Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ মার্চ, ২০২৬ ০৮:০২ অপরাহ্ণ

পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার বা জুমাতুল বিদা

পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার বা জুমাতুল বিদা ইসলামি সংস্কৃতিতে অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি দিন। এটি রমজানের বিদায়ী মুহূর্তের একটি স্মারক হিসেবে কাজ করে। 
নিচে জুমাতুল বিদার বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরা হলো:
১. শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ
শাব্দিক অর্থ: ‘জুমুআ’ একটি আরবি শব্দ যার অর্থ সম্মেলন বা একত্রিত হওয়া (শুক্রবার), এবং ‘বিদা’ অর্থ বিদায় জানানো। অর্থাৎ রমজানের বিদায়ী শুক্রবারই হলো জুমাতুল বিদা।
পরিভাষা: ইসলামি শরিয়তে জুমাতুল বিদা নামে আলাদা কোনো বিশেষ ইবাদত বা পরিভাষা কুরআন-হাদিসে সরাসরি নেই। তবে মাহে রমজান এবং সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন শুক্রবার—এই দুইয়ের সমন্বয়ে দিনটি মুসল্লিদের কাছে অত্যন্ত মহিমাময় হয়ে ওঠে। 
২. গুরুত্ব ও তাৎপর্য
তওবা ও আত্মশুদ্ধি: রমজানের শেষ জুমায় মুসল্লিরা নিজেদের বিগত দিনের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
রহমত ও বরকত: হাদিস অনুযায়ী জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত থাকে যখন দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। রমজানের শেষ শুক্রবার হওয়ায় এই দিনে দোয়া কবুলের আশা মুমিনদের মধ্যে বেশি থাকে।
রমজানকে বিদায়: এই দিনের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মাহে রমজানকে এক বছরের জন্য বিদায় সম্ভাষণ জানান। এটি রোজাদারের জন্য একটি আবেগঘন মুহূর্ত। 
৩. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ইসলামের ইতিহাসে মদিনায় হিজরতের পর প্রথম জুমা আদায়ের মাধ্যমেই এর আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।
যদিও ‘জুমাতুল বিদা’ পালনের কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশ নেই, তবুও রমজানের শেষ শুক্রবার হিসেবে এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সহমর্মিতার প্রতীক হিসেবে প্রচলিত হয়েছে। 
৪. জুমাতুল বিদার বিশেষ আমল
রমজানের অন্যান্য জুমার মতো এই দিনেও কিছু সুন্নতি আমল পালন করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ: 

পরিচ্ছন্নতা: জুমার দিন সকালে ভালো করে গোসল করা এবং সুগন্ধি ও পরিষ্কার পোশাক পরা।
আগে মসজিদে যাওয়া: জুমার আজানের পর দেরি না করে দ্রুত মসজিদে যাওয়া এবং ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা।
বেশি বেশি দরূদ পাঠ: জুমার দিনে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা উত্তম।
দান-সদকা: গরিব-দুঃখীদের সহায়তা করা এবং রমজানের ভুলত্রুটির জন্য তওবা করা।
মোনাজাত: জুমার নামাজের পর দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেওয়া। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ