Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৯ মার্চ, ২০২৬ ০৭:৫০ পূর্বাহ্ণ

কোন রাতে হবে শবে কদর

শবে কদর বা লাইলাতুল কদর কোন নির্দিষ্ট একটি রাতে হবে, তা কোরআন বা হাদিসে সুনির্দিষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়নি। তবে হাদিসের আলোকে এই মহিমান্বিত রাতটি চেনার এবং পাওয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শবে কদরের সম্ভাব্য সময় ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। শেষ দশকের বেজোড় রাতসমূহ: রমজানের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ এবং ২৯তম রাত (অর্থাৎ ২০, ২২, ২৪, ২৬ এবং ২৮তম রোজার দিবাগত রাত)।
সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় রাত: অধিকাংশ আলেম এবং ওলামাদের মতে, রমজানের ২৭তম রাত (২৬শে রমজান দিবাগত রাত) শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। নবী করিম (সা.) নিজেও ২৭তম রাতের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বলে হাদিসে বর্ণিত আছে।
পুরো শেষ দশক: অনেকে মনে করেন, শুধু বেজোড় রাত নয়, বরং রমজানের শেষ ১০ দিনের যেকোনো রাতেই শবে কদর হতে পারে। 
এই রাতটি কেন নির্দিষ্ট করা হয়নি?
হাদিস অনুযায়ী, মহানবী (সা.) সাহাবিদের শবে কদরের নির্দিষ্ট তারিখটি জানাতে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু পথে দুজন মুসলমানের ঝগড়া মেটাতে গিয়ে তিনি সেই তারিখটি ভুলে যান (বা আল্লাহ তাঁকে ভুলিয়ে দেন)। এটি উম্মতের জন্য রহমত স্বরূপ, যাতে মুমিন বান্দারা একটি রাতের ওপর নির্ভর না করে শেষ ১০টি রাতই ইবাদতে মশগুল থাকে। 
শবে কদর চেনার কিছু আলামত
হাদিস অনুযায়ী শবে কদরের কিছু প্রাকৃতিক লক্ষণ রয়েছে:
রাতটি খুব বেশি গরম বা খুব বেশি ঠান্ডা হবে না, আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ থাকবে।
সকালে সূর্য উদিত হবে অনেকটা উজ্জ্বল ও স্নিগ্ধ হয়ে, যাতে কোনো প্রখর কিরণ থাকবে না।
আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং বাতাস থাকবে শান্ত ও মনোরম। 
এই রাতের ফজিলত
কোরআন মাজিদে এই রাতকে 'হাজার মাসের চেয়েও উত্তম' বলা হয়েছে।
এ রাতে হযরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ কোরআন লওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়।
মুমিনদের ভাগ্য ও পরবর্তী এক বছরের রিযিক নির্ধারণের দায়িত্ব ফেরেশতাদের হাতে ন্যস্ত করা হয়।
সঠিকভাবে ইবাদত করলে পূর্বের সমস্ত সগিরা গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ