Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ মার্চ, ২০২৬ ০১:৩৮ অপরাহ্ণ

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫, নিয়ে আসন্ন সাবক্লাস্টার ২০২৬

🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁


---


প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬: একটি সম্পূর্ণ নির্দেশিকা (সাব-ক্লাস্টার উপস্থাপনের জন্য)


ভূমিকা

প্রিয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ,

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় "প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬" জারি করেছে 。 এই নতুন নীতিমালা ২০২৫ সাল থেকেই কার্যকর হয়েছে এবং এর আগের সকল নীতিমালা প্রতিস্থাপন করেছে 。 আগামী সাব-ক্লাস্টারগুলোতে এই নীতিমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তাই সহকর্মীদের এবং শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে গাইড করার জন্য আমরা এই ব্লগে নীতিমালাটির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সহজভাবে তুলে ধরছি।


১। কারা অংশগ্রহণ করতে পারবে?


· শ্রেণি: শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে 。

· যোগ্যতা: চতুর্থ শ্রেণির সামষ্টিক মূল্যায়নের (বার্ষিক পরীক্ষা) ফলাফলের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৪০% শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে ।

· বাধ্যবাধকতা: সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোকেও এনসিটিবি-র পাঠ্যক্রম অনুসরণ করতে হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনলাইন সিস্টেমে সক্রিয় থাকতে হবে ।


২। পরীক্ষার বিষয়, নম্বর ও সময়


২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষা মোট ৪০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য সময় বরাদ্দ থাকবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট 。 বিষয় ও নম্বর বণ্টন নিচের ছকে দেখানো হলো:


বিষয় মোট নম্বর সময়

বাংলা ১০০ ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট

ইংরেজি ১০০ ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট

প্রাথমিক গণিত ১০০ ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় + প্রাথমিক বিজ্ঞান (সমন্বিত) ১০০ (৫০+৫০) ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট

মোট ৪০০ 


মনে রাখবেন:


· বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবেন 。

· বৃত্তি পাওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০% নম্বর পেতে হবে 。


৩। বৃত্তির ধরন ও নির্বাচন পদ্ধতি


· বৃত্তির ধরন: শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে দুই ধরনের বৃত্তি দেওয়া হবে: ট্যালেন্টপুল এবং সাধারণ 。

· লিঙ্গ কোটা: উভয় ক্ষেত্রেই মোট বৃত্তির ৫০% ছাত্র এবং ৫০% ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে ।

· বিদ্যালয় কোটা: মোট বৃত্তির ৮০% পাবেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং বাকি ২০% পাবেন বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ।

· নির্বাচন পদ্ধতি:

  · ট্যালেন্টপুল বৃত্তি: উপজেলা বা থানা ভিত্তিতে মেধা ক্রমানুসারে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে 。

  · সাধারণ বৃত্তি: সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডকে একটি ইউনিট ধরা হয়েছে। প্রতি ইউনিটে ৫টি করে সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হবে, যার মধ্যে ২ জন ছাত্র, ২ জন ছাত্রী এবং ১ জন মেধা কোটায় (ছেলে/মেয়ে) বৃত্তি পাবে 。


৪। প্রশাসনিক কাঠামো ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা


· পরীক্ষা পরিচালনা: পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় কমিটির উপদেষ্টা থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এবং সভাপতি থাকবেন সচিব। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যথাক্রমে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কমিটির নেতৃত্ব দেবেন ।

· অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম বা অবহেলার জন্য জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে 。

· অর্থায়ন: পরীক্ষা ফি জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি নির্ধারণ করবে এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেবে ।


৫। করণীয় প্রস্তুতি (শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য)


· পাঠ্যবইই মূল ভিত্তি: নতুন নীতিমালায় সৃজনশীল ও যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নের ওপর জোর দেওয়া হবে। তাই গাইড বইয়ের ওপর ভরসা না করে পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি শব্দ ও অনুশীলনী ভালোভাবে বুঝে পড়তে হবে ।

· লিখতে অভ্যস্ত হওয়া: বহুনির্বাচনী প্রশ্নের পাশাপাশি বর্ণনামূলক ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের চর্চা করতে হবে। পরিষ্কার হস্তাক্ষরে ও পরিচ্ছন্নভাবে উত্তর লিখতে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি ।

· সময় ব্যবস্থাপনা: ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটে কীভাবে সব প্রশ্নের উত্তর শেষ করতে হবে, তার জন্য নিয়মিত টেস্ট পেপার বা বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করার অভ্যাস করা উচিত ।


উপসংহার

"প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬" শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন এবং তাদেরকে উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ 。 এই নীতিমালা সম্পর্কে আমাদের সকলের স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি, যাতে আমরা শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারি। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই পরীক্ষাকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে সম্পন্ন করতে একযোগে কাজ করি।


ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ