Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ মার্চ, ২০২৬ ১০:০৪ অপরাহ্ণ

তাকওয়ার মর্যাদা - মোঃ মুজিবুর রহমান

 

তাকওয়ার মর্যাদা

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

হে ঈমানদার! শুনো প্রভুর পবিত্র আহ্বান,

বিদ্রূপের আগুনে জ্বালিও না মানবের প্রাণ।

যে হাসে অন্যেরে তুচ্ছ ভেবে অহংকারে,

হতে পারে সে-ই উত্তম আল্লাহর দরবারে।

কোনো সম্প্রদায় যেন না করে আরেককে তিরস্কার,

হৃদয়ের আঘাতে জন্মে অন্ধকার।

যাকে তুচ্ছ বলো আজ অহংকারের ভাষায়,

তাকেই হয়তো রব উচ্চ মর্যাদায় বসায়।

নারী যেন নারীকে না করে অবজ্ঞার তীর,

সম্মানের ফুলেই ফুটুক মানবতার নীর।

হৃদয়ের আকাশে করুণা জ্বালো দীপ,

বিদ্বেষের কাঁটা নয়—ভ্রাতৃত্ব হোক সীমানার সীপ।

পরস্পরের নিন্দা করো না, রেখো জিহ্বা সংযত,

মন্দ উপনামে ডাকা—অতিশয় নিকৃষ্ট।

ঈমানের পরে সে নাম লজ্জার অন্ধকার,

মানবতার বুকে তা গভীর বিষের ধার।

যে তাওবা করে না ভুলের পরও অহংকারে,

সে তো যালিম নিজেই নিজের বিচারধারায়।

তাওবার দরজা খোলা সদা দয়ার রবের ঘরে,

ফিরে এলে ক্ষমা ঝরে অনন্ত করুণাধারে।

হে মুমিনগণ! দূরে থাকো অধিক অনুমান,

কিছু কিছু সন্দেহই তো পাপের অবতারণ।

অকারণ সন্দেহে ভেঙো না হৃদয়ের সেতু,

বিশ্বাসের দীপ জ্বালো ভালোবাসার ক্ষেত্র।

গোপন ত্রুটি খুঁজো না কারো অন্ধকার ঘরে,

মানব মর্যাদা রক্ষা করো অন্তর ভরে।

গীবতের বিষধর বাণে বিদ্ধ করো না প্রাণ,

ভাইয়ের মর্যাদা রাখো পবিত্র সম্মান।

ভাবো তো একবার হৃদয়ের নিভৃত কোণে—

মৃত ভাইয়ের গোশ্ত খেতে কি মন চায় প্রাণে?

ঘৃণায় যেমন মুখ ফিরাও সেই দৃশ্য দেখে,

তেমনি ঘৃণা রেখো গীবতের পথ রোধে।

আল্লাহকে ভয় করো হৃদয়ের গভীর তলে,

তাঁর রহমত স্রোত বয় অনন্ত করুণাজলে।

তিনি তাওবা কবূল করেন অসীম মমতায়,

অপরাধীর চোখের জল ক্ষমার সাগর গড়ায়।

হে মানবসমাজ! শুনো সৃষ্টির পবিত্র কথা,

এক নারী ও এক পুরুষ থেকেই সবার ব্যুৎপত্তা।

বিভিন্ন জাতি-গোত্রে করেছি তোমাদের বিভাজন,

পরিচয়ের সেতু গড়ুক মানবতার বন্ধন।

রঙ, ভাষা, বংশ নয় মর্যাদার মানদণ্ড,

তাকওয়ার দীপেই জ্বলে শ্রেষ্ঠতার ছন্দ।

যার অন্তর আল্লাহভীতি দিয়ে দীপ্তিমান,

সেই তো প্রিয়তম রবের অশেষ দরবারে মহান।

সর্বজ্ঞ প্রভু জানেন অন্তরের প্রতিটি সুর,

গোপন চিন্তাও তাঁর জ্ঞানের আলোয় ভরপুর।

তাই হৃদয়ে জাগাও পবিত্রতার আলো,

মানবতার পথে হাঁটো—তাকওয়ার দীপ জ্বালো।

 ***

তাকওয়ার আলো

হে ঈমানদার, শোনো রবের পবিত্র আহ্বান,

বিদ্রূপের হাসিতে দিও না কারো অপমান।

যাকে তুমি তুচ্ছ বলো অহংকারের ভাষায়,

হতে পারে সে-ই উত্তম আল্লাহর দরবারে আশায়।

কোনো জাতি যেন আরেক জাতিকে না করে হেয়,

অহংকারের আগুনে মানবতা পুড়ে যায় ক্ষয়ে।

আজ যাকে তুমি দেখো ছোটো চোখের দৃষ্টিতে,

কাল সে-ই হতে পারে শ্রেষ্ঠ মর্যাদার আসনে।

নারী যেন নারীকে না করে তিরস্কার,

সম্মানের বাণী হোক হৃদয়ের অলংকার।

অবজ্ঞার শব্দ যেন না ঝরে কভু মুখে,

মমতার ফুল ফুটুক মানবতার সুখে।

একে অপরের নিন্দা করো না কঠোর ভাষায়,

ভ্রাতৃত্বের বাঁধন ভাঙে এমন বিষধারায়।

মন্দ উপনামে ডাকা লজ্জার গভীর ছাপ,

ঈমানের পরে তা অন্ধকারের অভিশাপ।

যে তাওবা করে না ভুলের পরও অহংকারে,

সে নিজেই ডুবে যায় অন্যায়ের অন্ধকারে।

কিন্তু যে ফিরে আসে অনুতাপের অশ্রু নিয়ে,

রহমতের দরজা খোলে দয়ার স্রোত বয়ে দিয়ে।

হে মুমিনগণ, দূরে থাকো সন্দেহের পথ,

অনেক অনুমানেই পাপের জন্ম হয় যথার্থ।

অকারণ ধারণা যেন না ভাঙে হৃদয়-ঘর,

বিশ্বাসের আলোয় থাকুক মানবতার ডোর।

গোপন ত্রুটি খুঁজো না কারো অন্তর দ্বারে,

মানবসম্মান রক্ষা করো প্রেমের আচারে।

গীবতের আগুনে পোড়িও না ভাইয়ের নাম,

সে আগুনে নিভে যায় শান্তির সব ঘ্রাণ।

ভাবো একবার হৃদয়ের নীরব কল্পনায়—

মৃত ভাইয়ের গোশ্ত খেতে কি মন চায়?

যেমন সে দৃশ্য দেখে ঘৃণায় ফিরাও মুখ,

তেমনি গীবতের পথ থেকেও ফিরাও দুখ।

তাই আল্লাহকে ভয় করো অন্তরের গভীরে,

তাঁর দয়া ঝরে সদা ক্ষমার অমৃত নীড়ে।

তাওবার অশ্রুতে মুছে যায় পাপের দাগ,

করুণার সাগরে ডুবে যায় দুঃখের ভাগ।

হে মানবজাতি, শুনো সৃষ্টির প্রাচীন বাণী,

এক নারী এক পুরুষ—সেখানেই সবার টানি।

জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করলাম পরিচয়ের তরে,

যাতে ভালোবাসার সেতু গড়ে মানুষের ঘরে।

বংশ, রঙ, ভাষা নয় মর্যাদার সত্য মান,

তাকওয়ার আলোতেই উজ্জ্বল হয় সম্মান।

যার অন্তর আল্লাহভীতির দীপে উজ্জ্বল,

সেই তো তাঁর কাছে সর্বাধিক সমুজ্জ্বল।

সর্বজ্ঞ রব জানেন অন্তরের সব কথা,

গোপন ভাবনাও তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয় যথা।

তাই হৃদয়ে জাগাও পবিত্রতার আলো,

মানবতার পথে চল—তাকওয়ার দীপ জ্বালো।

 ***

তাকওয়ার মহিমা

হে ঈমানদীপ্ত হৃদয়ের সমুজ্জ্বল মানবসমাজ!

শোনো আরশের অধিপতির পবিত্র আহ্বান—

বিদ্রূপের বিষবাণে বিদ্ধ করো না কারো সম্মান,

কারণ যাকে তুচ্ছ করো অহংকারের অন্ধ দৃষ্টিতে,

সে-ই হয়তো রবের নিকট শ্রেষ্ঠ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত মহান।

কোনো সম্প্রদায় যেন না করে অন্য সম্প্রদায়কে অবজ্ঞা,

কারণ অহংকারের অগ্নি মানবতার বাগানে আনে অনলদাহ।

যাকে আজ অবহেলার ধূলিতে ফেলো তুমি,

কাল সে-ই হতে পারে মর্যাদার নক্ষত্র হয়ে দীপ্তিমান ভূমি।

নারী যেন নারীকে না করে বিদ্রূপের তীক্ষ্ণ তিরে বিদ্ধ,

সম্মানের কুসুমেই ফুটুক মানবতার সুধা-সিদ্ধ।

কারণ অবজ্ঞার ভাষা হৃদয়ের আকাশে তোলে ঝড়,

আর সম্মানের বাণী সেখানে তোলে শান্তির নীলঘোর।

তোমরা পরস্পরের নিন্দা করো না কঠোর বাক্য-বাণে,

কারণ সেই শব্দে ভেঙে যায় ভ্রাতৃত্বের সোনালি টানে।

মন্দ উপনামের অন্ধকারে ঢেকে যায় ঈমানের আলো,

মানবতার পবিত্র বাগানে তখন বিষের কাঁটা দাও।

ঈমানের পর মন্দ নাম কতই না লাঞ্ছনার ভার,

তার ছায়ায় হারায় হৃদয়ের পবিত্রতার জ্যোৎস্নাধার।

যে তাওবার পথ ছেড়ে থাকে অহংকারের নেশায় মগ্ন,

সে তো অন্যায়ের আঁধারে নিজেই নিজের বিচারক রুদ্ধ।

হে মুমিনগণ! সন্দেহের মেঘে ঢেকো না হৃদয়ের আকাশ,

কারণ অনেক অনুমান পাপের অঙ্কুর করে প্রকাশ।

অকারণ কল্পনার বিষে কলুষিত করো না মন,

বিশ্বাসের প্রদীপেই জ্বালো সত্যের অনন্ত জীবন।

গোপন ত্রুটি খুঁজো না কারো নিভৃত অন্তরালে,

কারণ মর্যাদা রক্ষা মানবতার শ্রেষ্ঠ রত্নভাণ্ডারে।

গীবতের বিষধর স্রোতে ভাসিও না ভাইয়ের নাম,

সে স্রোতে ডুবে যায় শান্তি, মরে ভালোবাসার ঘ্রাণ।

ভাবো একবার হৃদয়ের নিঃশব্দ প্রান্তরে—

মৃত ভ্রাতার গোশ্ত খেতে কি চায় মন অন্তরে?

যেমন সে দৃশ্য ঘৃণায় ফিরিয়ে দেয় তোমার দৃষ্টি,

তেমনি গীবতের পথ থেকেও ফিরাও মানবতার সৃষ্টি।

তাই ভয় করো আল্লাহকে হৃদয়ের গভীর নীরবতায়,

তাঁর করুণাধারা প্রবাহিত অশেষ দয়ার মহিমায়।

তাওবার অশ্রুতে মুছে যায় পাপের কালিমা-চিহ্ন,

রহমতের সাগরে ডুবে যায় অপরাধের তিমির-গভীর গহ্বর।

হে সমগ্র মানবজাতি! শুনো সৃষ্টির অনাদি বাণী—

এক নারী ও এক পুরুষ থেকেই তোমাদের জীবনের টানি।

জাতি ও গোত্রে করেছি তোমাদের বৈচিত্র্যময় বিভাজন,

যাতে পরিচয়ের সেতু গড়ে ওঠে হৃদয়ের মিলন।

রঙ, ভাষা, বংশ নয় মর্যাদার সত্য পরিমাপ,

তাকওয়ার দীপ্তিতেই জ্বলে সম্মানের অম্লান আলোকপ্রভাপ।

যার অন্তর আল্লাহভীতির নূরে হয় উজ্জ্বল দীপ্যমান,

সে-ই তো প্রভুর নিকটে সর্বাধিক মর্যাদায় মহান।

সর্বজ্ঞ রব অবহিত অন্তরের গোপনতম সুরে,

অপ্রকাশিত ভাবনাও তাঁর জ্ঞানের আলোয় ভরে।

তাই হৃদয়ে জাগাও পবিত্রতার নীলাভ দীপশিখা,

মানবতার পথে চল—তাকওয়ার আলোয় লিখো জীবন-লিপিকা।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ