সিনিয়র শিক্ষক
২১ মার্চ, ২০২৬ ০৫:৩০ অপরাহ্ণ
প্রাচীন বাংলা ও মুসলিম শাসনামলে উদযাপিত ঈদ
★★★প্রাচীন বাংলায় ঈদ:
বখতিয়ার খিলজির বাংলা আগমনের আগে থেকে এই অঞ্চলের মানুষ ইসলামের সঙ্গে পরিচিত ছিল। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে আরব বণিকদের যাতায়াত ছিল। তাদের মাধ্যমে ইসলামের নীতি, আদর্শ ও বিধিবিধান ইত্যাদির সঙ্গে বাংলার মানুষের সখ্যতা গড়ে উঠেছিল। ইসলামকে ঘিরে এই অঞ্চলে একটি জনসমাজ গড়ে উঠেছিল। সমাজের প্রয়োজনে এবং ধর্মীয় আচার হিসেবে এ দেশে বিভিন্ন উৎসবের বিস্তার ঘটেছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।
ইসলামের গোড়াপত্তনের সঙ্গে সঙ্গেই এই অঞ্চলে ঈদ উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতার সূচনা ঘটেছিল। ইতিহাসের বিভিন্ন গ্রন্থে বিচ্ছিন্নভাবে বাংলা অঞ্চলে ঈদ উদযাপনের আলোচনা স্থান পেয়েছে।
★★★মুসলিম শাসনামলে ঈদ:
বাংলা অঞ্চলে ঈদ উদযাপনের মধ্যে বিভিন্ন অনুষঙ্গ থাকত। নানা ধরনের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হতো। আকাশে ঈদের নতুন চাঁদ উদিত হলে চারদিকে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ত। বিভিন্ন দিক থেকে রাজকীয় সাইরেন বেজে উঠত। সৈনিকরা ঈদের ঘোষণা দিয়ে তোপধ্বনি তুলত। এরপর শোনা যেত ভারী কামানের আওয়াজ।
মোঘল সেনাপতি আলাউদ্দিন ইসফাহান– তিনি বাংলা অঞ্চলে ঈদ উদযাপনের বিবরণ দিয়ে বাহারিস্তান-ই-গায়েবি গ্রন্থে লেখেন, ‘দিনের শেষে সন্ধ্যা সমাগমে নতুন চাঁদ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিবিরে রাজকীয় বাজনা বেজে উঠত এবং আগ্নেয়াস্ত্র ক্রমাগত অগ্নি উদগিরণ করে চলত ।
ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের মনে থাকত আনন্দের আমেজ। ঈদের দিন সকালবেলা ছোট-বড় সবাই নিজেদের সাধ্যমতো পরিচ্ছন্ন অন্যতম পোশাক পরিধান করত। দলবেঁধে সবাই ঈদগাহে গমন করত। ঈদগাহে যাওয়ার সময় অবস্থাসম্পন্ন ও ধনী শ্রেণির ব্যক্তিরা টাকা-পয়সা ও উপহার সামগ্রী দান করত। শরিয়ত নির্ধারিত ফেতরার চেয়েও তাদের দানের পরিমাণ অধিক হতো। ঈদগাহে যাওয়ার সময় সাধারণ মুসলমানরাও ফেতরা আদায় করে দিত। বড় জামাতে মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায় করত। নামাজ শেষে একজন অন্যজনের সঙ্গে মুসাফাহা মুয়ানাকা করত।
বাংলা অঞ্চলে ঈদ উদযাপন প্রসঙ্গে ‘নওবাহার-ই-মুর্শিদকুলী খান’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে- ‘নবাব সুজাউদ্দিনের অধীনে ঢাকার সহকারী শাসনকর্তা ‘ঈদগাহ’ ময়দানের দিকে শোভাযাত্রা করে যাওয়ার সময় দুর্গ থেকে এক ক্রোশপথে প্রচুর পরিমাণে টাকা-পয়সা ছড়িয়ে যেতেন। আনন্দ-আবেগে একে অন্যকে উৎসাহের সঙ্গে অভিবাদন জানাত।’ নতুন সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করা হলো ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ। ঈদের আমেজকে বাড়িয়ে তুলতে নতুন কাপড় পরিধান করার প্রচলন মুসলিম শাসনাধীন বাংলাতেও ছিল। ঈদের দিন মুসলিম নারী-পুরুষ ছেলেমেয়ে সবাই সুন্দর পোশাক পরিধান করত। ঈদকে কেন্দ্র করে ঈদগাহের আশপাশে বিভিন্ন মেলার আয়োজন করা হতো। হাজার হাজার লোকের সমাগম হতো সেসব মেলায়। সেখানে থাকত খাওয়া-দাওয়ার অপূর্ব সব আয়োজন।
৪
৪ মন্তব্য