প্রভাষক
১৭ মার্চ, ২০২৬ ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ - (Fianacial Statement Analysis)
বিশ্লেষণ করার বিভিন্ন কৌশল ও সূত্র (Techniques and Formulas):
আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণের জন্য মূলত তিনটি প্রধান কৌশল বা হাতিয়ার (Tools) ব্যবহৃত হয়:
ক. তুলনামূলক আর্থিক বিবরণী (Comparative Financial Statement)
এই পদ্ধতিতে একটি প্রতিষ্ঠানের একের অধিক হিসাবকালের (যেমন: চলতি বছর ও বিগত বছর) আর্থিক বিবরণীর বিভিন্ন হিসাব খাত পাশাপাশি রেখে তাদের পরিবর্তন (টাকার অংকে ও শতকরা হারে) বিশ্লেষণ করা হয়। এটি প্রবণতা বা গতিধারা বুঝতে সাহায্য করে।
খ. সমআকার আর্থিক বিবরণী (Common-size Financial Statement)
এই কৌশলে আর্থিক বিবরণীর প্রতিটি টাকাকে একটি ভিত্তিমানের সাপেক্ষে শতকরা হারে প্রকাশ করা হয়।
বিশাল আয় বিবরণী: প্রতিটি খাতকে মোট বিক্রয়ের শতকরা অংশ হিসেবে দেখানো হয়।
আর্থিক অবস্থার বিবরণী: প্রতিটি খাতকে মোট সম্পদের শতকরা অংশ হিসেবে দেখানো হয়। এর মাধ্যমে একই শিল্পে থাকা দুটি ভিন্ন আকারের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহজভাবে তুলনা করা যায়।
গ. অনুপাত বিশ্লেষণ (Ratio Analysis)
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল বা হাতিয়ার হচ্ছে অনুপাত বিশ্লেষণ। দুটি সংখ্যার মধ্যে বিদ্যমান
সম্পর্ককে গাণিতিক বিভাজনের মাধ্যমে প্রকাশ করাকে অনুপাত বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায় ,অনুপাত হচ্ছে দুটি সংখ্যার মধ্যে বিদ্যমান
গাণিতিক সম্পর্ক। ২০০৭ সালে IASB কর্তৃক প্রকাশিত আন্তর্জাতিক হিসাবমান (IAS-১) বাংলাদেশে গৃহীত হবার পর এর প্যারা ৮
অনুযায়ী আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ করা হয়। (IAS-১০) অনুসারে কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ বিষয়ক প্রতিবেদন (Environment
Report) এবং মূল্য সংযোজন প্রতিবেদন (Value Added Report) প্রকাশ করে থাকে।
অনুপাতকে নিম্নোক্তভাবে প্রকাশ করা যায়। যথা-
আসল বা স্বাভাবিক বা সরল বা খাঁটি অনুপাত: এ অনুপাতের ফলাফল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে উপরের রাশিকে নিচের রাশি দ্বারা ভাগ করলে যে
ভাগফল পাওয়া যাবে ঐ ভাগফল লিখে তারপর অনুপাতের চিহ্ন (:) দিতে হবে এবং তারপর ১ লিখতে হবে। যেমন-চলতি অনুপাত =২:১।
গুণ বা বার অনুপাত: যে অনুপাতের সূত্রের মধ্যে ‘আবর্তন’ শব্দটি থাকে সেই অনুপাতের ফলাফলকেই গুণ বা বার দিয়ে লিখতে হয়। যেমন-
মজুদ আবর্তন অনুপাত=৮গুণ বা বার।
শতকরা হার অনুপাত: যে অনুপাতের সূত্রে গুণন চিহ্ন (×) দিয়ে ১০০ আছে সেই অনুপাতের ফলাফলকেই শতকরা হারে (%) উপস্থাপন করা
হয়। যেমন-মোট লাভ অনুপাত=২০%।
স্বাভাবিক সংখ্যায় প্রকাশ: এক্ষেত্রে উপরের রাশিকে নিচের রাশি দ্বারা ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যায় ঐ ভাগফলের পাশে ‘টাকা’ লিখতে
হবে। যেমন -শেয়ার প্রতি আয়=১০ টাকা
৩
৩ মন্তব্য