প্রভাষক
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
মজুত পণ্যের হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি (Accounting For Inventory)
মজুদ পণ্যের সংজ্ঞা: মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যে সকল পণ্য বা সেবা উৎপাদন, ক্রয়, বা বিক্রয়ের জন্য রাখা হয়, সেগুলোকে মজুদ পণ্য (Inventory) বলা হয়। একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য মজুদ পণ্যের মধ্যে কাঁচামাল, প্রক্রিয়াধীন কাজ এবং তৈরি পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। আর একটি ক্রয়-বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা পণ্যসমূহ মজুদ পণ্য হিসেবে গণ্য হয়।
মজুদ পণ্য হিসাবপদ্ধতিসমূহ: মজুদ পণ্যের হিসাব সংরক্ষণের জন্য সাধারণত দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়:
১. নিয়মিত বা কালান্তিক মজুদ হিসাব পদ্ধতি (Periodic Inventory System):
এই পদ্ধতিতে, আর্থিক বছরের শেষে অথবা নির্দিষ্ট সময় পর দৈহিক গণনার মাধ্যমে সমাপনী মজুদের মূল্য ও পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। পণ্যের ক্রয়কে 'ক্রয়' (Purchases) হিসাবে ডেবিট করা হয়।
২. অবিরত বা নিত্য মজুদ হিসাব পদ্ধতি (Perpetual Inventory System):
এই পদ্ধতিতে প্রতিটি ক্রয়-বিক্রয়ের পরই মজুদের পরিমাণ ও মূল্য তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ করা হয়।
পণ্যের ক্রয়কে 'মজুদ' (Inventory) হিসাবে ডেবিট করা হয়। এই পদ্ধতিতে প্রতিটি লেনদেনের পরই মজুদের পরিমাণ ও মূল্য জানা যায় এবং বিক্রিত পণ্যের ব্যয়ও তাৎক্ষণিকভাবে নির্ণয় করা যায়।
পদ্ধতিসমূহের সুবিধা ও অসুবিধা
|
পদ্ধতি |
সুবিধা |
অসুবিধা |
|
নিয়মিত/কালান্তিক |
১. প্রয়োগ তুলনামূলকভাবে সহজ। ২. কম ব্যয়বহুল, বিশেষত ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য। |
১. নির্দিষ্ট সময় অন্তর দৈহিক গণনা ছাড়া মজুদের পরিমাণ জানা যায় না। ২. মজুদ ঘাটতি বা চুরি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায় না। ৩. বিক্রিত পণ্যের ব্যয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায় না। |
|
অবিরত/নিত্য |
১. যেকোনো মুহূর্তে মজুদের পরিমাণ ও মূল্য জানা যায়। ২. মজুদ ঘাটতি বা চুরি তাৎক্ষণিক ধরা সম্ভব। ৩. ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে (যেমন, কোন পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে)। ৪. বিক্রিত পণ্যের ব্যয় তাৎক্ষণিকভাবে নির্ণয় করা যায়। |
১. প্রয়োগ তুলনামূলকভাবে জটিল ও ব্যয়বহুল। ২. প্রচুর লেনদেন থাকলে হিসাবরক্ষণ কঠিন হতে পারে (তবে কম্পিউটারাইজড সিস্টেমে সুবিধা হয়)। |
কোন পদ্ধতি কখন প্রয়োগ করা হয়?
নিয়মিত/কালান্তিক মজুদ হিসাব পদ্ধতি: সাধারণত যে সকল প্রতিষ্ঠানের মজুদের মূল্য কম এবং লেনদেনের সংখ্যা বেশি (যেমন: মুদির দোকান, হার্ডওয়্যারের দোকান), সেখানে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
অবিরত/নিত্য মজুদ হিসাব পদ্ধতি: যে সকল প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পণ্যের মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি এবং মজুদের উপর নিবিড় নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন (যেমন: অলংকারের দোকান, গাড়ির ডিলার, কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকান), সেখানে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। বর্তমানে আধুনিক হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যারের কারণে অনেক ছোট প্রতিষ্ঠানও এই পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে।
এছাড়াও, মজুদ পণ্য মূল্যায়নের জন্য আরও কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে, যা সাধারণত অবিরত বা কালান্তিক উভয় পদ্ধতিতেই প্রয়োগ করা যেতে পারে, যেমন:
FIFO (First-In, First-Out): প্রথমে যা কেনা হয়েছে, প্রথমে তাই বিক্রি হয়েছে বলে গণ্য করা হয়।
LIFO (Last-In, First-Out): সবশেষে যা কেনা হয়েছে, প্রথমে তাই বিক্রি হয়েছে বলে গণ্য করা হয়। (বাংলাদেশে এই পদ্ধতির ব্যবহার সীমিত)।
৩
৩ মন্তব্য