প্রভাষক
১১ মার্চ, ২০২৬ ০৩:০১ অপরাহ্ণ
সেহরিতে বেশি পানি পান করার প্রভাব ও সঠিক নিয়ম
সেহরির শেষ মুহূর্তে বা আজানের ঠিক আগে ঢকঢক করে অতিরিক্ত পানি পান করার অভ্যাস উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। মানবদেহ উটের মতো পানি জমিয়ে রাখতে পারে না, তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি দ্রুত শরীর থেকে বের হয়ে যায়।
সেহরিতে বেশি পানি পান করার প্রভাব ও সঠিক নিয়ম নিচে বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো:
১. সেহরিতে অতিরিক্ত পানি পানের কুফল
দ্রুত তৃষ্ণা পাওয়া: অতিরিক্ত পানি পান করলে কিডনি তা শরীর থেকে দ্রুত বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে, ফলে ফজরের কিছুক্ষণ পরই আবার তৃষ্ণা অনুভব হতে পারে।
হজমে সমস্যা: খাবারের মাঝে বা ঠিক পরেই অনেক বেশি পানি খেলে পাকস্থলী ভারী হয়ে যায় এবং হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
শারীরিক অস্বস্তি: পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অস্বস্তিবোধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা ইবাদতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
২. সঠিক নিয়ম ও পরামর্শ
ধীরে ধীরে পান করা: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টাতে অল্প অল্প করে পানি পান করা সবচেয়ে কার্যকর। এতে শরীর পানি শোষণের পর্যাপ্ত সময় পায়।
পরিমাণ: সারারাত মিলিয়ে অন্তত ৮–১০ গ্লাস বা ২.৫ লিটার পানি পান করার চেষ্টা করুন।
পানির বিকল্প খাবার: সেহরিতে তরমুজ, শসা বা ডাবের পানির মতো পানীয় সমৃদ্ধ খাবার রাখতে পারেন যা দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
লবণ ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা: সেহরিতে বেশি লবণাক্ত বা মসলাযুক্ত খাবার খেলে তৃষ্ণা বেড়ে যায়। এ ছাড়া চা-কফি প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে শরীরকে পানিশূন্য করে তুলতে পারে।
৩. হাদিস ও সময়ের সতর্কতা
মুস্তাহাব সময়: সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময়ে সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব। তবে আজান শুরু হয়ে গেলে কোনো কিছু পান করা যাবে না, এতে রোজা ভেঙে যায়।
বিশ্রাম: সেহরি খেয়েই সাথে সাথে শুয়ে না পড়ে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করা ভালো, যা হজমে সহায়তা করে।
৪
৪ মন্তব্য