সহকারী অধ্যাপক
১৭ মার্চ, ২০২৬ ০৫:২৯ অপরাহ্ণ
সকল প্রশংসা আল্লাহর -মোঃ মুজিবুর রহমান
সকল প্রশংসা আল্লাহর
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
সকল প্রশংসা আল্লাহর, স্রষ্টা মহিমান্বিত,
যিনি গড়েছেন আসমান, যমীন—অপরূপ অমিত।
নিভৃত শূন্যে জ্বালিয়েছেন আলোর দীপ্ত শিখা,
অন্ধকারের চাদরে ঢেকেছেন রহস্যময় দিকটা।
মাটি হতে গড়েছেন মানুষ, কাদার নরম দেহ,
তবু তার মাঝে দিয়েছেন জ্ঞানের দীপ্তি স্নেহ।
একটি সময় নির্ধারিত, জীবনের ক্ষণিক পথ,
আরো একটি কাল গোপন, তাঁরই অগাধ রথ।
তবু মানুষ সন্দেহ করে, ভ্রান্তিতে পড়ে রয়,
সত্যের আলো সামনে থেকেও অন্ধকারে ক্ষয়।
তিনি জানেন অন্তর গোপন, প্রকাশ্য সব কথা,
প্রতিটি কাজের হিসাব রাখেন—অপরিমেয় ব্যথা।
যখনই আসে আয়াত তাঁর, সত্যের দীপ্ত বার্তা,
তখনই তারা ফিরিয়ে নেয়, অস্বীকারের চার্তা।
হাসে তারা সত্য নিয়ে, করে উপহাস তাচ্ছিল্য,
অচিরেই আসবে তাদের কাছে প্রতিফল অচলিয়।
দেখে না কি তারা ইতিহাসের পাতা খোলা,
কত জাতি ধ্বংস হলো পাপের ভারে দোলা।
যাদের দিলেন ক্ষমতা, শক্তি, রাজ্য অগণিত,
তোমাদের চেয়েও অধিক ছিল তাদের অধিকার অমিত।
আকাশ হতে বর্ষালেন বৃষ্টি—অবিরাম ধারা,
নদী বইত পায়ের নিচে, ছিল না কোনো কারা।
তবু পাপে তারা ডুবে গেল, হারাল পথের দিশা,
ধ্বংস এলো গর্জে উঠে—শেষ হলো সব আশা।
তারপর এল নতুন প্রজন্ম, নতুন ইতিহাস,
কিন্তু শিক্ষা নেয় না মানুষ, ভুলে যায় সেই নিশ্বাস।
এই তো দুনিয়ার গল্প, শিক্ষা গভীর সত্য,
যে মানে না রবের বাণী, তার পরিণতি কঠিন কঠ্য।
হে মানুষ! ফিরো আলোর পথে, ত্যাগ করো বিভ্রান্তি,
অন্ধকারের মোহ ত্যাগে মিলবে চিরশান্তি।
স্মরণ করো স্রষ্টাকে, যিনি সর্বজ্ঞ, মহান,
তাঁরই পথে মুক্তি তোমার—তাঁরই পথে প্রাণ।
***
রই পথে মুক্তি তোমার—তাঁরই পথে প্রাণ।
আরও অলংকারময় কাব্যরূপ: “সৃষ্টির সুর ও সতর্কবার্তা”
প্রশংসা তাঁর, যিনি নীরব শূন্যে বুনেছেন আলো,
অস্তিত্বের ক্যানভাসে এঁকেছেন রাত্রি-দিবসের ভালো।
আসমানের নীলিমা, যমীনের সবুজ বিস্তার,
তাঁরই হুকুমে জাগে প্রতিটি সৃষ্টির অধিকার।
কাদার অণু হতে মানুষ—এক বিস্ময়কর রূপ,
মাটির মাঝে লুকানো জ্ঞানের অমূল্য কূপ।
জীবনের সীমারেখা টেনে দিয়েছেন নির্ভুল,
আর গোপন এক সময় রেখেছেন নিজ কূলে অনাকূল।
তবু কেন সংশয় জাগে মানব হৃদয়ের কোণে?
সত্যের দীপ জ্বলছে যখন অন্তরেরই ক্ষণে।
তিনি জানেন অশ্রু, হাসি, নিভৃত অন্তর কথা,
প্রকাশ্য ও গোপন সবই তাঁরই কাছে ব্যাখ্যা।
যখন আসে তাঁর আয়াত—আলো ঝলমলে সত্য,
মানুষ তখন ফিরিয়ে নেয় মুখ, করে অবহেলা কঠ্য।
উপহাসে ঢাকে তারা নিজের অন্তর ভয়,
অচিরেই সেই হাসির মাঝে প্রতিফল ফিরে রয়।
ইতিহাসের ধ্বংসস্তূপ কি কিছুই বলে না?
কত জাতি বিলীন হলো, কেউ কি স্মরণ করে না?
ক্ষমতার শিখরে উঠেও যারা ভেবেছিল অমর,
পাপের ভারে ভেঙে গেল তাদের অহংকার ঘর।
বৃষ্টি ঝরেছিল আকাশ ভরে, নদী বইত পায়ে,
সুখের মাঝে ডুবে থেকেও ভুলে গেল তারা হায়।
অবশেষে ধ্বংস এলো—নির্মম, নিঃশব্দ ঢেউ,
পাপের বোঝা বইতে গিয়ে রক্ষা পেল না কেউ।
তারপর এল নতুন মানুষ, নতুন দিনের গান,
তবু পুরনো ভুলের পুনরাবৃত্তি—অবিরাম অবসান।
হে মানুষ, জাগো এবার, খুঁজে নাও সত্যের পথ,
রবের দিকে ফিরলে তবেই মুছবে জীবনের ক্ষত।
আলো ও অন্ধকারের মাঝে তোমারই নির্বাচন,
স্রষ্টার পথে চললেই হবে চিরমুক্তির ঘোষণা।
***
প্রশংসা তাঁর—নিঃসীম শক্তির অনন্ত উৎসধার,
যিনি সৃষ্টি করলেন শূন্যে আসমানের বিস্তার।
যমীনের বুকে ছড়িয়ে দিলেন জীবনরঙের ছোঁয়া,
আঁধার-আলোর খেলায় গড়লেন রহস্যময় মায়া।
কাদামাটির ক্ষুদ্র কণায় গড়লেন মানবপ্রাণ,
তবু দিলেন হৃদয়ে জ্ঞান, বিবেকের মহাদান।
একটি সময় রেখেছেন দৃশ্যমান সীমার মাঝে,
আরেকটি গোপন রেখেছেন অদৃশ্য কালের সাজে।
মানুষ তবু সন্দেহ করে—ভুলে যায় তার উৎস,
সত্যের সুর শুনেও কেন করে মিথ্যার স্পর্শ?
তিনি জানেন অন্তরের সব গোপন আকুতি,
প্রকাশ্য প্রতিটি কাজে তাঁরই রয়েছে গতি।
যখন আসে তাঁর বাণী—আয়াতের দীপ্ত আলো,
মানুষ তখন মুখ ফিরিয়ে নেয়, অবজ্ঞারই ঢালো।
বিদ্রূপে ঢাকে ভয়, করে অহংকারের গান,
অচিরেই সে উপহাসে আসবে প্রতিফল জ্ঞান।
ইতিহাস ডাকে—শোনো ধ্বংসের সেই ক্রন্দন,
কত জাতি মুছে গেছে পাপে, হারিয়েছে জীবন।
ক্ষমতার শিখরে থেকেও টিকতে পারেনি কেউ,
অহংকারের ভারে ভেঙেছে তাদের স্বপ্নঢেউ।
বৃষ্টি নেমেছিল অবিরত, নদী গেয়েছিল গান,
সুখের সাগরে ভাসলেও তারা ভোলেনি পাপের টান।
অবশেষে এল ধ্বংস—নির্মম বিধানের ছায়া,
সবকিছু হারিয়ে তারা হলো ইতিহাসের কায়া।
তারপর এল নতুন মানুষ, নতুন দিনের ডাক,
তবু পুরনো ভুলে পড়ে আবারও সেই ফাঁক।
হে মানবজাতি! জাগো আজ, সত্যের পথে চলো,
আলোর দীপ জ্বালাও প্রাণে, অন্ধকার সব ভুলে বলো—
“প্রভু, তুমি এক, তুমি সত্য, তুমি চিরঅমর,”
তোমার পথে চললেই মিলবে মুক্তির সুধাস্বর।
৪
৪ মন্তব্য