সহকারী শিক্ষক
১২ মার্চ, ২০২৬ ০২:৩১ অপরাহ্ণ
রোজা ভঙ্গের কাফফারা ( রমজান মাসে)
রোজা ভঙ্গের কাফফারা
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত—
এক ব্যক্তি মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে এসে বলল:
“হে আল্লাহর রাসুল! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি।”
রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন:
“কিসে তুমি ধ্বংস হলে?”
লোকটি বলল:
“আমি রমজানের রোজা অবস্থায় আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলেছি।”
তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন:
১. “তুমি কি একটি দাস (গোলাম) মুক্ত করতে পারবে?”
সে বলল: “না।”
২. তিনি বললেন: “তুমি কি টানা দুই মাস রোজা রাখতে পারবে?”
সে বলল: “না।”
৩. তিনি বললেন: “তুমি কি ষাটজন মিসকিনকে খাবার খাওয়াতে পারবে?”
সে বলল: “না।”
এরপর লোকটি বসে রইল। কিছুক্ষণ পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে একটি ঝুড়ি ভর্তি খেজুর আনা হলো।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন:
“এগুলো নিয়ে গরিবদের মধ্যে সদকা করে দাও।”
লোকটি বলল:
“হে আল্লাহর রাসুল! মদিনার দুই পাহাড়ের মাঝখানে আমার চেয়ে গরিব আর কেউ নেই।”
এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) এত হাসলেন যে তাঁর দাঁত দেখা গেল।
তিনি বললেন:
“তাহলে এগুলো তোমার পরিবারকে খাওয়াও।”
হাদিসের শিক্ষা
এই হাদিস থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়—
1️⃣ রোজা অবস্থায় সহবাস করা বড় গুনাহ এবং এতে রোজা ভেঙে যায়।
2️⃣ এর জন্য কাফফারা দিতে হয়, যার ধাপগুলো হলো—
একটি দাস মুক্ত করা
না পারলে টানা ৬০ দিন রোজা রাখা
তাও না পারলে ৬০ জন গরিবকে খাওয়ানো
3️⃣ ইসলাম মানুষের অক্ষমতাকে বিবেচনা করে সহজ সমাধান দেয়।
4️⃣ রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের প্রতি দয়া ও সহানুভূতির আচরণ করতেন।
৪
৪ মন্তব্য