Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ মার্চ, ২০২৬ ০৩:৫৭ অপরাহ্ণ

জান্নাতের সবুজ নীড় - মোঃ মুজিবুর রহমান

  

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

জান্নাতের সবুজ নীড়

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

আরও দুটি জান্নাত আছে রহমতের অপরূপ দান,

রবের করুণা ঝরে তাতে সীমাহীন সম্মান।

তবে বলো হে মানব-জিন, হৃদয় খুলে বলো আজ—

রবের কোন্ নিআমত তুমি করবে তবে অস্বীকার আজ?

সেই বাগান গাঢ় সবুজে শান্তির নীরব ছায়া,

দয়াময়ের কৃপাধারা সেখানে ঝরে মায়া।

আবারও ধ্বনি ওঠে আসমান ভরা সুরে—

রবের কোন্ নিআমত তুমি অস্বীকার করো ক’রে?

অবিরাম ঝর্ণাধারা বয়ে যায় স্নিগ্ধ তানে,

স্বর্গীয় সুরে জলে বাজে প্রশান্তির গোপন গানে।

সেই সুধাধারার তটে জিজ্ঞাসা আসে আবার—

রবের কোন্ নিআমত তুমি করবে তবে অস্বীকার?

ফলভরা শাখা নত, দোলে খেজুর আনার,

সুগন্ধ ভেসে আসে জান্নাতি উদ্যানপার।

প্রতিটি দানে উচ্চারিত কুদরতের আহ্বান—

রবের কোন্ নিআমত তুমি অস্বীকার করো প্রাণ?

সেখানে আছে চরিত্রে পবিত্র অনিন্দ্য রূপবতী,

লজ্জার পর্দায় ঢাকা জান্নাতি সুশোভিত সতী।

তাঁবুর মাঝে তারা থাকে শান্তির সুরক্ষায়,

পূর্বে যাদের স্পর্শ করেনি মানুষ কিংবা জিনের ছায়া।

সবুজ বালিশে হেলে তারা শান্ত সুখের ভঙ্গি,

কারুকার্যখচিত গালিচায় দীপ্ত জান্নাতি রঙী।

সেই সুখময় দৃশ্যেও ধ্বনি উঠে আবার—

রবের কোন্ নিআমত তুমি করবে তবে অস্বীকার?

হে মানুষ, হে জিন, ভেবে দেখো হৃদয়ের গভীরতায়,

এই সকল দান তো কেবল দয়াময়ের মেহেরবানায়।

তাই কৃতজ্ঞ প্রাণে বলি আমরা নতশিরে আবার—

হে রব, তোমার কোন্ নিআমত করব আমরা অস্বীকার?

 ***

**জান্নাতের চার উদ্যান**

আরো দুটি জান্নাত আছে রহমতের অপার,

রবের দানে জ্বলে ওঠে অনন্ত সৌন্দর্যধার।

স্বর্গবাগান সবুজ ঘেরা শান্তিমাখা ছায়া,

রহমতের সুবাস ভেসে ছুঁয়ে যায় হিয়া।

গাঢ় সবুজ পাতার তলে নূরের আলো ঝরে,

চিরসুখের গান বাজে পাখির সুরের ঘরে।

আসমানী সে ডাকে শোনা যায় ধ্বনি বারবার—

রবের কোন্ নিআমত তবে করবে তুমি অস্বীকার?

দুটি ঝর্ণা ধারা বয় অবিরাম কলতান,

স্বচ্ছ জলে ফুটে ওঠে জান্নাতি সুরগান।

সুধাধারা ঝরে পড়ে শান্ত নদীর তীরে,

দেখে মন হারায় সুখের সীমাহীন নীড়ে।

খেজুর দোলে শাখা ভরে, আনার হাসে লাল,

ফলভারে নত ডালে ঝরে মধুর রঙিন জাল।

বাগানজুড়ে দয়ার ছোঁয়া অনন্ত আশীর্বাদ,

সেই দৃশ্যে মুগ্ধ হয়ে কাঁপে হৃদয়বাদ।

আবার শোনা যায় তখন প্রশ্ন গভীর সুরে—

রবের কোন্ নিআমত তুমি অস্বীকার করো ক’রে?

সেই জান্নাতে থাকবে স্নিগ্ধ লাজুক রূপসী,

পবিত্রতার দীপ্তিতে তারা চির আলোকরাশি।

নূরের মতো মুখশ্রী তাদের স্নিগ্ধ আলো ছড়ায়,

লজ্জার আভা তাদের চোখে শান্তি হয়ে ঝরায়।

তাঁবুর মাঝে থাকে তারা মর্যাদার প্রাচীরে,

স্বর্গীয় সুরক্ষার ছায়া তাদের চারিধারে।

মানুষ কিংবা জিনের স্পর্শ পায়নি আগে কভু,

পবিত্রতার মালা গাঁথা তাদের প্রতিটি রূপ।

সবুজ বালিশে হেলে তারা সুখের আলোয় ভাসে,

কারুকাজে বোনা গালিচা শান্ত রঙে হাসে।

বেহেশতি সে রূপ দেখে বিস্ময় জাগে প্রাণে,

নূরের ঢেউ ওঠে যেন স্বর্গীয় সন্ধ্যাবেলায় গানে।

চারটি বাগান চারদিকে রহমতের উৎস,

আল্লাহর দানে সেখানে নেই কোন অভাব-দুঃখ।

শান্তির বাতাস বয়ে যায় রহমতের আঙিনায়,

সুখের আলো জ্বলে ওঠে প্রতিটি ফুলের ছায়ায়।

অশেষ দানের সাক্ষী সেই সবুজ জান্নাতভূমি,

সেখানে নেই দুঃখের ছায়া, নেই কোন ভ্রান্ত ভূমি।

সেই দৃশ্যের মাঝখানে ওঠে আসমানী আহ্বান—

রবের কোন্ নিআমত তুমি অস্বীকার করো প্রাণ?

হে মানুষ হে জিন, শোনো করুণাময়ের বাণী,

তার দয়া ছাড়া নেই তো কারও জীবনের টানি।

তিনি দান করেন সুখ, তিনি দেন আলোর দিশা,

তার রহমতেই ভরে ওঠে জান্নাতি সব আশা।

সেই মহাদয়ালুর দান অগণিত অপরিসীম,

তার করুণার সামনে ক্ষুদ্র এই পৃথিবী ভীম।

তাই তো হৃদয় নত হয়ে বলে বিনীত কণ্ঠে—

হে রব, তোমার দান ভুলি কেমন করে অন্তরে?

সকল সুখের উৎস তুমি, সকল দয়ার ধারা,

তোমার রহমতে খুলে যায় জান্নাতের দ্বার।

তাই কৃতজ্ঞ প্রাণে বলি নত হয়ে বারবার—

হে দয়াময় রব, কোন্ নিআমত করব অস্বীকার?

 ***

জান্নাতের সবুজ স্বপ্ন

আরো আছে জান্নাত দুই—রহমতের নূরভরা,

শান্তির সাগর ঢেউ তোলে করুণারই ধারা।

আসমান ভরা ধ্বনি ওঠে মধুর আহ্বানভর—

রবের কোন্ নিআমত বলো করবে তুমি অস্বীকার?

গাঢ় সবুজ ছায়া ঢাকে স্বর্গীয় সেই বাগান,

পাতায় পাতায় নূর ঝরে আলোকিত উদ্যান।

স্নিগ্ধ বাতাস গেয়ে ওঠে প্রশান্তিরই সুর—

রবের কোন্ নিআমত তবে করবে তুমি দূর?

অবিরত ঝর্ণাধারা বয় সুধাময় তানে,

স্বচ্ছ জলের গানে জাগে জান্নাতি কলগানে।

তারই ধ্বনিতে আবার শোনা যায় মধুর উচ্চার—

রবের কোন্ নিআমত তবে করবে তুমি অস্বীকার?

ফলভরা শাখা নত হয় রহমতেরই ছোঁয়ায়,

খেজুর দোলে মধুময় হাওয়ার স্নিগ্ধ ছায়ায়।

লাল আনার হাসে যেন রঙিন সুখের পার—

রবের কোন্ নিআমত বলো করবে তুমি অস্বীকার?

সেই উদ্যানের মাঝে আছে পবিত্র রূপবতী,

চরিত্রে নির্মল তারা স্বর্গীয় মহিমাবতী।

লজ্জার পর্দায় ঢাকা স্নিগ্ধ সৌন্দর্যধার—

রবের কোন্ নিআমত বলো করবে তুমি অস্বীকার?

তাঁবুর মাঝে থাকে তারা মর্যাদারই ছায়ায়,

স্বর্গীয় নিরাপত্তা তাদের চারিধার ঘিরায়।

মানুষ বা জিন স্পর্শ করেনি তাদের আগে আর—

রবের কোন্ নিআমত বলো করবে তুমি অস্বীকার?

সবুজ বালিশে হেলে তারা সুখের আলোয় ভাসে,

কারুকাজে বোনা গালিচা শান্ত রঙে হাসে।

স্বর্গের সুখের ছবি দেখে মুগ্ধ জগতপার—

রবের কোন্ নিআমত বলো করবে তুমি অস্বীকার?

হে মানুষ, হে জিন, ভাবো হৃদয়ের অন্তরালে,

এত দয়া কে দিল তোমায় সীমাহীন কৃপাজালে?

তাই কৃতজ্ঞ প্রাণে বলি নতশিরে বারবার—

হে দয়াময় রব, কোন্ নিআমত করব অস্বীকার?

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ