সহকারী অধ্যাপক
১৫ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৫৮ অপরাহ্ণ
দাম্পত্যের লালবাতি ও সবুজের গান - মোঃ মুজিবুর রহমান
দাম্পত্যের লালবাতি ও সবুজের গান
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
দাম্পত্য পথে যখন ওঠে তুচ্ছতার কালো ধোঁয়া,
নিগেটিভ ভাবনার কাঁটা হৃদয়টাকে করে ক্ষয়;
কঠোর শব্দ মুখে এলে আগুন হয়ে জ্বলে ক্ষণেই,
শান্তির ঘর মুহূর্তেই ঝড়ে পড়ে ভাঙা নৌকায়।
গালির ঝড় যখন ওঠে ক্রোধের অন্ধ ঝঞ্ঝায়,
বাবা-মা তুলে অপমান ছুঁড়ে দেয় বিষের বাণ;
হেয় করে, খাটো করে, বিদ্ধ করে হৃদয় মাঝে—
সেই ঘরেতে সুখের আলো থাকে না আর একটুখান।
অবজ্ঞার ঐ লালবাতি দাম্পত্য পথে জ্বলে উঠে,
সতর্ক করে—“থামো এখন, এ পথ অন্ধকারে যায়”;
ভালোবাসার রথ তখন থমকে দাঁড়ায় নীরব হয়ে,
মমতার ফুল শুকিয়ে পড়ে শীতল বেদনার ছায়ায়।
কিন্তু যদি হৃদয় জুড়ে জাগে মধুর সংযম,
কথার মাঝে ফুটে ওঠে সম্মান, শ্রদ্ধার দীপ;
তুচ্ছতার সেই কাঁটা ফেলে দয়া যদি ধরো হাতে,
দাম্পত্য তখন হয়ে ওঠে আশ্রয়ের মহাসীপ।
মধুর ভাষা, কোমল আচরণ, সহমর্মী দৃষ্টি যখন
স্বামী-স্ত্রীর হৃদয়খানে বুনে দেয় আস্থার বীজ;
রাগের বদলে ক্ষমার সুরে বাজে প্রেমের বাঁশি—
ঘরের আকাশ ভরে ওঠে সুখের নীল আবেশে ভীষ।
পরস্পরের সম্মান যেখানে সোনার মতো দীপ্তিমান,
অপমানের ছায়া সেথা আসে না আর ভুলেও;
ভালোবাসার প্রদীপ জ্বেলে তারা রাখে সংসার,
আলোকিত সে দাম্পত্য সুখের সুধা ঢুলেও।
তাই তুচ্ছতা, গালি, হেয়তা—সবই ফেলে দূর বহুদূর,
শান্তির পথে হাঁটো দুজন মমতার হাত ধরে;
দেখবে তখন এই ধরাধাম, এই ছোট্ট সংসারখানি
স্বর্গ হয়ে হাসবে নীরব প্রেমের আলো ঝরে।
যেখানে সম্মান ফুল হয়ে ফোটে প্রতিটি আচরণে,
সেখানে ঘর হয়ে ওঠে জান্নাতেরই প্রতিচ্ছবি;
স্বামী-স্ত্রীর হৃদয় যখন ভালোবাসায় জড়ায়—
ধরার বুকেই নেমে আসে স্বর্গীয় সুখের নীড়ই।
***
**দাম্পত্যের আলো ও অন্ধকার**
স্বামী-স্ত্রীর সংসারখানি প্রেমের পবিত্র নীড়,
স্নেহ-মমতার ফুলে গড়া শান্তির স্বর্ণভূমি;
কিন্তু তুচ্ছতার কালো ধোঁয়া উঠলে হৃদয় মাঝে,
সেই সুখঘর মুহূর্তেই হয়ে যায় বিষণ্ন ভূমি।
নিগেটিভ ভাবনা যদি মনে বাসা বাঁধে ধীরে,
কঠোর শব্দ মুখে এসে আঘাত করে প্রাণ;
অকারণে রূঢ় আচরণ, বিষমাখা কটু বাক্য—
ভেঙে দেয় দাম্পত্য সুখের কোমল স্বপ্নভান।
গালিগালাজ ঝড়ের মতো আঘাত হানে হৃদয়পটে,
বাবা-মা তুলে অপমান ছুঁড়ে দিলে ক্রোধভরে;
হেয় করা, খাটো করা, তির্যক চোখে অবহেলা—
সুখের নদী শুকিয়ে যায় বেদনারই মরুভরে।
এ সবই দাম্পত্য পথে জ্বলা সতর্ক লালবাতি,
বলে দেয়—“এই পথ ধরো না, সামনে অন্ধকার”;
ভালোবাসার নৌকাখানি থেমে যায় মাঝপথেতে,
মুছে যায় সুখের গান, বাড়ে কেবল হাহাকার।
কিন্তু যদি রাগের স্থলে জাগে মধুর সংযম,
শ্রদ্ধাভরা ভাষা যদি ওঠে ঠোঁটে ধীরে ধীরে;
ক্ষমার স্নিগ্ধ ছায়া যদি ঢেকে দেয় সব ত্রুটি—
সুখের সূর্য উঠবে আবার দাম্পত্য আকাশ নীড়ে।
মধুর কথা, কোমল আচরণ, সহানুভূতির হাসি,
আস্থার বীজ বুনে দেয় দু’টি প্রাণের মাঝে;
সম্মানের সেই বৃক্ষ তখন ছায়া হয়ে দাঁড়ায়,
সুখের ফল ফলিয়ে দেয় প্রতিটি দিনের সাজে।
যেখানে নেই অপমান, নেই কটু বাক্যের দাহ,
সেখানে প্রেমের বাতাস বয় নীরব সুধার সুরে;
স্বামী-স্ত্রীর হৃদয় তখন হাতে হাত রেখে
হাঁটে জীবনের পথে শান্তি-আলোক ঘিরে।
তাই তুচ্ছতা, গালি, হেয়তা ফেলে দাও দূর,
শ্রদ্ধা-ভালোবাসা গড়ে তোলো অন্তরের মন্দির;
দেখবে তখন ছোট্ট ঘর, ছোট্ট সংসারখানি
হয়ে উঠবে ধরাধামে স্বর্গীয় সুখের নীড়।
***
দাম্পত্যের দ্যুতি ও দহন
দাম্পত্য—দুই হৃদয়ের পবিত্র মিলনমালা,
স্নেহ-সম্ভ্রমে গাঁথা এক অনিন্দ্য জীবনগীতি;
যেখানে ভালোবাসা জ্বালে শান্তির শ্বেত প্রদীপ,
সেখানে সংসার হয় অনাবিল স্বর্গস্মৃতি।
কিন্তু যখন অবজ্ঞার বিষধর ছায়া নামে,
তুচ্ছতার তীর বিদ্ধ করে হৃদয়ের কমল;
নিগেটিভ ভাবনার কালো মেঘে ঢাকে মনাকাশ,
সুখের সূর্য তখন ম্লান, বিষণ্নতায় টলমল।
রূঢ় বাক্যের আগুন যখন জ্বলে ওঠে ক্রোধে,
অশালীন শব্দ ছুটে আসে ঝড়ের তীরবেগে;
বাবা-মা তুলে অপমান—অমার্জিত বিষবাণ,
দাম্পত্যের পবিত্রতা ভস্ম হয় নিমেষে।
হেয়তা, খাটো করা, অবজ্ঞার কঠিন দৃষ্টি—
এসবই সম্পর্কপথে জ্বলা সতর্ক রক্তদীপ;
যেন বলে—“থামো মানব, এ পথে সুখের মৃত্যু,
এ পথ কেবল বেদনার অশ্রুতে সিক্ত নীপ।”
কিন্তু যদি হৃদয়ে জাগে সংযমের সুধাস্রোত,
কথায় ফুটে ওঠে শ্রদ্ধা, মমতার স্নিগ্ধ রাগ;
ক্ষমার পুষ্পে যদি ঢাকে সকল ক্ষুদ্র দোষ,
তবে সংসার ভরে ওঠে প্রেমের অনুরাগ।
মধুর আচরণ যেন বসন্তের মলয়বায়ু,
সম্মানের দীপ যেন দীপাবলির আলো;
সহমর্মী হৃদয় যখন ছুঁয়ে দেয় অপর প্রাণ,
দাম্পত্য তখন রচে সুখের অমৃত ভালো।
যেখানে নেই অপমানের অন্ধকার গহ্বর,
নেই কটু বাক্যের দগ্ধ অগ্নিশিখা;
সেখানে প্রেমের বীণা বাজে মৃদু অনন্ত,
সেখানে সংসার হাসে চিরশান্তি-দীক্ষা।
তাই অবজ্ঞা, তুচ্ছতা, কটু বাক্যের দহন
ছুঁড়ে ফেলো দূর বহুদূর অন্ধকার গহ্বরে;
শ্রদ্ধা, দয়া, ভালোবাসা গড়ে তুলুক সংসার—
দুই প্রাণের মিলনে স্বর্গ নেমে আসুক ধরাধরে।
যেখানে দাম্পত্য হৃদয় জুড়ে জ্বলে সম্মানের দীপ,
ভালোবাসা সেখানে চিরবসন্তের গান;
সেই ঘরখানি হয়ে ওঠে শান্তির স্বর্ণলোক—
ধরাধামেই যেন নেমে আসে জান্নাতের সন্ধান।
***
দাম্পত্যের দীপশিখা
দুই প্রাণের মিলনে গড়ে সংসারের পবিত্র নীড়,
স্নেহের আলোয় জ্বলে ওঠে শান্তির অনন্ত প্রদীপ।
ভালোবাসার সুরে বাঁধা জীবনের মধুর সংগীত,
মমতার মালায় গাঁথা প্রতিটি দিনের অমৃত।
কিন্তু কখনো অবজ্ঞার কালো ছায়া নামে ধীরে,
তুচ্ছতার তীর বিদ্ধ করে হৃদয়ের কোমল তীরে।
নিগেটিভ ভাবনার মেঘ ঢাকে মন-আকাশের আলো,
সুখের সূর্য তখন ম্লান—দুঃখের নিশীথ কালো।
কঠোর শব্দ যখন ওঠে ক্রোধের অগ্নি-শিখা হয়ে,
প্রেমের বাগান মুহূর্তে ঝরে পড়ে শুষ্ক ক্ষয়ে।
গালির ঝড় উঠে আসে বিষমাখা ভাষার ঢেউয়ে,
দাম্পত্য সুখের তরী কাঁপে দুঃখের জলোচ্ছ্বাস বেয়ে।
বাবা-মা তুলে অপমান ছুঁড়ে দিলে ক্রোধভরে,
সম্মানের শ্বেতপদ্ম ম্লান হয় বেদনাঘোরে।
হেয় করা, খাটো করা, তির্যক দৃষ্টির আঘাত,
ভেঙে দেয় ভালোবাসার গড়া বিশ্বাসের প্রাসাদ।
এসবই দাম্পত্যপথে জ্বলা রক্তিম সতর্ক বাতি,
বলে—“এই পথে গেলে হারাবে সুখের গাঁথা।”
যেখানে অপমানের ধোঁয়া ওঠে অহর্নিশ,
সেখানে শান্তির ফুল ফুটে না কোনোদিন।
সেই ঘরে নীরবতায় কাঁদে ভালোবাসার গান,
ভাঙা সুরে বাজে কেবল বিষণ্নতার তান।
হৃদয়ের আকাশ জুড়ে জমে অশ্রুর মেঘ,
স্বপ্নের নৌকা হারায় দিশা অন্ধকার স্রোতে।
তবু আশা মরে না মানুষের অন্তরে,
ভালোবাসা জাগে আবার অনন্ত আলোর তরে।
যদি রাগের স্থলে জাগে সংযমের শীতল ছায়া,
তবে শান্তির ফুল ফুটে ওঠে দাম্পত্যের মায়া।
মধুর ভাষা যদি ওঠে হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে,
অমৃত হয়ে ঝরে পড়ে শ্রদ্ধার সুধা-ধ্বনি।
ক্ষমা যদি ঢেকে দেয় সকল ক্ষুদ্র ভুল,
সুখের বসন্ত নামে হৃদয়ের ফুলবনে।
সম্মানের আলো তখন জ্বলে দীপাবলির মতো,
অন্ধকার মুছে যায় প্রেমের দীপ্তিতে।
সহমর্মিতার বাতাস বয়ে যায় স্নিগ্ধ হয়ে,
দুই প্রাণের মিলনে জাগে আস্থার নীড়।
স্বামী-স্ত্রী তখন হয় পথের বিশ্বস্ত সহচর,
দুঃখে-সুখে হাতে হাত রেখে অটল অগ্রসর।
মমতার নদী বয়ে যায় নীরব শান্ত স্রোতে,
প্রেমের তরী ভাসে সুখের দিগন্ত পথে।
কোমল আচরণ যেন বসন্তের মলয়বায়ু,
শ্রদ্ধার পুষ্পে ভরে ওঠে সংসারের বাগান।
দয়া আর সহানুভূতি জাগে অন্তরে,
মানবিকতার আলো ঝরে প্রতিটি আচরণে।
যেখানে নেই অপমানের কঠোর অন্ধকার,
সেখানে শান্তির সূর্য ওঠে দীপ্তিময়।
সেখানে হাসে শিশিরভেজা প্রভাতের মতো সুখ,
দাম্পত্যের আকাশ ভরে ওঠে নীল আলোর ঢেউয়ে।
ভালোবাসার বীণা বাজে মৃদু সুরে,
মিলনের গীত ভাসে সময়ের স্রোতে।
দুই হৃদয়ের বন্ধনে গড়ে ওঠে দৃঢ় প্রাসাদ,
যেখানে আস্থা হয় ভিত্তি, শ্রদ্ধা তার স্তম্ভ।
অপমানের বিষ সেখানে পায় না কোনো স্থান,
ভালোবাসা থাকে চিরসজীব অমলিন।
এই সংসার তখন হয়ে ওঠে শান্তির বিদ্যালয়,
যেখানে শেখা হয় দয়া, ক্ষমা আর সহমর্মিতা।
স্বামী-স্ত্রী তখন শুধু সঙ্গী নয়—
তারা পরস্পরের আশ্রয়, আলোর প্রদীপ।
তাদের হাসি ছড়িয়ে পড়ে পরিবারের আঙিনায়,
শান্তির সুর বাজে প্রতিটি প্রভাতে।
তাদের ঘর হয়ে ওঠে ভালোবাসার তীর্থ,
যেখানে মমতা জাগে পূর্ণিমার আলোয়।
সেই ঘরে ক্লান্ত হৃদয় পায় শান্তির আশ্রয়,
দুঃখের পথিক পায় স্নিগ্ধ প্রশান্তি।
অপমান দূরে গেলে সুখের দ্বার খুলে যায়,
আলো নামে হৃদয়ের অন্তঃপুরে।
শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা যখন জাগে সমান,
দাম্পত্য তখন হয় অনন্ত সৌন্দর্যের গান।
ছোট্ট হয়ে ওঠে স্বর্ণভূমি কুঁড়েঘর
শান্তির আলোয় দীপ্ত পবিত্র নীড়।
তখন এই ধরাধামেই নেমে আসে স্বর্গ,
দুই হৃদয়ের প্রেমে জেগে ওঠে সুখের স্বর্গ।
৪
৪ মন্তব্য