Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:৫৯ অপরাহ্ণ

আত্মশুদ্ধির কুরআনী পদ্ধতি

আল্লাহ তা’আলা বলেন,“ সে সফলকাম হয়েছে, যে পবিত্রতা অবলম্বন করেছে এবং নিজের রবের নাম স্মরণ করেছে তারপর সালাত পড়েছে।”(সুরা আ’লা:১৪-১৫) এটিই আত্মশুদ্ধির কুরআনী পদ্ধতি। পদ্ধতি গুলো হলো, এক, পবিত্রতা অবলম্বন করা দুই, নিজের রবের নাম স্মরণ করা তিন, নিয়মিত সালাত পড়া। এ পন্থায় যারা আত্মশুদ্ধি করে মূলত তারাই সফলকাম হয়। এ পন্থা বাদ দিয়ে যারা নিজেদের মস্তিস্কপ্রসূত চিন্তা চেতনা দিয়ে আত্মশুদ্ধি করে তারা মূলত ভণ্ড ও তারাই বিফল। আমাদের দেশের আত্মশুদ্ধি ভারতীয় ঋষিবাদ দ্বারা প্রভাবিত, এটি ইসলামী আত্মশুদ্ধি নয়। আত্মশুদ্ধি হতে হবে আল কুরআনের নির্দেশনা ও রাসুলুল্লাহ (সা:) এর প্রদর্শিত পথে। নিজে নিজে কিছু অজীফা বানিয়ে নিলে আত্মশুদ্ধি হয়ে যায় না। আল্লাহ তা’আলা বলেন,“আসলে ঈমানদারদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন নবী পাঠিয়ে আল্লাহ মু’মিনদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। সে তাঁর আয়াত তাদেরকে শোনায়, তাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ করে এবং তাদেরকে কিতাব ও জ্ঞান শিক্ষা দেয়। অথচ এ লোকেরাই সুস্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত ছিল।” (সুরা আলে ইমরান : ১৬৪) ঠিক একই কথা বলা হয়েছে সুরা বাকারার ১২৯ নং আয়াতে। দু’টো আয়াতে লক্ষনীয় ব্যাপার হলো, প্রথমত: আত্মশুদ্ধি হতে হবে রাসুল (সা:) এর সুন্নাহ মোতাবেক, দি¦তীয়ত: আল্লাহর আয়াত তথা কুরআন অনুযায়ী। কুরআন না শিখে বা না জেনে আত্মশুদ্ধি করলে সেটি আত্মশুদ্ধি না হয়ে বরং বিশেষ ধরনের ব্যায়াম হবে। আত্মশুদ্ধির কুরআনী পন্থা নিচে পেশ করা হলো, যা সুরা আ’লা এর ১৪ নং আয়াতে বিবৃত হয়েছে।
এক, পবিত্রতা অবলম্বন করা : পবিত্রতা অর্থ কুফর ও শিরক ত্যাগ করে ঈমান আনা, অসৎ আচার-আচরণ ত্যাগ করে সদাচার অবলম্বন করা এবং অসৎ কাজ ত্যাগ করে সৎ কাজ করা। এটি শারীরিক বা বস্তুগত পবিত্রতা নয় যা আমরা অজু গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করে থাকি বরং এ পবিত্রতা হচ্ছে চিন্তা ও কর্মের পবিত্রতা।যেমন আাল্লাহ তা’আলা বলেন, “হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপরিবত্র, কাজেই এ বছরের পর তারা যেন আর মসজিদের হারামের কাছে না আসে।” (সুরা তাওবা : ২৮) 
ইসলামে নাপাক বলতে সাধারণত শারীরিক ময়লা-আবর্জনা বা কোনো বস্তু যা শরীর বা কাপড়ে লাগলে পবিত্রতা নষ্ট করে, তাকে বোঝায়। অন্যদিকে, কাফের বা মুশরিকদের ‘নাজাস’ বলা হয়েছে তাদের আকীদা-বিশ্বাসের কারণে। তারা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করে না। তাই আল কুরআন তাদেরকে নাজাস বা অপবিত্র বলা হয়েছে। তাই আত্মশুদ্ধির জন্য মুসলমানদের প্রথমত বিশ্বাসগত ও কার্যত পবিত্র হতে হবে। বিশ্বাস বা কাজের কোথাও শিরক ও কুফুরীর ছিটে ফুটো থাকতে পারবেনা। খুলুসিয়াতের সাথে দীনকে তথা জীবন ব্যবস্থাকে আল্লাহর জন্য সুনির্দিষ্ট করতে হবে। জীবনের কিছু অংশ আল্লাহর হুকুম মত পালন করা হলে আর কিছু অংশ মানুষের মস্তিস্ক প্রসূত হুকুম মত পালন করা হলে পবিত্রতার আশা করা বৃথা। 
দুই, স্মরণ করা : স্মরণ করা বলতে আল্লাহকে মনে মনে স্মরণ করা এবং মুখে তা উচ্চারণ করা। উভয়টিই যিকরুল্লাহ বা আল্লাহকে স্মরণ করার অন্তর্ভুক্ত বুঝায়। তবে এ স্মরণ কর্মক্ষেত্রে বিচরণ করেই করতে হবে। নির্জন জায়গায় নয় বরং দুনিয়ার কর্মক্ষেত্রে শয়তান ও তার সহচরদের সাথে লড়ে আল্লাহ যিকরকে সমুন্নত করাই হলো প্রকৃত যিকর। সংসারের শত ঘাত-প্রতিঘাতকে মোকাবেলা না করে জঙ্গলের নির্জন স্থানে গিয়ে আল্লাহর যিকর খুবই সহজ। মনে রাখতে হবে, পরীক্ষার মাধ্যমে মানুষের সফলতা ও বিফলতা যাচাই করা হয়। এ জন্য তাকে পরীক্ষার হলে বসে শত শত চক্ষুর সামনে পরীক্ষা দিতে হয়। কোন পরীক্ষার্থী যদি কোন নির্জন কক্ষ দাবি করে, তাহলে সেটি পরীক্ষা হবে না। জীবনের পদে পদে সংসারের ঘাত-প্রতিঘাতে আল্লাহর স্মরণই হলো প্রকৃত যিকর। সুতরাং যিকরের উপযুক্ত স্থান হলো সমাজ সংসারে ও জীবনের প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ