Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ মার্চ, ২০২৬ ০৭:৪৬ অপরাহ্ণ

পৃথিবীতে সূর্যের আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৮ মিনিট



পৃথিবীতে আলো আসার প্রক্রিয়াটি পদার্থবিজ্ঞানের কয়েকটি চমৎকার বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ঘটে। এর বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:

১. দূরত্বের খেলা (The Distance)

পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একদম গোল নয়, বরং ডিম্বাকৃতি (elliptical) পথে ঘোরে। তাই বছরের নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবী সূর্যের একটু কাছে থাকে, আবার কখনো দূরে। ফলে আলো পৌঁছাতে কখনও ৮ মিনিট ১০ সেকেন্ড, আবার কখনও ৮ মিনিট ২৭ সেকেন্ড পর্যন্ত সময় নিতে পারে।

পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যবর্তী গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার (বা ৯৩ মিলিয়ন মাইল)। এই দূরত্বকে বিজ্ঞানের ভাষায় ১ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (AU) বলা হয়। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে উপবৃত্তাকার পথে ঘোরে বলে এই দূরত্ব সবসময় এক থাকে না: 

অনুসূর (Perihelion): যখন পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে (প্রায় ১৪.৭ কোটি কিমি), তখন আলো আসতে প্রায় ৮ মিনিট ১০ সেকেন্ড লাগে।

অপসূর (Aphelion): যখন সবচেয়ে দূরে থাকে (প্রায় ১৫.২ কোটি কিমি), তখন সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২৭ সেকেন্ড। 

২. আলোর গতিবেগ (Speed of Light) ও অংক: মহাশূন্যে আলোর গতি সেকেন্ডে প্রায় ২,৯৯,৭৯২ কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। এই দূরত্বকে আলোর গতি দিয়ে ভাগ করলে আমরা পাই প্রায় ৫০০ সেকেন্ড, যা মিনিটে রূপান্তর করলে দাঁড়ায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড।

মহাশূন্যের শূন্যস্থানে (Vacuum) আলোর গতি সেকেন্ডে প্রায় ২,৯৯,৭৯২ কিলোমিটার (সহজ হিসেবে ৩,০০,০০০ কিমি)। যেহেতু মহাবিশ্বের কোনো কিছুই আলোর চেয়ে দ্রুত চলতে পারে না, তাই সূর্য থেকে পৃথিবীতে তথ্য বা আলো পৌঁছাতে এই নির্দিষ্ট সময়টুকু লাগেই।

৩.ফোটনের 'র‍্যান্ডম ওয়াক' (Random Walk)

সূর্যের কেন্দ্রে নিউক্লিয়ার ফিউশনের মাধ্যমে যে আলোর কণা (ফোটন) তৈরি হয়, তা কিন্তু সাথে সাথে বেরিয়ে আসতে পারে না। সূর্যের ভেতরের ঘনত্ব এত বেশি যে, ফোটনগুলো পরমাণুর সাথে ধাক্কা খেতে খেতে আঁকাবাঁকা পথে এগোতে থাকে। সূর্যের কেন্দ্র থেকে পৃষ্ঠতলে আসতে একটি ফোটনের ১০,০০০ থেকে ১,৭০,০০০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। একবার পৃষ্ঠতল থেকে মুক্তি পেলে তা মাত্র ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ডে আমাদের কাছে পৌঁছায়। মজার ব্যাপার হলো, আমরা যে আলোটি দেখছি সেটি সূর্যের পৃষ্ঠ (Photosphere) থেকে আমাদের কাছে আসতে মাত্র ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড নিচ্ছে। কিন্তু এই আলোর কণা বা 'ফোটন' সূর্যের কেন্দ্রে তৈরি হওয়ার পর ঘন গ্যাসের বাধায় ধাক্কা খেতে খেতে পৃষ্ঠে উঠে আসতে ১০,০০০ থেকে ১,৭০,০০০ বছর পর্যন্ত সময় নিয়ে থাকে। অর্থাৎ আপনি এখন যে আলোটি দেখছেন, সেটি আসলে কয়েক হাজার বছর আগে সূর্যের গভীরে তৈরি হয়েছিল।

৪. আমরা কি বর্তমান দেখি?

দৃশ্যমান অতীত: এর মানে হলো, আমরা যখন আকাশের দিকে তাকাই, আমরা আসলে সূর্যকে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড আগের অবস্থায় দেখি। যদি এই মুহূর্তে সূর্য হঠাৎ নিভে যায়, আমরা পৃথিবীতে বসে তা জানতে আরও ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড সময় পাব।

সহজ উত্তর হলো—না। আমরা যখনই সূর্যের দিকে তাকাই (সরাসরি তাকানো উচিত নয়), আমরা সূর্যকে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড আগের অবস্থায় দেখি। যদি সূর্য এই মুহূর্তে গায়েব হয়ে যায়, তবে আমরা আরও ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত সূর্যের আলো এবং মহাকর্ষ বল অনুভব করব।

মন্তব্য করুন

ব্লগ