সহকারী অধ্যাপক
০৮ মার্চ, ২০২৬ ০৫:৫৫ অপরাহ্ণ
জান্নাতের অমল বাগানে - মোঃ মুজিবুর রহমান
জান্নাতের অমল বাগানে
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
জান্নাতের বাগানে ফলের অফুরান ধারা,
প্রতিটি ডালে ডালে দ্বিগুণ রঙের সারা।
মধুর স্বাদে ভরা নানান ফলের সম্ভার—
কোন্ নিআমত তবে করবে অস্বীকার?
দুই রূপে ফলে ফলে নেমে আসে দান,
করুণাময়ের দয়া—অপরিসীম প্রাণ।
দেখে সেই অপার রহমতের উপহার,
কোন্ নিআমত তবে করবে অস্বীকার?
পুরু রেশমে মোড়া জান্নাতি বিছানা,
আরামের ঢেউ যেন নীরব গান গানা।
হেলান দিয়ে বসে মুমিন সুখসাগর পার—
কোন্ নিআমত তবে করবে অস্বীকার?
চারিধারে ঝুঁকে পড়ে ফলের ডালপালা,
হাতে বাড়ালেই যেন পেয়ে যায় নিরালা।
কাছে এসে ডাকে সুধা-ভরা উপহার—
কোন্ নিআমত তবে করবে অস্বীকার?
সেখানে লাজভরা জান্নাতি রমণী,
দৃষ্টি রাখে কেবল স্বামীর পানে ধনী।
পবিত্রতার দীপ জ্বলে তাদের অন্তর—
কোন্ নিআমত তবে করবে অস্বীকার?
মানুষ কিংবা জিন—কেউ ছুঁয়নি আগে,
অমল ফুলের মতো সতীত্ব তাদের রাগে।
নির্মল তাদের রূপ, স্বর্গীয় অহংকার—
কোন্ নিআমত তবে করবে অস্বীকার?
হীরার মতো দীপ্ত, প্রবালের মতো লাল,
তাদের রূপে ঝরে জান্নাতেরই জ্যোৎস্নাজাল।
দেখে মুগ্ধ হয় হৃদয় অপরিসীম পার—
কোন্ নিআমত তবে করবে অস্বীকার?
যে করে সৎকর্ম ভরে ঈমানের আলো,
তারই জন্য সেথা সুখের সীমা ভালো।
উত্তম কাজের ফল উত্তমই উপহার—
কোন্ নিআমত তবে করবে অস্বীকার?
করুণাময়ের দান অপরূপ অপরিসীম,
তার রহমতে ভরে জান্নাতের প্রতীম।
মুমিন হৃদয় গায় কৃতজ্ঞতার ঝংকার—
কোন্ নিআমত তবে করবে অস্বীকার?
হে মানুষ ও জিন, শোনো সেই আহ্বান—
রবের দয়ার নেই কোনো অবসান।
সেজদায় নত হয়ে বলি বারংবার—
কোন্ নিআমত তবে করব অস্বীকার?
***
***জান্নাতের অনুপম নিআমত**
জান্নাত-বাগানে ফলে ফলে নূরের আলো,
প্রতিটি শাখায় ঝুলে দ্বিগুণ রঙের ফল ভালো।
মধুর সুবাসে ভরে সুধাময় সেই অঙ্গন—
বল তবে, কোন্ নিআমত করবে অস্বীকার মন?
ডাল ভরা ফল যেন দয়ার অফুরান ঢেউ,
করুণাময়ের রহমত ঝরে নিত্য নতুন ঢেউ।
স্বর্গীয় সুখে ভরা সে অপরূপ উদ্যান—
বল তবে, কোন্ নিআমত করবে অস্বীকার প্রাণ?
পুরু রেশম-মোড়া বিছানা নরম আলোয়,
মুমিনেরা হেলান দিয়ে শান্ত সুখের ঢলয়ে।
আরামের তরঙ্গে ভাসে হৃদয়ের সংসার—
বল তবে, কোন্ নিআমত করবে অস্বীকার?
ফলভরা শাখাগুলি ঝুঁকে আসে কাছে,
হাত বাড়ালেই যেন মধুর ফলটি আছে।
স্বর্গের সেই দান অশেষ অনুপম উপহার—
বল তবে, কোন্ নিআমত করবে অস্বীকার?
সেখানে লাজভরা জান্নাতি পবিত্রা,
স্বামীর প্রতি নিবদ্ধ তাদের দৃষ্টি-মিত্রা।
সতীত্বে দীপ্ত তারা নির্মল মুক্তার হার—
বল তবে, কোন্ নিআমত করবে অস্বীকার?
মানুষ কিংবা জিন—কেউ ছুঁয়নি আগে,
অমল কুসুম যেন সৌন্দর্যের রাগে।
পবিত্র রূপে তারা স্বর্গের শোভাধার—
বল তবে, কোন্ নিআমত করবে অস্বীকার?
হীরার মতো দীপ্ত, প্রবালের মতো লাল,
তাদের রূপে ঝরে নূরের অপরূপ জাল।
দেখে মুগ্ধ হয় হৃদয়, থেমে যায় সংসার—
বল তবে, কোন্ নিআমত করবে অস্বীকার?
যে করে সৎকর্ম, রাখে ঈমান জাগ্রত,
তারই জন্য জান্নাত—সুখের দ্বার উন্মুক্ত।
উত্তম কাজের ফল উত্তমই যে উপহার—
বল তবে, কোন্ নিআমত করবে অস্বীকার?
করুণাময়ের দান অপরূপ অপার,
তার রহমতে ভরে জান্নাতের উদ্যানধার।
মুমিন প্রাণে জাগে কৃতজ্ঞতার সুরধার—
বল তবে, কোন্ নিআমত করবে অস্বীকার?
হে মানুষ ও জিন, শুনো রবের আহ্বান,
তার দয়ার নেই কোনো সীমা বা অবসান।
সেজদায় নত হয়ে বলি বারংবার—
কোন্ নিআমত তবে করব অস্বীকার?
***
জান্নাতের অপরূপ নিআমত
জান্নাতের বাগানে ফলে দ্বিগুণ রঙের দান,
করুণাময়ের রহমত ভরে সুধাময় প্রাণ।
ডালে ডালে ঝুলে আছে রঙিন ফলের সার,
বল তবে কোন্ নিআমত করবে অস্বীকার?
মধুর ঘ্রাণ ভেসে আসে নূরের মতো ঢেউ,
রবের দয়ার সীমা খুঁজে পায় না কেউ।
দুই প্রকার ফল সেখানে অনন্ত উপহার,
বল তবে কোন্ নিআমত করবে অস্বীকার?
রেশমি আস্তরণে মোড়া জান্নাতি শয্যা,
শান্তির সাগর বয়ে দেয় সুখের মহাযজ্ঞ।
হেলান দিয়ে মুমিনেরা হাসে অপরূপ,
আনন্দধারায় ভাসে তাদের সোনার রূপ।
শাখা নত হয়ে দেয় ফলের সম্ভার,
বল তবে কোন্ নিআমত করবে অস্বীকার?
হাত বাড়ালেই মেলে সুধাভরা ফল,
স্বর্গীয় সুখ যেন শান্ত নীল আকাশতল।
চারিধারে ছড়ায় সুখ অপরূপ আভা,
দয়াময়ের দানে ভরে জান্নাতের সাভা।
পবিত্রা রমণীরা লাজে নত দৃষ্টি,
স্বামীর প্রেমে নিবদ্ধ তাদের চির সৃষ্টি।
মানুষ বা জিন কেউ ছোঁয়নি তাদের আগে,
নির্মল ফুল যেন নীরব লাজে জাগে।
হীরা যেন দীপ্তিময় রূপের ঐশ্বর্য,
প্রবালের লালে ঝরে জান্নাতি সৌরভ।
তাদের হাসি যেন মুক্তার ঝরনা,
স্বর্গের আলোয় ভরে সুখের অঙ্গনা।
রবের দানে জাগে চির শান্তির ঢেউ,
এই অনুগ্রহের তুলনা কোথাও নেই।
মুমিন হৃদয়ে জ্বলে কৃতজ্ঞতার দীপ,
আল্লাহর দয়া ভরে অনন্ত অনুপম সীপ।
যে করে নেক আমল ঈমানের আলোয়,
তারই জন্য জান্নাত সুখধারা ঢালোয়।
উত্তম কর্মের ফল উত্তমই যে হয়,
রবের বিধান চির ন্যায়ভরা জয়।
সেখানে নেই কোনো দুঃখ বা অশ্রু,
চির সুখের নীড়ে থাকে শান্তির বস্তু।
ঝর্ণাধারা বয়ে যায় স্বচ্ছ সুধাজল,
সেই জলে ধুয়ে যায় সব ক্লান্তি অবিচল।
বাগানের বাতাসে মধুর সুরের ঝংকার,
বল তবে কোন্ নিআমত করবে অস্বীকার?
স্বর্ণালী আলোয় ভরা জান্নাতের পথ,
মুমিন প্রাণে জাগে অনন্ত সুখরথ।
ফুলের সুবাসে ভরে শান্তির উদ্যান,
করুণাময়ের দয়া—অসীম অবিরাম।
আকাশে জ্বলে যেন নূরের দীপ্ত তার,
বল তবে কোন্ নিআমত করবে অস্বীকার?
সেই সুখের দেশে নেই কোনো অবসাদ,
শান্তির ছায়ায় ভরে মুমিনের সব সাধ।
রবের দয়া সেখানে চির অবারিত,
আনন্দধারায় হৃদয় থাকে সিক্ত।
মুমিনেরা গায় সেথা কৃতজ্ঞতার গান,
রবের দয়ার নেই কোনো অবসান।
সেজদায় নত হয় প্রেমভরা হৃদয়,
আল্লাহর রহমতে জাগে শান্তির জয়।
সেই স্বর্গরাজ্য দয়াময়ের উপহার,
বল তবে কোন্ নিআমত করবে অস্বীকার?
মানুষ ও জিন শোনো করুণার বাণী,
রবের দয়া চির অমল, চির অজানি।
কৃতজ্ঞ প্রাণ বলে বারংবার আবার—
রবের কোনো নিআমত করব না অস্বীকার।
৪
৪ মন্তব্য