সহকারী অধ্যাপক
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
জাহান্নাম মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
জাহান্নাম
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
সীমালঙ্ঘনকারীর শেষ প্রত্যাবর্তন
নিশ্চয় জাহান্নাম গোপন ভয়াল ফাঁদ,
অন্ধকারে রাখা কঠোর প্রতিফাঁদ।
সীমালঙ্ঘনকারীর শেষ প্রত্যাবর্তন,
সেখানে মেলে শুধু যন্ত্রণার জীবন।
না আছে শীতল ছায়া, প্রশান্তির বাতাস,
না আছে পানীয়ে শান্তির সুবাস।
ফুটন্ত আগুনজল, দহন তার ঢেউ,
পুঁজভরা তিক্ততা—পানে বাধ্য সে কেউ।
এ তো প্রতিফল শুধু কর্মেরই ফল,
যেমন বপন করে তেমনি কাটে ফসল।
কারণ তারা ভাবেনি হিসাবের দিন,
অবহেলায় কাটিয়েছে জীবন রঙিন।
আল্লাহর আয়াত তারা করেছিল তুচ্ছ,
অস্বীকারে ঢেকেছিল সত্যেরই সূচ।
অহংকারে বলেছিল—“কিছুই তো নয়!”
তাই আজ আগুনে জ্বলে তাদের হৃদয়।
সব কর্ম লেখা ছিল লিপিবদ্ধ পাতে,
কোনো কিছু হারায়নি সময়েরই হাতে।
সবই সংরক্ষিত সত্যের খাতায়,
কর্মের হিসাব আজ সামনে ফুটায়।
তখন বলা হবে—“এখন স্বাদ গ্রহণ কর,
তোমাদের কর্মফল নিজ হাতে ধর।
আজ থেকে তোমাদের দুঃখেরই ধারা,
বৃদ্ধি পাবে শুধু—শাস্তিরই ধারা।”
***
গভীর গোপন ঘোর অগ্নি-অভিশাপ,
জাহান্নাম যেন এক প্রতিহিংসা-ফাঁদ রূপকাপ।
যেখানে সীমালঙ্ঘনের অহংকারী প্রাণ,
ফিরে পায় কেবল দহন-অভিমান।
সেখানে নেই কোনো শীতল বাতাস,
নেই শান্তির সুধা, নেই প্রশান্তির সুবাস।
আগুনের ঢেউ যেন জ্বালাময়ী নদী,
তার মাঝে দগ্ধ হয় পাপী জীবসদি।
পানীয় সেখানে ফুটন্ত অগ্নিধারা,
যেন আগ্নেয় পাহাড়ের ক্রুদ্ধ ধারা।
পুঁজের তিক্ততা, বিষেরই রঙ,
পাপেরই প্রতিফল—ভাগ্যের ঢঙ।
এ বিচার কঠোর, তবু ন্যায়েরই বিধান,
কর্মেরই প্রতিচ্ছবি প্রতিটি দহন।
কারণ তারা ভুলেছিল হিসাবের ভোর,
অহংকারে ঢেকেছিল সত্যেরই ঘোর।
আয়াতের আলোকে করেছিল অস্বীকার,
অন্ধকারে ডুবেছিল অবিশ্বাসের পার।
সত্যের সূর্য ডেকেছিল তাদের প্রাণ,
তবু তারা বেছে নিল অন্ধকারের গান।
প্রতিটি কর্ম লেখা ছিল নক্ষত্রের মতো,
সময়ের আকাশে জ্বলজ্বল শত।
একটিও হারায়নি লিপিরই পথে,
সবই রয়ে গেছে বিধানের রথে।
অতঃপর শোনা যাবে কঠোর আহ্বান—
“স্বাদ নাও আজ তোমাদের কর্মেরই দান।
যা বপন করেছিলে দুনিয়ার ক্ষেতে,
আজ তা ফলেছে আগুনের ক্ষেত্রেতে।”
তখন বাড়বে শুধু যন্ত্রণার ঢেউ,
দুঃখের সমুদ্র তীব্রতর বয়ে।
আযাবের আগুন আরও হবে জ্বালাময়,
কারণ সত্য অস্বীকার ছিল তাদের পরিচয়।
যদি চান, আমি এটিকে
***
গোপন ফাঁদ জাহান্নাম, সীমালঙ্ঘীর ঘর,
অন্ধকার অগ্নিতে জ্বলে পাপীর অন্তর।
দুনিয়ার গর্ব শেষে ভাঙে মিথ্যা মায়া,
সত্যের আদালতে খুলে কর্মের ছায়া।
যারা ভুলে গিয়েছিল হিসাবেরই দিন,
অহংকারে ঢেকেছিল সত্যেরই ঋণ।
আয়াতের আলোকে বলেছিল তারা—“না”,
তাই আগুনে আজ জ্বলে অহংকার-চাঁদনা।
সেখানে নেই কোনো শীতলতার ছোঁয়া,
শান্তির কোনো ছায়া হৃদয়ে না রোয়া।
তৃষ্ণার আগুন জ্বলে দগ্ধ বুকে তাদের,
পানীয় শুধু অগ্নি, তিক্ত বিষের ঘোর।
ফুটন্ত আগুনজল ঝরে বিষণ্ন ঢেউ,
যেন দহন-নদী বহে ক্রোধের বেগে বয়ে।
পুঁজের তিক্ততা পান করে পাপী প্রাণ,
কর্মেরই প্রতিদান—এ ন্যায়েরই বিধান।
যেমন বপন করে তেমনি কাটে ফল,
পাপেরই শস্য আজ আগুনেরই দল।
একদিন হাসিতে তারা কাটাত দিনকাল,
আজ দহন-রাত্রিতে কাঁদে অবিরল।
লিপিবদ্ধ ছিল সব কর্মেরই পাতা,
সময়ের খাতায় তা অমলিন লেখা।
ক্ষুদ্র কোনো কাজও হারায়নি তাতে,
সবই রয়ে গেছে বিধানেরই হাতে।
ফেরেশতা দাঁড়িয়ে কঠোর বাণী কয়—
“এখন স্বাদ নাও যা কর্ম তোমার হয়।”
“দুনিয়ার ক্ষেতে যা বপন করেছিলে,
আজ তার ফল আগুন হয়ে পেয়েছ।”
আযাবের আগুন আরও জ্বলিবে তবু,
পাপেরই ছায়া যেন গ্রাসে রাত্রি-দুপুর।
শাস্তির ঢেউ ওঠে দহন-সমুদ্রে,
কোনো অবসান নাই দুঃখের সুদূরে।
কাঁদে পাপী প্রাণ—“ফিরে যাই কি আর?”
কিন্তু রুদ্ধ সব দয়ারই দ্বার।
স্মরণে আসে তখন আয়াতের আলো,
যা শুনে ফিরেনি অহংকারে ভালো।
হায়! যদি একবার শুনত সে ডাক,
সত্যেরই পথে রাখত জীবন পা।
আজ সব শেষ—শুধু দহন-অভিশাপ,
পাপেরই ফল যেন আগুনেরই চাপ।
অতএব হে মানব! শুন সতর্ক গান,
ভুলে যেও না কভু হিসাবের দিনমান।
আয়াতের আলোকে জ্বালো অন্তর দীপ,
তবেই রক্ষা পাবে দহন-অতল সীমানীপ।
তাকওয়ার ছায়াতে রাখ হৃদয় ঘর,
তাহলেই মিলিবে শান্তিরই ভোর।
কারণ মুত্তাকীর পথ আলোরই ধারা,
আর পাপীর গন্তব্য অগ্নিরই সারা।
৪
৪ মন্তব্য