সহকারী অধ্যাপক
১২ মার্চ, ২০২৬ ০৬:০৪ অপরাহ্ণ
জাহান্নামের সতর্কতা - মোঃ মুজিবুর রহমান
জাহান্নামের সতর্কতা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
জাহান্নাম ওঁৎ পেতে আছে অন্ধকারের দ্বারে,
সীমালঙ্ঘনকারীর পথ শেষ হয় তারই পারে।
অবাধ্য প্রাণের জন্য সে ভয়াল প্রত্যাবর্তন,
অহংকারের অগ্নিপথে সেথা চূড়ান্ত অবতরণ।
যুগের পর যুগ তারা সেথা বন্দী হয়ে থাকবে,
অগ্নিঝরা শৃঙ্খলে দুঃখের দিনই কেবল ডাকবে।
না আছে সেথা শীতল ছায়া, না প্রশান্তি ধারা,
জ্বালা আর অনলবেগে দগ্ধ হবে দেহসারা।
পানীয় বলতে থাকবে শুধু ফুটন্ত অগ্নিজল,
পুঁজের মতো তিক্ত স্রোত, দুঃসহ বিষম ফল।
এ সবই তাদের কর্মফল, ন্যায়ের কঠোর বিধান,
পাপের পথেই তারা গড়েছিল নিজের অবসান।
কারণ তারা ভাবেনি কভু হিসাবের সে দিন,
যেদিন খুলবে আমলনামা, বিচার হবে ঋণ।
সত্যের ডাক তারা শুনেও ফিরিয়েছে মুখ,
অস্বীকারে ঢেকেছিল তারা আয়াতের আলোক।
প্রতিটি কাজ, প্রতিটি কথা লেখা আছে ঠিক,
লুকায় না কিছুই সেথা—সবই নথিভুক্ত লিখ।
যা করেছে মানুষ নিজেই, তাই হবে প্রতিফল,
ন্যায়ের পাল্লায় ওজন হবে প্রতিটি ক্ষুদ্র ফল।
তখন বলা হবে—“এবার স্বাদ নাও কর্মফল,
অহংকারের আগুন এখন হবে তোমার জল।”
আর আযাবের আগুন ধীরে ধীরে বাড়বে আরও,
পাপের পথে চলার ফলেই দগ্ধ হবে সারো।
তাই হে মানুষ! শোনো আজ সতর্ক বাণীখানি—
সত্যের পথে ফিরো তুমি, ত্যাগ করো অজ্ঞানী।
রবের আয়াত আলো হয়ে ডাকে অনন্ত পথ,
সেই আলোয় ফিরলে তবে রক্ষা পাবে রথ।
ন্যায়ের দিনে মুক্তি পাবে সৎকর্মের দল,
আর অবাধ্য পথিকেরা পাবে দুঃসহ ফল।
তাই আজই হৃদয় খুলে সত্যকে কর গ্রহণ,
নচেৎ জাহান্নামের আগুনই হবে চিরবাসস্থান।
***
জাহান্নামের সতর্কতা
জাহান্নাম ওঁৎ পেতে আছে অন্ধকারের দ্বারে,
সীমালঙ্ঘনকারীর পথ থামে তারই পারে।
অবাধ্য হৃদয় শেষে ফিরবে সেই ঠিকানায়,
যেখানে আগুন জ্বলে অবিরাম অশ্রুধারায়।
যুগের পর যুগ তারা থাকবে সেখানে বন্দী,
জ্বলন্ত অনলরাশি হবে তাদের ছায়াসঙ্গী।
না পাবে শীতল বাতাস, না প্রশান্তি ধারা,
আগুনের উত্তাপে দগ্ধ হবে দেহসারা।
পানীয় হবে শুধু ফুটন্ত অগ্নিধারা,
পুঁজমিশ্র তিক্ত স্রোত—ভয়ংকর সেই ধারা।
এ সবই তাদের কাজের উপযুক্ত প্রতিদান,
অন্যায়ের পথেই তারা গড়েছিল অবসান।
কারণ তারা ভাবেনি কোনো হিসাবের দিন,
যেদিন খুলবে আমলনামা—প্রকাশ পাবে ঋণ।
সত্যের আয়াত শুনেও ফিরিয়েছে মুখ,
অস্বীকারের আঁধারে ঢেকেছে আলোর সুখ।
প্রতিটি কাজ লেখা আছে সুনির্দিষ্ট করে,
গোপন কিছু থাকে না রবের অমল ঘরে।
বিচারের দিন সবই হবে প্রকাশিত তখন,
ন্যায়ের পাল্লায় মাপা হবে প্রতিটি কর্মগণ।
তখন বলা হবে—স্বাদ নাও আজ কর্মফল,
অবাধ্যতার আগুন এখন তোমাদেরই জল।
আর শাস্তির আগুন ধীরে বাড়বে দিন দিন,
পাপের বীজে জন্মাবে দুঃসহ অনল ঋণ।
তাই হে মানুষ! ফিরো আজ সত্যেরই পথে,
রবের ডাকে সাড়া দাও হৃদয়ের গভীরে।
আয়াতের আলো জ্বলে দয়ার আকাশতলে,
সেই আলোয় চললে তুমি মুক্তি পাবে ফলে।
সৎকর্ম যাদের সাথী, তারা পাবে শান্তি,
চিরসবুজ জান্নাতে মিলবে অনন্ত কান্তি।
আর যারা অবাধ্যতায় ডুবে থাকে অহরহ,
জাহান্নামের আগুনই হবে তাদের চিরদাহ।
***
জাহান্নামের সতর্কতা
(৩০–৪০ স্তবকের মহাকাব্যিক ইসলামী কাব্য)
জাহান্নাম ওঁৎ পেতে আছে অন্ধকারের দ্বারে,
সীমালঙ্ঘনকারীর পথ শেষ হয় তারই পারে।
অবাধ্য প্রাণের জন্য সে প্রত্যাবর্তন স্থান,
অহংকারের আগুনে সেথা জ্বলে দুঃসহ প্রাণ।
যুগের পর যুগ তারা সেথা অবস্থান করবে,
অগ্নির শিকলে বাঁধা প্রাণ কান্না শুধু ঝরবে।
না থাকবে শীতল বাতাস, না শান্তির ছায়া,
জ্বালাময় দগ্ধ তাপে হৃদয় হবে হায়া।
দেহ জুড়ে জ্বলবে অনল, দগ্ধ হবে প্রাণ,
ভয়াবহ সে আগুনে পুড়বে অহংকারের গান।
পানীয় হবে ফুটন্ত জল, দহনময় ধারা,
পুঁজের তিক্ত স্রোত বইবে যন্ত্রণারই পারা।
এ সবই তাদের কর্মের ন্যায্য প্রতিদান,
অন্যায়ের পথে তারা লিখেছিল অবসান।
কারণ তারা ভাবেনি কভু হিসাবের সে দিন,
যেদিন খুলবে আমলনামা—প্রকাশ পাবে ঋণ।
সত্যের আহ্বান শুনেও ফিরিয়েছে মুখ,
অস্বীকারে ডুবিয়েছে হৃদয়ের সব সুখ।
আল্লাহর আয়াত তারা করেছে উপহাস,
অহংকারে ঢেকেছে সত্যের উজ্জ্বল আভাস।
কিন্তু কিছুই হারায়নি সময়ের গহ্বরে,
সবই লেখা আছে ন্যায়ের অমল খাতায় ঘরে।
প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজ লিপিবদ্ধ রয়,
গোপন কিছু নেই সেখানে—সত্য প্রকাশ হয়।
যেদিন উঠবে বিচারসভা, খুলবে নথিপত্র,
মানবকর্ম প্রকাশ পাবে দিবালোকের মতো।
ন্যায়ের পাল্লায় ওজন হবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফল,
সত্যের দাঁড়িপাল্লা সেথা করবে ন্যায় বিকল।
তখন ধ্বনি উঠবে কঠোর ন্যায়বাণীর সুর,
“আজ স্বাদ নাও কর্মফল—শেষ হলো সব দূর।”
অবাধ্যতার ফল তখন আগুন হয়ে জ্বলে,
নিজ কর্মের শৃঙ্খল বাঁধে মানুষেরই গলে।
আযাবের আগুন ধীরে বাড়বে প্রতিক্ষণ,
দুঃসহ শাস্তির ঢেউ বইবে অন্তহীন জীবন।
কান্নার সুর উঠবে সেথা আগুনেরই মাঝে,
তবু মুক্তি মিলবে না আর পাপের দাহে সাজে।
অহংকারের প্রাসাদ সেথা ভেঙে যাবে ধূলি,
ক্ষমাহীন অনলে জ্বলবে অবাধ্যতার কুলি।
হাহাকার ভরবে আকাশ, তবু শেষ নাই দাহ,
অন্ধকারের গহ্বরে জ্বলবে অনন্ত চাহ।
হে মানুষ! শোনো আজ এই সতর্ক বাণী,
অহংকারের পথ ছেড়ে হও সত্যের জ্ঞানী।
রবের আয়াত আলো হয়ে ডাকে প্রতিক্ষণ,
সেই আলোয় জাগে মুক্তি, মুছে যায় বেদন।
সত্যের পথে চললে তুমি পাবে শান্তি ধারা,
অন্ধকারের আগুন সেথা ছুঁতে পারবে না আর।
তওবার অশ্রু ধুয়ে দেয় পাপের কালো দাগ,
রবের দয়ার সাগরে মুছে যায় সব ভাগ।
যে হৃদয়ে জ্বলে ঈমান সত্যের দীপশিখা,
তার পথ আলোকিত করে করুণারই দিশা।
সৎকর্ম যার সঙ্গী হয় জীবনের প্রতিক্ষণ,
বিচারের দিন তার মুখে ফুটবে প্রশান্তি রঙ।
জান্নাতের সবুজ বনে ফুটবে সুখের ফুল,
শান্তির নদী বইবে সেথা নির্মল স্নিগ্ধ কূল।
অমর সুখের দেশে সেথা থাকবে অনন্ত হাসি,
দুঃখের ছায়া ছুঁতে পারবে না কারওই বাসি।
কিন্তু যে হৃদয় অস্বীকারে থাকে অহরহ,
তার গন্তব্য অগ্নিপথ—দুঃসহ চিরদাহ।
তাই আজই ফিরো মানুষ সত্যেরই আহ্বানে,
রবের করুণার দ্বার খোলা দয়ারই টানে।
কারণ জীবন ক্ষণিক ধারা—শেষ হবে একদিন,
তখনই শুরু হবে চিরস্থায়ী বিচারদিন।
সেই দিনের আগে আগে শোধরাও সব পথ,
সত্যের আলোয় গড়ো তুমি জীবনেরই রথ।
আল্লাহর আয়াত জ্বালে অন্তরে আলোক,
সেই আলোয় হারিয়ে যায় অন্ধকারের শোক।
ন্যায়ের পথে যারা চলে ঈমানেরই ডাকে,
তাদের জন্য শান্তির সুখ চিরদিনই থাকে।
আর যারা সত্য ত্যাগে ডুবে থাকে অহংকারে,
জাহান্নামের আগুন জ্বলে তাদেরই দুয়ারে।
তাই হে মানুষ! জাগো আজ সত্যের আহ্বানে—
মুক্তির পথ লুকিয়ে আছে রবেরই কুরআনে।
***
জাহান্নামের সতর্কতা
জাহান্নাম ওঁৎ পেতে আছে অন্ধকার দ্বারে,
সীমালঙ্ঘনকারীর পথ শেষ তারই পারে।
অবাধ্য প্রাণের শেষে সেই ভয়াল ঠিকানা,
অহংকারের আগুন সেথা জ্বালে দুঃখগাথা।
যুগের পর যুগ তারা থাকবে সেই স্থানে,
অনলের শৃঙ্খলে বাঁধা দগ্ধ প্রাণের টানে।
না পাবে শীতল বাতাস, না প্রশান্তি ধারা,
দহনময় উত্তাপে কাঁদবে প্রাণ সারা।
আগুনের শিখা জ্বলে চতুর্দিকে ঘিরে,
যন্ত্রণার আর্তনাদ ওঠে অন্তহীন নীড়ে।
পানীয় হবে ফুটন্ত জল, দহনময় ঢেউ,
পুঁজের তিক্ত ধারা বয়ে আনে বিষাদ ঢেউ।
এ সবই তাদের কর্মের উপযুক্ত ফল,
নিজ হাতে বপন করা পাপের তিক্ত জল।
কারণ তারা ভাবেনি কভু হিসাবের দিন,
যেদিন খুলবে আমলনামা—প্রকাশ পাবে ঋণ।
সত্যের ডাক শুনেও ফিরিয়েছে মুখ,
অস্বীকারে ঢেকেছে হৃদয়ের আলো সুখ।
রবের আয়াত তারা করেছে উপহাস,
অহংকারে ঢেকেছে সত্যের উজ্জ্বল আভাস।
কিন্তু কিছুই হারায় না সময়ের অন্তরে,
সবই লেখা আছে ন্যায়ের অমল খাতায় ঘরে।
প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজ সংরক্ষিত রয়,
গোপন কিছু নেই সেখানে—সবই প্রকাশ হয়।
যেদিন উঠবে বিচারসভা মহান প্রভুর তলে,
মানুষের সব কর্ম তখন স্পষ্ট হয়ে বলে।
ন্যায়ের পাল্লায় ওজন হবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজ,
সত্যের দাঁড়িপাল্লা তখন দেবে ন্যায়ের সাজ।
তখন ধ্বনি উঠবে কঠোর ন্যায়বাণীর সুর—
“স্বাদ নাও আজ কর্মফল, শেষ হলো সব দূর।”
অবাধ্যতার ফল তখন আগুন হয়ে জ্বলে,
নিজ কর্মের শৃঙ্খল বাঁধে মানুষেরই গলে।
আযাবের আগুন ধীরে বাড়বে প্রতিক্ষণ,
যন্ত্রণার ঢেউ বইবে অন্তহীন জীবন।
কান্নার সুর উঠবে সেথা আগুনেরই মাঝে,
তবু মুক্তি মিলবে না আর পাপের দাহে সাজে।
অহংকারের প্রাসাদ সেথা ভেঙে হবে ধূলি,
অবাধ্যতার আগুন জ্বলে ভস্ম করে কূলি।
হাহাকার ভরবে আকাশ, তবু শেষ নাই দাহ,
অন্ধকারের গহ্বরে জ্বলে অনন্ত চাহ।
হে মানুষ! শোনো আজ সতর্ক বাণীখানি,
অহংকারের পথ ছেড়ে হও সত্যের জ্ঞানী।
রবের আয়াত আলো হয়ে ডাকে প্রতিক্ষণ,
সেই আলোয় জাগে মুক্তি, মুছে যায় বেদন।
সত্যের পথে চললে তুমি পাবে শান্তি ধারা,
অন্ধকারের আগুন সেথা ছুঁতে পারবে না আর।
তওবার অশ্রু ধুয়ে দেয় পাপের কালো দাগ,
রবের দয়ার সাগরে মুছে যায় সব ভাগ।
যে হৃদয়ে জ্বলে ঈমান সত্যের দীপশিখা,
তার পথ আলোকিত করে করুণারই দিশা।
সৎকর্ম যার সঙ্গী হয় জীবনের প্রতিক্ষণ,
বিচারের দিন তার মুখে ফুটবে শান্তির রঙ।
জান্নাতের সবুজ বনে ফুটবে সুখের ফুল,
শান্তির নদী বইবে সেথা নির্মল স্নিগ্ধ কূল।
অমর সুখের দেশে সেথা থাকবে অনন্ত হাসি,
দুঃখের ছায়া ছুঁতে পারবে না কারওই বাসি।
কিন্তু যে হৃদয় অস্বীকারে থাকে অহরহ,
তার গন্তব্য অগ্নিপথ—দুঃসহ চিরদাহ।
তাই আজই ফিরো মানুষ সত্যেরই আহ্বানে,
রবের করুণার দ্বার খোলা দয়ারই টানে।
জীবন ক্ষণিক নদীসম, থামবে একদিন,
তারপরই শুরু হবে অনন্ত বিচারদিন।
সেই দিনের আগে আগে শোধরাও সব পথ,
সত্যের আলোয় গড়ো তুমি জীবনেরই রথ।
রবের বাণী জ্বালে অন্তরে অনন্ত আলোক,
সেই আলোয় মুছে যায় অন্ধকারের শোক।
যারা চলে ন্যায়ের পথে ঈমানেরই ডাকে,
তাদের জন্য শান্তির সুখ চিরদিনই থাকে।
আর যারা সত্য ত্যাগে ডুবে থাকে অহংকারে,
জাহান্নামের আগুন জ্বলে তাদেরই দুয়ারে।
তাই হে মানুষ! জাগো আজ সত্যের আহ্বানে,
মুক্তির পথ লুকিয়ে আছে রবের কুরআনে।
সেই পথেই শান্তি, সেই পথেই আলো,
সেই পথে চললে মুছে যাবে অশান্তির কালো।
রবের করুণা ডাকে ভালোবাসার সুরে,
সত্যের আলো জ্বলে অনন্ত নূরের নূরে।
অতএব ফিরো সবাই ন্যায়ের পবিত্র দ্বারে,
জীবনের সফলতা লুকায় সেই পথধারে।
নচেৎ অগ্নির দেশে জ্বলবে অনন্ত ক্ষণ,
জাহান্নামের দাহ হবে অবাধ্যতার জীবন।
***
জাহান্নাম ওঁৎ পেতে আছে অন্ধকারের দ্বারে,
সীমালঙ্ঘনকারীর পথ থামে তারই পারে।
অবাধ্যতার পথিকেরা ফিরবে সেই ঠিকানায়,
অহংকারের আগুন জ্বলে দুঃখেরই গাথায়।
যুগের পর যুগ তারা সেথা থাকবে বন্দী,
অনলশিখা হবে তাদের চিরদিনের সঙ্গী।
না পাবে শীতল ছায়া, না প্রশান্তি ধারা,
দগ্ধ হবে অবিরত প্রাণের গভীর কারা।
জ্বলন্ত আগুন ঘিরে রাখে চারিধারের পথ,
দুঃসহ আর্তনাদ ওঠে দহনময় রথ।
পানীয় হবে ফুটন্ত জল অগ্নিতপ্ত ঢেউ,
পুঁজমিশ্র তিক্ত ধারা বিষাদময় বেউ।
এ সবই কর্মফল—ন্যায়ের কঠোর বিধান,
নিজ হাতে গড়া পাপেই লিখেছে অবসান।
কারণ তারা ভাবেনি কভু হিসাবের দিন,
যেদিন খুলবে আমলনামা—ফুটে উঠবে ঋণ।
সত্যের ডাক শুনেও ফিরিয়েছে তারা মুখ,
অস্বীকারের আঁধারে ঢেকেছে হৃদয় সুখ।
রবের আয়াতকে তারা করেছে উপহাস,
অহংকারে ঢেকেছে সত্যের দীপ্ত আভাস।
কিন্তু কিছুই হারায় না সময়ের অন্তরে,
সবই লেখা থাকে ন্যায়ের অমল খাতায় ঘরে।
প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজ সংরক্ষিত রয়,
গোপন কিছু নেই সেথা—সবই প্রকাশ হয়।
যেদিন উঠবে বিচারসভা মহান রবের তলে,
মানবকর্ম জেগে উঠবে দিবালোকের কলে।
ন্যায়ের পাল্লায় ওজন হবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফল,
সত্যের দাঁড়িপাল্লা দেবে বিচার অনল।
তখন ধ্বনি উঠবে কঠোর ন্যায়ের আহ্বান—
“আজ স্বাদ নাও কর্মফল, শেষ হলো অবমান।”
অবাধ্যতার আগুন তখন শিখা হয়ে জ্বলে,
নিজ কর্মের শৃঙ্খল পড়ে মানুষেরই গলে।
আযাবের আগুন ধীরে বাড়বে প্রতিক্ষণ,
দুঃসহ যন্ত্রণাধারা বইবে অনন্ত জীবন।
কান্নার ধ্বনি উঠবে সেথা অনলস্রোতের মাঝে,
তবু মুক্তি মিলবে না আর দুঃখের এই সাজে।
অহংকারের প্রাসাদ হবে ধূলিরই সমান,
অবাধ্যতার আগুনে জ্বলবে পাপের গান।
হাহাকার ভরবে আকাশ অন্তহীন আর্তিতে,
অগ্নির ঢেউ উঠবে দুঃখের কালো স্মৃতিতে।
হে মানুষ! শোনো আজ সতর্কতার বাণী,
অহংকারের পথ ছেড়ে হও সত্যের জ্ঞানী।
রবের আয়াত আলো হয়ে ডাকে প্রতিক্ষণ,
সেই আলোয় জাগে মুক্তি, মুছে যায় বেদন।
সত্যের পথে চললে তুমি পাবে শান্তিধারা,
অন্ধকারের আগুন সেথা ছুঁতে পারবে না আর।
তওবার অশ্রু ধুয়ে দেয় পাপের কালো দাগ,
রবের দয়ার সাগরে মুছে যায় সব ভাগ।
যে হৃদয়ে জ্বলে ঈমান সত্যের দীপশিখা,
তার পথ আলোকিত করে করুণারই দিশা।
সৎকর্ম যার সঙ্গী হয় জীবনের প্রতিক্ষণ,
বিচারের দিন তার মুখে ফুটবে শান্তির রঙ।
জান্নাতের সবুজ বনে ফুটবে সুখের ফুল,
শান্তির নদী বইবে সেথা নির্মল স্নিগ্ধ কূল।
অমর সুখের দেশে সেথা থাকবে অনন্ত হাসি,
দুঃখের ছায়া ছুঁতে পারবে না কারওই বাসি।
সোনালি প্রভাতে জ্বলবে নূরেরই দীপ,
করুণার বাগানে ফুটবে অনন্ত স্নিগ্ধ নীপ।
কিন্তু যে হৃদয় অস্বীকারে থাকে অহরহ,
তার গন্তব্য অগ্নিপথ—দুঃসহ চিরদাহ।
তাই আজই ফিরো মানুষ সত্যেরই আহ্বানে,
রবের করুণার দ্বার খোলা দয়ার টানে।
জীবন ক্ষণিক নদীসম থামবে একদিন,
তারপরই শুরু হবে অনন্ত বিচারদিন।
সেই দিনের আগে আগে শোধরাও সব পথ,
সত্যের আলোয় গড়ো তুমি জীবনেরই রথ।
রবের বাণী জ্বালে অন্তরে অনন্ত আলোক,
সেই আলোয় মুছে যায় অন্ধকারের শোক।
যারা চলে ন্যায়ের পথে ঈমানেরই ডাকে,
তাদের জন্য শান্তির সুখ চিরদিনই থাকে।
আর যারা সত্য ত্যাগে ডুবে থাকে অহংকারে,
জাহান্নামের আগুন জ্বলে তাদেরই দুয়ারে।
তাই হে মানুষ! জাগো আজ সত্যের আহ্বানে,
মুক্তির পথ লুকিয়ে আছে রবের কুরআনে।
সেই পথেই শান্তি, সেই পথেই আলো,
সেই পথে চললে মুছে যাবে অশান্তির কালো।
রবের করুণা ডাকে ভালোবাসার সুরে,
সত্যের আলো জ্বলে অনন্ত নূরের নূরে।
অতএব ফিরো সবাই ন্যায়ের পবিত্র দ্বারে,
জীবনের সফলতা লুকায় সেই পথধারে।
পাপের পথ আঁধারে ডাকে মৃত্যুরই গান,
সত্যের আলোয় জাগে মুক্তির সন্ধান।
ঈমান যার অন্তরে দীপ্ত নক্ষত্রসম,
তার জীবন আলোকিত হয় করুণারই কম।
দয়ার ছায়া পড়ে তার কর্মের আঙিনায়,
শান্তির বাতাস বয় জান্নাতের দিগন্তে যায়।
আর অবাধ্য হৃদয় যারা ঢাকে অহংকারে,
অগ্নির স্রোত বইবে তাদের নিয়তির দ্বারে।
জাহান্নামের শিখা জ্বলে সীমাহীন ক্রোধে,
অপরাধের ফল তখন দগ্ধ করে বোধে।
তাই আজই হৃদয় জাগাও সত্যের আহ্বানে,
তওবার অশ্রু ঝরাও করুণারই টানে।
রবের রহমত সাগরসম সীমাহীন দান,
সেই দয়ার ছায়ায় লুকায় মুক্তির সন্ধান।
যে হৃদয় নত হয় সত্যেরই দ্বারে,
তার জন্য জান্নাত হাসে অনন্ত আভারে।
কিন্তু যে হৃদয় ডুবে থাকে অবাধ্য অন্ধকারে,
জাহান্নামের আগুন জ্বলে তারই দুয়ারে।
তাই হে মানুষ! স্মরণ রেখো জীবনেরই ক্ষণ—
সত্যের পথে চলাই মুক্তির একমাত্র জীবন।
৪
৪ মন্তব্য