঁপবে সবার ধীর।
যমীনের বুক ফেটে যাবে গোপন বোঝার ভারে,
যুগের পাপ আর গোপন কথা উঠবে প্রকাশ ধারে।
মানুষ তখন বিস্ময়ে বলে— “কি ঘটিল আজ?”
ধরণী যেন মুখ খুলে দেয় গোপন ইতিহাস।
রবের আদেশ পেয়ে সে দিন বলবে সব সংবাদ,
মানবজীবন যত কর্ম সবই হবে উন্মাদ।
দলে দলে সব মানুষ তখন উঠবে কবর হতে,
বিক্ষিপ্ত পথে চলবে তারা হিসাব দেখার তরে।
কারো মুখে আশার আলো, কারো চোখে ভয়,
নিজের আমল সামনে দেখে কাঁপবে অন্তর সয়।
অণু পরিমাণ সুকর্ম যদি থাকে কারো মাঝে,
দয়াময় রব তা দেখাবেন ন্যায়ের মহা সাজে।
অণু পরিমাণ পাপও তবে লুকাবে না আর,
ন্যায়ের দাঁড়ি স্থির হয়ে দিবে সত্যের ভার।
তাই হে মানুষ জাগো আগে ক্ষণিক জীবনের তরে,
সুকর্মের বীজ বপন করো অন্তর গভীর ঘরে।
কারণ একদিন অবশ্যই সেই বিচার দিবস,
দেখবে সবাই আপন কর্ম— সত্য হবে স্পষ্ট।
***
প্রকম্পনের মহাদিবস
যখন প্রচণ্ড কম্পনে ধরণী কাঁপিবে ভয়াল,
নীরবতার বুক ভেঙে উঠিবে ধ্বনি করাল।
আকাশ স্তব্ধ, পাহাড় দুলে ধূলি হবে ধরা,
ভয়ে মানুষ চেয়ে থাকে কোথায় আশ্রয় ধরা।
সাগর গর্জে উঠিবে যেন ক্রুদ্ধ মহা ঢেউ,
প্রলয়ের সেই দৃশ্য দেখে স্থির থাকিবে কেও?
যমীনের বুক ফেটে যাবে লুকানো ভার নিয়ে,
যুগের যত গোপন কথা উঠিবে প্রকাশ দিয়ে।
মাটির তলে লুকানো যত ইতিহাসের স্তর,
সেদিন তারা সাক্ষী হবে মানুষেরই পর।
বিস্ময়ে মানুষ বলিবে— “কি ঘটিল আজ?”
কেন ধরণী কাঁপছে এমন, কোথা তার লাজ?
ধরণী তখন খুলে দেবে স্মৃতির গোপন দ্বার,
বলে যাবে জীবনের সব গোপন সংবাদ তার।
রবের আদেশ পেয়ে সে দিবে সত্যের বাণী,
মানবজীবন যত কর্ম লুকাবে না আর জানি।
যে পথে চলেছিল মানুষ অন্ধকারের মাঝে,
সবই আজ প্রকাশ হবে বিচারের মহা সাজে।
নীরব মাটি সাক্ষী হবে মানুষেরই পাপ,
সুকর্মের ফুলও ফুটিবে ন্যায়ের অমল চাপ।
কবর ভেঙে মানুষ উঠবে স্তম্ভিত বিস্ময়ে,
যেন ঘুম ভেঙে জেগে ওঠে অচেনা এক প্রভাতে।
দলে দলে তারা ছুটে যাবে অজানা গন্তব্যে,
ভয়ের ছায়া মুখে নিয়ে বিচার দিনের সভ্যে।
কেউ খুঁজিবে মায়ের বুকে আশ্রয়েরই ছায়া,
কেউবা চেয়ে বলিবে— কোথা মুক্তির উপায়?
বন্ধু বন্ধু থেকে দূরে, ভাই হবে অপর,
স্বার্থ ছাড়া কেউ তখন নাহি চিনিবে পর।
মানুষ তখন স্মরণ করে পৃথিবীর দিন,
কেন সে ভুলেছিল রবের দয়ার ঋণ।
কত সুযোগ দিয়েছিলেন করুণাময় প্রভু,
মানুষ তবু ভুলে ছিল অহংকারে সবু।
আজ সে দিন এসেছে যখন সত্য হবে প্রকাশ,
মিথ্যার সব মুখোশ খুলে জাগিবে ন্যায়ের আভাস।
আকাশ ভরা নীরবতা, দৃষ্টি স্তব্ধ ভয়,
হৃদয়ে মানুষের কাঁপন থামিবার নয়।
ফেরেশতারা দাঁড়ায়ে আছে আদেশের অপেক্ষায়,
বিচারের সেই মহামুহূর্ত ঘনিয়ে আসে ধায়।
হাশরের সেই বিশাল মাঠে জমিবে সব জাতি,
ধনী দরিদ্র এক সারিতে মুছিবে গৌরবগাথা।
রাজা আর ভিখারি সেথা একই পথে দাঁড়ায়,
ক্ষমতার সব অহংকার মাটির সাথে যায়।
খুলে যাবে আমলনামা কর্মের ইতিহাস,
জীবনের প্রতিটি ক্ষণ হবে তখন প্রকাশ।
হাত কাঁপে মানুষের, চোখে জাগে ভয়,
কর্মের ভারে কারো মুখে শান্তি নাহি রয়।
কেউ দেখিবে সুকর্ম তার আলো হয়ে জ্বলে,
কারো পাপের অন্ধকার হৃদয় ভেঙে চলে।
অণু পরিমাণ সুকর্মও হারাবে না কভু,
ন্যায়ের পাল্লায় তুলিবেন সর্বজ্ঞ প্রভু।
অণু পরিমাণ পাপও তবে লুকাবে না আর,
ন্যায়ের দাঁড়ি বলিবে সেদিন সত্যের ভার।
কেউ হাসিবে শান্ত মনে রবের দয়া পেয়ে,
কেউ কাঁদিবে পাপের বোঝা হৃদয়ে বয়ে নিয়ে।
মানুষ তখন বুঝিবে জীবনের সব মান,
কেন সে ভুলেছিল রবের বিধান।
কত কথা ছিল বলা হৃদয়ের গভীরে,
তবু কেন ডুবেছিল পাপের অন্ধ নীড়ে।
পৃথিবীর ক্ষণিক সুখ ছিল মায়ার ছায়া,
আজ তার সব গৌরব মুছে যায় নিরুপায়।
অহংকারের প্রাসাদ ভেঙে ধূলি হয়ে যায়,
ক্ষমতার সব গর্ব মুছে নীরবতায়।
ধরণী তখন সাক্ষী হয়ে বলিবে মানুষের কাহন,
কোথায় ছিল সত্য পথ, কোথায় ছিল পাপের গহন।
রবের ন্যায় বিচারে নেই কোনো অবিচার,
ক্ষুদ্রতম কাজও হবে স্পষ্ট উদ্ঘাটন তার।
সুকর্ম যেন আলো হয়ে পথ দেখাবে তরে,
পাপের ছায়া টেনে নেবে অন্ধকার ঘরে।
মানুষ তখন কাঁদিবে মনে স্মরণ করে কাল,
কেন সে হারিয়েছিল সত্যের পথের দিশাল।
রবের দয়া চাইবে সে অশ্রু ভেজা নয়নে,
ক্ষমার আলো জ্বলবে কি তার জীবনের কোণে?
কিন্তু বিচার দিবসে সত্য কঠোর স্থির,
ন্যায়ের পাল্লা কখনো হয় না অধীর।
যে করেছে সুকর্ম তার পথ হবে উজ্জ্বল,
দয়ার আলো জ্বলবে তার হৃদয়ে অনল।
যে করেছে পাপ কাজ অন্ধকারে ডুবে,
ভয়ের ছায়া ঘিরে ধরবে অন্তরের কূলে।
তাই হে মানুষ স্মরণ করো জীবনের প্রতিক্ষণ,
পৃথিবীর দিন ক্ষণিক— পরকাল চিরজন।
সুকর্মের বীজ বপন করো হৃদয়ের মাটিতে,
ন্যায়ের আলো ফুটবে তাতে প্রভুর রহমতে।
পাপের পথ ছেড়ে দাও অন্ধকারের ডোর,
সত্যের পথে চললে খুলবে মুক্তির ঘোর।
কারণ একদিন আসিবে সেই ভয়াল সময়,
যখন লুকানো কিছুই গোপন থাকিবে নয়।
ধরণী নিজেই বলিবে মানুষের কাহিনী,
কর্মের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়াবে যুগের ধরণী।
তখন আর অজুহাতের স্থান থাকিবে না,
সত্যের সামনে মিথ্যার কোনো শক্তি রইবে না।
ন্যায়ের সেই দিবস হবে সত্যের উদয়,
রবের প্রজ্ঞায় তখন খুলিবে সব ভয়।
মানুষ তখন বুঝিবে জীবনের মূল্য কত,
কেন সে হারিয়েছিল সত্যের পথ।
স্মরণ করো আজই তাই রবের বাণী,
সত্য পথে চলাই মানুষের প্রাণী।
কারণ কিয়ামতের দিন নিকটেই আসে,
অবহেলা করে কেহ রক্ষা পাবে নাকো পাশে।
অণু পরিমাণ ভাল কিংবা মন্দ কাজ যত,
সবই দেখিবে মানুষ— সত্য হবে তত।
***
কিয়ামতের মহাদিবস
প্রচণ্ড কম্পনে কাঁপিবে ধরণী, ভাঙিবে নীরব রাত,
ভীত হৃদয়ে মানুষ শুনিবে কেয়ামতেরই বারাত।
পাহাড় দুলে ধূলি হবে, আকাশ স্তব্ধ হয়,
ভয়াল সেই দৃশ্য দেখে কাঁপিবে মানবময়।
সাগর গর্জে উঠিবে তখন প্রলয়েরই ঢেউ,
পৃথিবীর বুক থরথর কাঁপে— স্থির থাকিবে কেও?
যমীনের বুক ফেটে যাবে যুগের ভার নিয়ে,
লুকানো যত ইতিহাস উঠিবে প্রকাশ দিয়ে।
মানুষ তখন বিস্ময়ে বলে— “কি ঘটিল আজ?”
কেন ধরণী কাঁপে এমন ভাঙে নীরব লাজ।
ধরণী তখন মুখ খুলে দেয় গোপন কথা সব,
রবের আদেশে প্রকাশ করে মানুষেরই রব।
যা কিছু ছিল গোপন পথে অন্ধকারের ঘোরে,
সবই তখন জেগে ওঠে বিচারেরই তোরে।
নীরব মাটি সাক্ষী হবে মানুষেরই কাজ,
সুকর্মের ফুল ফুটিবে ন্যায়ের মহা সাজ।
হঠাৎ ভাঙে কবরের ঘুম অচেনা এক প্রভাতে,
মানুষ উঠে বিস্ময়ে চেয়ে নতুন সেই প্রাতে।
দলে দলে সব মানুষ ওঠে কবরেরই তল,
বিচার দিনের ডাক শুনে স্তম্ভিত সকল।
কেউ খোঁজে মায়ের আশ্রয়, কেউ খোঁজে পিতার হাত,
ভয়ে কাঁপে মানুষের প্রাণ, অশ্রু ভেজে রাত।
বন্ধু বন্ধু থেকে দূরে, ভাই হবে অপর,
স্বার্থ ছাড়া কেউ তখন চিনিবে না পর।
মানুষ তখন স্মরণ করে পৃথিবীর দিন,
কেন সে ভুলেছিল রবের দেওয়া ঋণ।
কত সুযোগ দিয়েছিলেন করুণাময় প্রভু,
মানুষ তবু ভুলে ছিল অহংকারে সবু।
আজ সেই দিন এসেছে যখন সত্য হয় প্রকাশ,
মিথ্যার সব মুখোশ খুলে জাগে ন্যায়ের আভাস।
ফেরেশতারা সারি বেঁধে দাঁড়ায় আদেশ পেয়ে,
বিচারের সেই মহামুহূর্ত কাছে আসে ধেয়ে।
হাশরের সেই বিশাল মাঠে জমিবে সব জাতি,
ধনী দরিদ্র একই সারি— মুছিবে গৌরবগাথা।
রাজা আর ভিখারি সেথা এক কাতারে দাঁড়ায়,
ক্ষমতার সব অহংকার মাটির সাথে যায়।
খুলে যাবে আমলনামা কর্মের ইতিহাস,
জীবনের প্রতিটি ক্ষণ হবে তখন প্রকাশ।
কাঁপে মানুষের হাত তখন, দৃষ্টি স্তব্ধ ভয়,
নিজের কাজের ভারে হৃদয় স্থির নয়।
কেউ দেখিবে সুকর্ম তার আলো হয়ে জ্বলে,
কারো পাপের অন্ধকার হৃদয় ভেঙে চলে।
অণু পরিমাণ সুকর্মও হারাবে না কভু,
ন্যায়ের পাল্লায় তুলিবেন সর্বজ্ঞ প্রভু।
অণু পরিমাণ পাপও তবে লুকাবে না আর,
ন্যায়ের দাঁড়ি দিবে সেদিন সত্যেরই ভার।
কেউ হাসিবে শান্ত মনে রবের দয়া পেয়ে,
কেউ কাঁদিবে পাপের বোঝা হৃদয়ে বয়ে নিয়ে।
মানুষ তখন বুঝিবে জীবনের সব মান,
কেন সে ভুলেছিল রবের বিধান।
অহংকারের প্রাসাদ ভেঙে ধূলি হয়ে যায়,
ক্ষমতার সব গৌরব মুছে নীরবতায়।
তখন স্থাপিত হবে ন্যায়ের মহা মিজান,
সেখানে ওজন হবে মানুষেরই প্রাণ।
সুকর্ম যদি ভারী হয় পাল্লা উঠিবে জয়,
পাপের ভারে নত হলে হৃদয় ভাঙিবে ভয়।
সত্যের দাঁড়ি কভু হয় না পক্ষপাতী,
সকল বিচার সেখানে নির্ভুল ন্যায্যগাথা।
যে করেছে দয়া, ন্যায় আর সত্যের পথ,
তারই জন্য খুলিবে জান্নাতের রথ।
আর যে ডুবেছিল পাপে অন্ধকারের ঘোরে,
তারই সামনে জাহান্নামের আগুন জ্বলে তোরে।
মানুষ তখন কাঁদিবে মনে স্মরণ করে কাল,
কেন সে হারিয়েছিল সত্যের পথের দিশাল।
কত সময় নষ্ট হলো মায়ার মিথ্যা টানে,
আজ সব কথা ফিরে আসে হৃদয়ের গানে।
ফেরেশতা তখন ডাকে হিসাবেরই তরে,
মানুষ দাঁড়ায় কাঁপা মনে ন্যায়ের সেই দ্বারে।
খুলে যায় আমলনামা জীবনের পাতা,
পড়ে মানুষ দেখে তাতে নিজেরই গাথা।
কেউ বলে— “হায়! কেন লিখিল এ পাপের সারি?”
কেউ হাসে— “রব দয়াময় করেছেন আমারে ভারি।”
মানুষ তখন বুঝে যায় সময়ের মূল্য,
জীবনের প্রতিটি ক্ষণ ছিল কত মূল্য।
এরপর আসে সেতু এক সূক্ষ্ম ধারালো,
সিরাত নামে পথটি কঠিন ভয়াল কালো।
সে সেতুর নিচে জ্বলে জাহান্নামের আগুন,
ভয়ে কাঁপে মানুষের প্রাণ, থামে না ধ্বনি গুণ।
সুকর্ম যার দীপের মত পথ দেখাবে তায়,
অন্ধকারে পাপী মানুষ হোঁচট খেয়ে যায়।
কেউ পেরোয় দ্রুত যেন বিদ্যুতেরই রেখা,
কেউবা পড়ে অন্ধকারে পাপের ভারে একা।
যারা ছিল সত্যপথে রবের বিধান মানি,
তাদের জন্য খুলে যায় জান্নাতেরই বাণী।
সবুজ বাগান, শান্ত নদী, চির সুখের দেশ,
দুঃখহীন সে ভূমিতে নেই কোনো অবশেষ।
পাখির সুরে ভরে ওঠে জান্নাতের আকাশ,
রবের দয়া সেখানে দেয় শান্তির আভাস।
আর জাহান্নামের আগুন জ্বলে ভীষণ তাপ,
পাপের ফল সেখানে দেয় দহনরূপ শাপ।
মানুষ তখন বুঝে নেয় কর্মেরই ফল,
জীবনের প্রতিটি কাজ ছিল কত মূল্য।
তাই হে মানুষ স্মরণ করো জীবনের প্রতিক্ষণ,
পৃথিবীর দিন ক্ষণিক— পরকাল চিরজন।
সুকর্মের বীজ বপন করো হৃদয়ের মাটিতে,
ন্যায়ের আলো ফুটবে তাতে প্রভুর রহমতে।
পাপের পথ ছেড়ে দাও অন্ধকারের ডোর,
সত্যের পথে চললে খুলবে মুক্তির ঘোর।
কারণ একদিন আসিবে সেই ভয়াল সময়,
যখন লুকানো কিছুই গোপন থাকার নয়।
৪
৪ মন্তব্য