Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ মার্চ, ২০২৬ ১১:২০ পূর্বাহ্ণ

অংশীদারী কারবারের হিসাব

১. অংশীদারী কারবারের সংজ্ঞা: ১৯৩২ সালের অংশীদারী আইন (Partnership Act, 1932) অনুসারে, "কতিপয় ব্যক্তির মধ্যে চুক্তির যে সম্পর্কের সৃষ্টি হয়, যেখানে তারা সকলেই অথবা সকলের পক্ষে কোনো একজনের দ্বারা পরিচালিত ব্যবসায়ের মুনাফা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার জন্য সম্মত হন, তাকে অংশীদারী কারবার বলে।"

সদস্য সংখ্যা: সাধারণ অংশীদারী ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ২ জন ও সর্বোচ্চ ২০ জন এবং ব্যাংকিং ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ২ জন ও সর্বোচ্চ ১০ জন সদস্য থাকতে পারে।

২. অংশীদারী কারবারের মূল ভিত্তি: অংশীদারী ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি হলো চুক্তি (Agreement)চুক্তি ছাড়া কোনো অংশীদারী ব্যবসা গঠিত হতে পারে না। এই চুক্তি লিখিত, মৌখিক বা লিখিত ও মৌখিক উভয়ই হতে পারে। ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি ও বিবাদ এড়ানোর জন্য লিখিত চুক্তি হওয়াকে উত্তম মনে করা হয় এবং এর দলিলকে অংশীদারী চুক্তিপত্র (Partnership Deedবলা হয়।

৩. অংশীদারী চুক্তিপত্র (Partnership Deed): অংশীদারী চুক্তিপত্র হলো এমন একটি লিখিত দলিল, যেখানে অংশীদারী কারবার গঠন, পরিচালনা ও বিলোপ সাধন সংক্রান্ত সমস্ত শর্ত ও দিক-নির্দেশনা বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ থাকে।

চুক্তিপত্রের কিছু বিষয়বস্তু:                             ব্যবসায়ের নাম, ঠিকানা, প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য।

অংশীদারদের নাম, ঠিকানা ও পেশা।                 মোট মূলধনের পরিমাণ এবং অংশীদারদের ব্যক্তিগত মূলধন সরবরাহ।

মূলধনের উপর সুদ, উত্তোলনের উপর সুদ, ঋণের উপর সুদের হার।                  লাভ-লোকসান বণ্টনের পদ্ধতি বা অনুপাত।

অংশীদারদের বেতন, কমিশন বা পারিতোষিক প্রদান সংক্রান্ত নিয়ম।       হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ও হিসাব নিরীক্ষার নিয়মাবলী।

নতুন অংশীদার গ্রহণ, অংশীদারদের অবসর গ্রহণ বা মৃত্যু সংক্রান্ত পদ্ধতি।   ব্যাংক হিসাব পরিচালনা সংক্রান্ত নিয়মাবলী।

৪. চুক্তির অবর্তমানে প্রযোজ্য নিয়মনীতি (১৯৩২ সালের অংশীদারী আইন অনুসারে):

অংশীদারী চুক্তিতে যদি কোনো বিষয় স্পষ্ট করে উল্লেখ না থাকে বা চুক্তি অলিখিত হয়, তবে ১৯৩২ সালের অংশীদারী আইনের নিম্নলিখিত বিধানগুলো প্রযোজ্য হবে:

বিষয়

চুক্তির অবর্তমানে প্রযোজ্য নিয়ম

মুনাফা বন্টন

লাভ-লোকসান সমানভাবে বন্টিত হবে।

মূলধনের সুদ

কোনো অংশীদারকে মূলধনের উপর কোনো সুদ দেওয়া হবে না।

উত্তোলনের সুদ

অংশীদারদের উত্তোলনের উপর কোনো সুদ ধার্য করা হবে না।

ঋণের সুদ

অংশীদার কর্তৃক কারবারকে প্রদত্ত ঋণের উপর বার্ষিক ৬% হারে সুদ প্রদান করতে হবে।

বেতন/কমিশন

কোনো অংশীদারকে তার কাজের জন্য কোনো বেতন, কমিশন বা পারিতোষিক প্রদান করা হবে না।

অতিরিক্ত মূলধন

কোনো অংশীদার অতিরিক্ত মূলধন বা ঋণ দিলে, চুক্তির অনুপস্থিতিতে তাকে কেবল ঋণের উপর ৬% সুদ দেওয়া হবে।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ