Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ

ওহুদ পাহাড়ের সেই শহীদ যুবক

কল্পনা করুন তো, একজন মানুষ সারাজীবন মূর্তিপূজা বা কুফরে লিপ্ত ছিলেন। তিনি কোনোদিন মসজিদে যাননি, কোনোদিন সেজদা দেননি, এমনকি 'সুবহানাল্লাহ' বলার সুযোগও পাননি। অথচ মৃত্যুর পর স্বয়ং বিশ্বনবী (সা.) তাকে দেখে মুচকি হাসলেন এবং জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন!


​কে এই ব্যক্তি? আর কী ছিল তার সেই গোপন আমল?


​পাহাড়ের সেই রাখাল এবং ইসলামের আলো:


​ঘটনাটি ওহুদ যুদ্ধের। যখন রণক্ষেত্রে তলোয়ারের ঝনঝনানি আর বারুদের মতো তপ্ত রোদে যুদ্ধ চলছে। আরবের এক কৃষ্ণাঙ্গ রাখাল, নাম তার আসওয়াদ আল-রাই। তিনি খাইবার এলাকার এক ইহুদির ছাগল চরাতেন। যুদ্ধের ময়দানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার মনে কৌতূহল জাগল—কে এই ব্যক্তি যার জন্য মানুষ জীবন দিতে দ্বিধা করছে না?


​তিনি সোজা চলে গেলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে। কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কিসের দাওয়াত দেন?"

নবীজী (সা.) পরম মমতায় তাকে ইসলামের সৌন্দর্য বুঝিয়ে বললেন। মুহূর্তেই আসওয়াদের হৃদয়ে ঈমানের আলো জ্বলে উঠল। তিনি সেখানেই কালিমা পড়ে মুসলিম হয়ে গেলেন।


​ঈমানের পরীক্ষা ও একটি কঠিন প্রশ্ন:


​মুসলিম হওয়ার পর আসওয়াদ (রা.) রাসুল (সা.)-কে এক অদ্ভুত প্রশ্ন করলেন। তিনি বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তো এই ছাগলগুলোর মালিক নই, আমি আমানতদার। এখন আমি কী করব?"


​আমাদের নবীজী (সা.) তাকে শিখিয়ে দিলেন ইসলামের আমানতদারি। তিনি বললেন, "ছাগলগুলোর মুখ মদীনার দিকে ফিরিয়ে দাও এবং ধাওয়া করো, আল্লাহ এগুলোকে মালিকের কাছে পৌঁছে দেবেন।" আসওয়াদ (রা.) তাই করলেন। মালিকের আমানত বুঝিয়ে দিয়ে তিনি হাতে তুলে নিলেন যুদ্ধের হাতিয়ার।


​এক সিজদাও না দিয়ে শাহাদাত!


​যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এই নও-মুসলিম সাহাবী। কিছুক্ষণ পরেই শত্রুর আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। শাহাদাত বরণ করলেন আসওয়াদ (রা.)।


​অবাক করা তথ্যটি এখানেই: ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে শহীদ হওয়া পর্যন্ত তিনি একটি ওয়াক্ত নামাজ পড়ার সময় পাননি। এমনকি আল্লাহর দরবারে একটি কপাল ঠেকিয়ে সেজদা দেওয়ার সুযোগও তার হয়নি!


​নবীজী (সা.) কেন মুখ ফিরিয়ে নিলেন?


​সাহাবীরা যখন তার দেহটি নবীজী (সা.)-এর সামনে নিয়ে এলেন, তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) তার লাশের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সাহাবীরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন কেন?"


​রাসুল (সা.) মুচকি হেসে বললেন:

​"আল্লাহর কসম! আমি তার মাথার কাছে জান্নাতের দুইজন হুরকে দেখতে পাচ্ছি, যারা তাকে ঘিরে ধরেছে এবং তার মুখ থেকে ধুলোবালি মুছে দিচ্ছে। লজ্জায় আমি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি।"


​নবীজী আরও বললেন, "এই ব্যক্তিটি আমল করল খুব সামান্য, কিন্তু প্রতিদান পেল পাহাড় সমান!"


​শিক্ষা:


​এই ঘটনা আমাদের শেখায় যে, আল্লাহ তায়ালা মানুষের বাহ্যিক আমলের চেয়ে অন্তরের ইখলাস বা একনিষ্ঠতা বেশি দেখেন। আমরা যারা হাজারো গুনাহের সাগরে ডুবে আছি, আমাদের জন্য আসওয়াদ (রা.) এক অনুপ্রেরণা। তওবা করে ফিরে আসার জন্য এক মুহূর্তই যথেষ্ট।


​সুবহানাল্লাহ! ঘটনাটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন। আপনার একটি শেয়ার হয়তো কারো ঈমান জাগিয়ে তুলতে পারে। ❤️




Islamic Srot

মন্তব্য করুন

ব্লগ