Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ মার্চ, ২০২৬ ০৮:৩৩ অপরাহ্ণ

অতিরিক্ত রাগ বয়স বাড়ার হার ত্বরান্বিত করতে পারে

একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কিশোর বয়সে প্রায়ই রাগ বা আগ্রাসী আচরণ দেখায়, তারা ৩০ বছর বয়সের মধ্যে দ্রুত বয়স বাড়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারে।

গবেষণাটি দেখায় যে, প্রাথমিক আবেগীয় ধরণ দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।


সম্প্রতি হেলথ সাইকোলোজি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় কিশোরবেলায় আগ্রাসনের সাথে অকাল জীববৈজ্ঞানিক বয়স বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।


গবেষকরা জানিয়েছেন, যারা কিশোর বয়সে আগ্রাসী আচরণ দেখিয়েছিল, তারা ৩০ বছর বয়সে দ্রুত জীববৈজ্ঞানিক বয়স বৃদ্ধির লক্ষণ প্রদর্শন করেছিল।


এই ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে, জীবনের প্রাথমিক সময়ে আবেগীয় আচরণ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই গবেষণার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শহুরে ও উপশহুরে এলাকায় ১২১ জন মধ্যম বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীদের ১৩ বছর বয়সে প্রথম পর্যবেক্ষণ শুরু হয় এবং তাদের আচরণের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।


এই পর্যবেক্ষণে মূলত যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল-


আগ্রাসী প্রবণতা

সম্পর্কের দ্বন্দ্ব

সামাজিক ও আবেগীয় সমস্যা

কিশোরবেলার সময় এই পর্যবেক্ষণ চলতে থাকে যাতে আচরণের ধরণ কিভাবে গড়ে ওঠে তা বোঝা যায়। ৩০ বছর বয়সের সময় অংশগ্রহণকারীদের রক্ত পরীক্ষা করে তাদের জীববৈজ্ঞানিক বয়স নির্ধারণ করা হয়।

জীববৈজ্ঞানিক বয়স মানে শরীরের কোষ ও টিস্যুর অবস্থা, যা কখনো কখনো ব্যক্তির প্রকৃত বয়সের চেয়ে বেশি হতে পারে।


পরীক্ষায় দেখা যায়, কিশোরবেলায় বেশি আগ্রাসী ছিলেন তারা প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে দ্রুত কোষীয় বয়স বৃদ্ধির লক্ষণ দেখিয়েছেন।


গবেষণায় আরেকটি উদ্বেগজনক প্রবণতাও দেখা গেছে। কিশোরবেলায় আগ্রাসী আচরণ দেখানো ব্যক্তিরা ৩০ বছর বয়সে বেশি ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকেন।


এটি নির্দেশ করে যে, প্রাথমিক জীবনের আচরণগত ও আবেগীয় চাপ পরবর্তীকালে শারীরিক ও মেটাবলিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

লিঙ্গ ও আর্থ-সামাজিক পার্থক্য


ছেলেদের মধ্যে দ্রুত বয়স বৃদ্ধির লক্ষণ তুলনামূলকভাবে বেশি। নিম্ন-আয়ের পরিবার থেকে আসা শিশুদের জীববৈজ্ঞানিক বয়স দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা বেশি।


গবেষকরা মনে করেন এটি কিশোরবেলায় আর্থিক চাপ ও সম্পর্কের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

পরিবার ও সামাজিক দ্বন্দ্বের ভূমিকা


গবেষণায় দেখা গেছে, ছেলেরা সাধারণত তাদের পিতার সঙ্গে বেশি দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়, যা কিশোরবেলায় আগ্রাসী প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, নিম্ন-আয়ের পরিবার থেকে আসা কিশোররা প্রায়শই বন্ধুদের প্রতি বেশি আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া দেখায়, যা পরিবেশগত ও সামাজিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত।


তবে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, শুধুমাত্র আগ্রাসী আচরণই দ্রুত বয়স বৃদ্ধির কারণ নয়। ঝুঁকি তখনই বৃদ্ধি পায় যখন এই আচরণ পরবর্তীতে সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করে।


গবেষকরা বলছেন, কিশোরদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও দ্বন্দ্ব সমাধানের দক্ষতা শেখানো গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর যোগাযোগ ও সম্পর্কের দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী চাপ কমানো এবং জীববৈজ্ঞানিক বয়স বৃদ্ধির প্রভাব কমানো সম্ভব।

মন্তব্য করুন

ব্লগ