সহকারী শিক্ষক
১০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:১২ অপরাহ্ণ
আবার আবেগ বার্সেলোনা হলেও পরীর পছন্দ রিয়াল মাদ্রিদ
আমার আবেগ বার্সেলোনা হলেও পরীর পছন্দ রিয়াল মাদ্রিদ!
আমার যে বয়স, তার তিন ভাগের এক ভাগও এখনো আমার মেয়ের হয়নি। অর্থাৎ বয়সে সে আমার অনেক ছোট। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় মনে হয়, সে যেন আমার চেয়েও বড়।
ও এখন ক্লাস সিক্সে পড়ে। অথচ আমি যখন সিক্সে পড়তাম, তখন কোনো ফুটবল টুর্নামেন্ট দেখার সুযোগই পাইনি। কোনো ফুটবলারকে ভালো লাগা, কোনো ক্লাবের প্রতি টান,এসবের কিছুই তখন আমার জীবনে ছিল না। সেই বয়সে আমার পৃথিবী ছিল শুধু একটু-আধটু ক্রিকেট—বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ভারত, অস্ট্রেলিয়ার খেলা দেখা।
ফুটবলের দর্শক হিসেবে আমার যাত্রা যেন সত্যিকারের শুরু হয় অনেক পরে, ১৯৯৮সালের বিশ্বকাপের পর। সেই সময়ই প্রথম আমার মনে গভীর ছাপ ফেলেছিলেন জিনেদিন জিদান। তাঁর খেলা, তাঁর ব্যক্তিত্ব—কেমন যেন মনে গেঁথে গিয়েছিল। তারপর ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে একসময় বার্সেলোনাকে খুব ভালো লেগে গেল।
রোনালদিনহোর জাদু আর মেসির বিস্ময়কর ফুটবল—এসব তো ছিলই, কিন্তু তার বাইরেও যেন ক্লাবটার প্রতি একটা অদ্ভুত টান তৈরি হয়ে গেল।
আজ আমার বয়সও কম নয়, জীবনের একটা দীর্ঘ পথ পার হয়ে এসেছি। তবুও আজও আমি বার্সেলোনার অন্ধভক্ত—হ্যাঁ, সত্যিকারের ভক্ত। এমনকি ২০০২ বা ২০০৬ সালের ব্রাজিল দলও আমাকে যতটা টানেনি, তার চেয়েও বেশি টানে বার্সেলোনা।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, আমার মেয়ে নাকি রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থক!
একই ঘরে থাকি, একই হাঁড়ির ভাত খাই—তবু আমি বার্সেলোনা, আর সে রিয়াল মাদ্রিদ। ভাবলে সত্যিই অবাক লাগে।
তবে একটা জায়গায় আমাদের মিল আছে। আমরা দুজনেই আসলে ক্লাবের চেয়েও বেশি ফুটবল ভালোবাসি। আমি যেমন বার্সেলোনার থেকেও বেশি ফুটবলকে ভালোবাসি, ঠিক তেমনই সেও।
বার্সেলোনার প্রতি তার কোনো আবেগ নেই, কোনো টান নেই—এমনকি মেসির প্রতিও না।
দেখি, ওর এই পছন্দটা কত দূর যায়। ওর বিশ্বাস, আগামী বছর এমবাপ্পে ব্যালন ডি’অর জিতবে। সত্যি বলতে কী, আমারও তাই মনে হয়—ওটা ওর প্রাপ্তি হতে পারে।
৪
৪ মন্তব্য