Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৯ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৫৪ অপরাহ্ণ

জান্নাতের শান্তি - মোঃ মুজিবুর রহমান

জান্নাতের শান্তি

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

জান্নাত-বাগানে ভোরের আলো, নূরের কোমল ঢেউ,

পাখির গোশ্‌তের সুস্বাদ ভোজে পূর্ণ সুখের ঢেউ।

যা কিছু চায় মন-বাসনা, মিলবে অনায়াসে,

রহমতের সে দিগন্ত খুলে হাসে পরশে পরশে।

ডাগরচোখা হূরেরা যেন মুক্তা-রক্ষিত দীপ,

পবিত্রতা জ্বলে তাদের মুখে, লাজে নত নীচ।

স্বচ্ছ যেন শামুক-মাঝে লুকানো শুভ্র রতন,

রবের দানে পূর্ণ হবে তাদের চির জীবন।

নেই সেখানে বেহুদা কথা, নেই পাপের ধ্বনি,

নেই কোনো হিংসা, দ্বেষ, কলহ, বিষাদ-গ্লানি।

শুধু শোনা যায় শান্তি-বাণী চারিদিকে থেমে—

সালাম, সালাম”—স্বর্গময় সে স্নিগ্ধ সুরের প্রেমে।

ডান দিকের দল, কত ভাগ্য তাদের অপরূপ,

নূরের পথে চলেছে তারা সৎকর্মের রূপ।

কাঁটাবিহীন কুলগাছতলে বিশ্রামের স্থান,

ছায়া ঘেরা কলাগাছে ভরে স্নিগ্ধ জান্নাত-বন।

ছায়া তার বিস্তৃত শীতল, শান্তির ছায়াতল,

সদা বহে স্বচ্ছ ধারা, জ্যোৎস্নার মতো জল।

ফলভরা ডালে ডালে ঝুলে অসীম দানের ফল,

শেষ নেই তাতে, নিষেধ নেই—অপরূপ অনল।

সুউচ্চ শয্যায় শায়িত তারা সুখের আবেশে,

নূরের স্বপ্ন জেগে থাকে চির শান্তির দেশে।

রবের কুদরতে সৃষ্টি হবে হূরের অপরূপ রূপ,

কুমারী, সোহাগিনী তারা—সৌন্দর্যের রূপ।

সমবয়সী স্নিগ্ধ হাসি, প্রেমের মধুর ঢেউ,

নব সৃষ্টির সৌরভে ভরে জান্নাতের সেই নেউ।

ডানদিকের সৎ বান্দাদের পুরস্কার সে ধন,

নেক আমলের ফল যে এটি—রবের অমৃত মন।

হে মানুষ, জাগো হৃদয় নিয়ে সৎপথের আহ্বান,

এ দুনিয়ার ক্ষণিক সুখে যেন না হয় অবহান।

যে চলবে রবের পথে নত বিনয়ের প্রাণে—

তারই জন্য জান্নাত হাসে অনন্ত কল্যাণে।

 ***

জা**ন্নাতের শান্তির বাগান**

পাখির কোমল সুস্বাদ মাংস, যাহা মন চায় প্রাণ,

মিলবে সেথা অনায়াসে—রবের অশেষ দান।

ইচ্ছার মতো সাজানো সব সুখের রঙিন ভোর,

চির আনন্দে ভরে থাকে জান্নাতের সে ঘর।

ডাগরচোখা হূর যেন লাজে ঢাকা দীপ্ত মুক্তা,

পবিত্রতার আলো ঝরে, স্নিগ্ধ তাদের যুক্তা।

মুক্তার মতো রক্ষিত তারা, নির্মল রূপ-হাসি,

রবের দানে ভরা তাদের সৌন্দর্যের বাতাসি।

নেই সেখানে মিথ্যা বচন, নেই পাপের ছায়া,

নেই কোনো কটু ভাষা, নেই অশান্তির মায়া।

চারিদিকে শুধু শোনা যায় শান্তির মধুর ধ্বনি—

সালাম, সালাম”—ভাসে যেন নূরের গীতধ্বনি।

ডান দিকের দল—কত সুখে ভরা তাদের ভাগ্য,

সৎ আমলে উজ্জ্বল হয়েছে তাদের জীবনযাত্রা।

কাঁটাবিহীন কুলগাছতলে শান্তির শীতল ছায়া,

কলাগাছে ফলের ভারে নত জান্নাতের মায়া।

বিস্তৃত ছায়া নেমে আসে প্রশান্তি হয়ে ধরা,

স্বচ্ছ জলের ধারা বয় অনন্ত সুধা ভরা।

নিরবধি ফলের বাগান সুবাস ছড়ায় দূরে,

শেষ নেই তার, নিষেধ নেই—দয়া ঝরে সুরে।

সুউচ্চ শয্যা সাজানো নূরের কোমল আলোয়,

শান্তির ঢেউ ঘিরে থাকে প্রেমের মধুর ঢালায়।

সেখানে রব সৃষ্টি করবেন অপার লাবণ্যে ভরা—

হূরদের নতুন সৌন্দর্য, নির্মল আলোকধারা।

কুমারী তারা, সোহাগিনী, সমবয়সী স্নিগ্ধ,

চিরযৌবন দীপ্ত তাদের স্বর্গীয় হাসি নিগূঢ়।

ডানদিকের নেক বান্দাদের সম্মান সেই ধন,

রবের দয়া—সৎকর্মের অনন্ত প্রতিদান।

হে মানুষ, স্মরণ করো রবের করুণা দান,

ক্ষণিক দুনিয়া ছেড়ে খোঁজো অনন্তের সন্ধান।

যে চলে সত্যের পথে ঈমান ভরা প্রাণে—

তারই জন্য জান্নাত হাসে অনন্ত কল্যাণে।

৩***

**জান্নাতের নূর-উদ্যান**

নূরের ভোরে খুলে যায় স্বর্গের সোনার দ্বার,

রহমতের হাওয়া বয়ে দেয় শান্তির অপার।

পাখির মাংস সাজানো সেথা বাসনার তরে,

যা চায় মন মুমিনের—মেলে সুখ ভরে।

রঙিন থালে নিয়ামত ঝরে অনন্ত দানে,

রবের রহম ঢেউ তোলে জান্নাতের গানে।

ডাগরচোখা হূর সেথা মুক্তার মতো শোভা,

লাজে ঢাকা দীপ্ত রূপে জ্বলে নূরের ঔজ্জ্বলা।

যেন তারা রক্ষিত মুক্তা সাগরের অন্তর,

পবিত্রতার সুবাসে ভরে জান্নাতের ঘর।

সেখানে নেই মিথ্যা বাণী, নেই পাপের ছায়া,

নেই কোনো কলহ কিংবা অশান্তির মায়া।

চারিদিকে ভেসে আসে শান্তির আহ্বান—

সালাম, সালাম”—ধ্বনিতে জাগে জান্নাতি গান।

ডান দিকের সৌভাগ্যবান দীপ্ত তাদের পথ,

সৎকর্মের আলো জ্বেলে পেরিয়েছে রথ।

কাঁটাবিহীন কুলগাছে নত শীতল ছায়া,

কলাগাছে ফলের ভারে ঝরে সুখের মায়া।

বিস্তৃত সেই ছায়াতলে প্রশান্তি নেমে রয়,

স্নিগ্ধ বাতাস ছুঁয়ে যায় শান্তির আবেশময়।

স্বচ্ছ জলের ধারা বয় অনন্ত কলতানে,

সুধা যেন ঝরে পড়ে রহমতের টানে।

ফলভরা বাগান ভরা অফুরন্ত দান,

শেষ নেই তার, নিষেধ নেই—অশেষ সম্মান।

সুগন্ধি ফল নত হয়ে ডাকে মধুর সুরে,

এসো মুমিন, স্বাদ নাও—রবের দয়ার নূরে।”

সুউচ্চ শয্যা সাজানো নরম আলোয় ভরা,

শান্তির ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে নূরের ধারা ধরা।

রবের কুদরতে সৃষ্টি হবে অপার রূপময়ী,

হূরদের নব সৌন্দর্যে জান্নাত সুশোভিত হয়।

কুমারী তারা চিরতরুণ সোহাগে ভরা প্রাণ,

সমবয়সী সঙ্গিনী হয়ে জাগে প্রেমের গান।

নির্মল হাসি ছড়িয়ে দেয় সুখের দীপ্ত আলো,

চিরযৌবন দীপ্তিতে মুছে যায় সব কালো।

ডানদিকের নেক বান্দারা পাবে সে সম্মান,

সৎ আমলের প্রতিদান—রবের অফুরান।

তাদের মুখে জ্বলবে নূর সাফল্যের আলো,

দুনিয়ার সব কষ্ট সেথা হারিয়ে যাবে ভালো।

না থাকবে ভয়, না থাকবে শোকের কোনো ছায়া,

শুধু সুখের নদী বয়ে শান্তির মধুমায়া।

সুবাসিত বাতাস বয়ে বাগান ভরে রয়,

নূরের ফুল ফুটে থাকে অনন্ত সুখময়।

সেখানে নেই মৃত্যু আর নেই বিদায়ের ক্ষণ,

চিরস্থায়ী শান্তির মাঝে জাগে অনুক্ষণ।

হে মানুষ, স্মরণ করো সেই অনন্ত ধন,

নেক আমলে গড়ো তুমি জান্নাতের জীবন।

রবের পথে যারা চলে ঈমান ভরা প্রাণে,

তাদের তরে স্বর্গ হাসে অনন্ত কল্যাণে।

সত্যপথের দীপ জ্বালো হৃদয়ের অন্তর,

তাহলেই খুলে যাবে জান্নাতের সোনার ঘর।

রহমতের সেই বাগানে ডাকছে অনন্ত আলো—

এসো মুমিন, এসো সুখে”—স্বর্গের নূর ঢালো।

মন্তব্য করুন

ব্লগ