Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:৫৩ অপরাহ্ণ

মুত্তাকীদের জান্নাত - মোঃ মুজিবুর রহমান

 

মুত্তাকীদের জান্নাত

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

মুত্তাকীদের জন্য আছে সাফল্যের দ্বার,

নূরের বাগান ফুটে থাকে অনন্ত অপার।

আঙুরের থোকা ঝুলে সবুজ ডালে ডালে,

শান্তির সুবাস ভাসে স্বর্গীয় বাতাসে কালে।

সমবয়সী তরুণীরা লাজে হাসে ধীরে,

যৌবনের দীপ্তি যেন ফুল ফোটে নীড়ে।

হাতে থাকে পূর্ণ পাত্র অমৃত সুধাভরা,

পানে মিটে যায় হৃদয়—তৃষ্ণা যায় সরা।

সেখানে নেই মিথ্যা কথা, নেই কোন অসার,

সত্যের সুরে ভরে ওঠে জান্নাতের দ্বার।

এ সবই প্রতিদান দয়াময়ের দান,

রবের পক্ষ হতে আসে অনুপম সম্মান।

 ***

যারা রাখে আল্লাহভীতি হৃদয়ের গভীরে,

সফলতার আলো জ্বলে তাদের ভাগ্যনীরে।

ফুটে ওঠে জান্নাত-বাগান ছায়াময় তটে,

আঙুরলতা নুয়ে পড়ে ফলের ভারে রটে।

সমবয়সী লাবণ্যময়ী তরুণীর হাসি,

ভোরের শিশির যেন ঝরে স্বর্গের বাতাসি।

সুধাভরা পানপাত্র হাতে ঘুরে ফেরে সুখ,

অমৃতসুধা ঢালে তাতে প্রশান্তির মুখ।

নেই সেখানে মিথ্যার ছায়া, নেই কোন কলহ,

শান্তির বাণী বয়ে যায় হৃদয়েরই পথ।

রবের দেওয়া প্রতিদান, সীমাহীন সে দান—

মুত্তাকীদের জন্যই এই চিরজাগ্রত জান্নাতস্থান।

***

তাকওয়ার দীপ জ্বালিয়ে যারা চলে আলোর পথে,

তাদের তরে জান্নাত হাসে চিরসবুজ রথে।

বাগিচা জুড়ে আঙুরলতা নত হয়ে রয়,

ফলের ভারে ঝরে পড়ে অনন্ত মধুময়।

সমবয়সী কুমারীরা লাজের ফুল পরে,

যৌবনের রঙ মেখে হাসে জান্নাতের ঘরে।

পূর্ণ পাত্র হাতে তাদের সুধা ঢালে প্রাণে,

শান্তির ঢেউ দুলে ওঠে নীরব গানের টানে।

সেখানে নেই মিথ্যার ধোঁয়া, নেই শূন্য বাক্য,

সত্যের সুরে বাজে শুধু পবিত্রতার রাগ্য।

রবের দান সে পুরস্কার, সীমাহীন কল্যাণ—

মুত্তাকীদের জন্যই এই অনন্ত সম্মান।

 ***

মুত্তাকীদের জন্য আছে সাফল্যের অমল দ্বার,

নূরের বাগান ডাকে তাদের শান্তিমাখা অপরূপ পার।

সবুজ লতায় দোলে আঙুর মুক্তোর মতো ফল,

রহমতের হাওয়ায় ভাসে জান্নাতের অনন্ত কলকল।

চিরসবুজ সে উদ্যান যেন রহমতেরই ছায়া,

ফুলের ঘ্রাণে ভরে থাকে আলোর সুধামায়া।

স্বচ্ছ নদী বয়ে চলে শান্তির সুর গেয়ে,

নূরের ঢেউ দোলে যেন করুণার আলো বেয়ে।

সেখানে থাকে সমবয়সী লাবণ্যময়ী তরুণী,

যৌবনের দীপ্তি যেন পূর্ণিমারই রজনী।

লাজুক হাসি ঝরে পড়ে শিশিরভেজা ফুলে,

মুক্তোর মালা জ্বলে উঠে নীরব স্নিগ্ধ কূলে।

তাদের হাতে সুধাভরা পূর্ণ পানপাত্র রয়,

এক চুমুকে মুছে যায় দুঃখ-বেদনার ক্ষয়।

অমৃতস্রোত ঢেলে দেয় প্রশান্ত হৃদয় মাঝে,

শান্তির ঢেউ ওঠে ধীরে জান্নাতেরই সাঁঝে।

সেখানে নেই অসার বাণী, নেই কোন মিথ্যা,

সত্যের আলো ছড়িয়ে পড়ে নির্মল শান্তিতে।

কলহহীন সে ভূমি যেন পবিত্রতার ঘর,

প্রশান্তির সুর বাজে অবিরাম নিরন্তর।

এ সবই প্রতিদান রবের অফুরন্ত দান,

মেহেরবানের করুণা যেন সীমাহীন সম্মান।

যারা রাখে আল্লাহভীতি অন্তরেরই মাঝে,

তাদের তরে জান্নাত হাসে চিরসুখের সাজে।

তাই হে মানব, জাগাও মনে তাকওয়ার দীপশিখা,

পথের শেষে জ্বলবে তখন নূরের অনন্ত দিশা।

মুত্তাকীদের জন্য আছে সে মহিমাময় স্থান—

রবের পক্ষ থেকে চির কল্যাণের পুরস্কার মহান।

***

মুত্তাকীদের মহাসাফল্য

মুত্তাকীদের জন্য আছে সাফল্যের সোনার দ্বার,

রহমতের রৌদ্র ঝরে জান্নাতের অপার পার।

আলোর নদী ডাকে তাদের অনন্ত শান্তির তীর,

সুখের বাগান হাসে সেখানে চিরনবীন ধীর।

সবুজ ছায়ায় দোলে যেন নূরের বাগানখানি,

আঙুরলতা ঝুলে থাকে মুক্তার মত টানি।

ফলের ভারে নত হয়ে ডালে ডালে হাসি,

রবের দানে পূর্ণ সে সুখের আকাশবাসী।

শিশিরস্নাত প্রভাত যেমন কোমল রঙে ভরা,

তেমন স্নিগ্ধ জান্নাতের প্রতিটি পথঘেরা।

ফুলের ঘ্রাণে ভরে থাকে শান্তির আকাশপথ,

মেহেরবানের রহমত সেখানে নিরবচ্ছিন্ন রত।

স্বচ্ছ নদী বহে ধীরে প্রশান্ত সুর গেয়ে,

নূরের ঢেউ দোলে যেন আলোছায়া বেয়ে।

পবিত্রতার বাগিচাতে সুধার গীতি বাজে,

দয়া আর দানের ধারা অনন্ত সুখ সাজে।

সেখানে আছে সমবয়সী লাবণ্যময়ী কুমারী,

যৌবনের দীপ্তি যেন পূর্ণিমারই তারা।

লাজুক হাসি ফুটে ওঠে শিশিরভেজা ফুলে,

নীরব আলো ছড়িয়ে পড়ে জান্নাতের কূলে।

মুক্তোর মালা দোলে তাদের গ্রীবায় দীপ্তিময়,

চোখে জ্বলে ভোরের তারা স্নিগ্ধ আলোকময়।

সৌন্দর্যের রঙিন ঢেউ বয়ে যায় চারিধার,

শান্তির সুরে মুগ্ধ হয় জান্নাতের অপর পার।

হাতে তাদের পূর্ণ পাত্র অমৃতসুধায় ভরা,

পানে মিটে যায় হৃদয়ের তৃষ্ণা শতধারা।

এক চুমুকে শান্তি নামে অন্তরেরই কোণে,

আনন্দধারা নেমে আসে জান্নাতেরই স্রোতে।

সেখানে নেই অসার বাণী, নেই কোন মিথ্যা,

সত্যের আলো জ্বলে কেবল পবিত্র নীরবতায়।

কলহহীন নির্মল সে শান্তিরই ভুবন,

সুখের গীতি বাজে সদা অশেষ অনুক্ষণ।

নেই কোন দুঃখের ছায়া নেই কোন হাহাকার,

আলোর দেশে থাকে কেবল আনন্দ অপার।

প্রতিটি ক্ষণ সুধাময়ী করুণারই ঢেউ,

দয়া আর শান্তির সুরে ভরে ওঠে নও।

সেখানে রাত নেই যেন অন্ধকারের ঘোর,

নূরের আলো জ্বলে থাকে দিবানিশি ভোর।

চিরপ্রভাতে হাসে সুখ অনন্ত অনিবার,

রবের দানে দীপ্ত সেই আলোকিত সংসার।

পাখির সুরে বাজে যেন প্রশান্তিরই গান,

বাতাস বয়ে আনে সদা রহমতের সম্মান।

নরম হাওয়ায় ভেসে আসে ফুলের গন্ধধারা,

জান্নাত যেন নূরের রঙ্গে আঁকা এক অপারা।

স্বর্ণদ্বারে দাঁড়িয়ে থাকে শান্তির দূতেরা,

মুত্তাকীদের স্বাগত জানায় নূরের প্রহরীরা।

দয়া আর অনুগ্রহে খোলে সুখের পথ,

রবের দানে উজ্জ্বল হয় হৃদয়েরই রথ।

তাদের মুখে জ্বলে উঠে নেক আমলের আলো,

ইমানের দীপ জ্বালিয়ে তারা পথ চলেছে ভালো।

দুনিয়ার ক্ষণিক মায়া পেরিয়ে গেছে ধীর,

তাই তো আজ জান্নাত তাদের আনন্দের নীর।

তাকওয়ার বৃক্ষ ফল দিয়েছে সাফল্যের ফল,

ধৈর্যের ফুল ফুটিয়েছে অমল সুধা টলমল।

সৎকর্মের সুবাস ভেসে উঠেছে জীবনে,

রবের রহমত নেমে আসে শান্তির বন্ধনে।

যারা রেখেছে হৃদয়ে আল্লাহভীতির দীপ,

তাদের পথ আলোকিত হয়েছে নূরের স্রোতদীপ।

ধৈর্য আর সত্য দিয়ে গড়েছে জীবনের গান,

আজ তারা পেয়েছে সেই প্রতিশ্রুত সম্মান।

রহমতের রংধনু যেন ছড়িয়ে পড়ে আকাশে,

জান্নাতের বাগান হাসে অনন্ত আলোক হাসে।

দয়া আর ক্ষমার সুরে বেজে ওঠে গান,

রবের দানে পূর্ণ হয় তাদের প্রতিদান।

পবিত্রতার আলো জ্বলে প্রতিটি হৃদয়মাঝে,

সত্যের পথে চলার স্মৃতি সুখের ফুল সাজে।

মেহনত আর ইবাদতে কেটেছে যাদের কাল,

তাদের তরে খুলে গেছে জান্নাতেরই দালান।

সেখানে নেই ক্লান্তি আর নেই কোন অবসাদ,

আনন্দস্রোত বহে সদা শান্তির অবিরাম বাদ।

চিরযৌবন দীপ্ত হয়ে হাসে প্রতিটি প্রাণ,

রবের দানে পূর্ণ হয় সুখের আকাশস্থান।

স্বপ্নের মতো সেই সুখ নয় কেবল কল্পনা,

সত্যের মতো দৃঢ় সে রবেরই ঘোষণা।

তাকওয়ার পথে যারা চলে নিষ্ঠার আলোয় ভরা,

তাদের তরে সাজানো সে জান্নাত সুধাধারা।

তাই হে মানব, জাগাও মনে ইমানের প্রদীপ,

অন্ধকারে জ্বালাও তুমি তাকওয়ার আলোদীপ।

সৎপথে চললে একদিন খুলবে সুখের দ্বার,

রবের দানে মিলবে তখন জান্নাত অপার।

ভালোবাসা ভরে রাখো মানবতার বুকে,

সত্যের পথে দৃঢ় থেকো দুঃখ এলেও মুখে।

দয়া আর ন্যায়ের আলো ছড়াও চারিধার,

তবে মিলবে চিরশান্তির সেই মহা উপহার।

দুনিয়ার ক্ষণিক সুখ যেন মরীচিকার রূপ,

জান্নাতের সুখ অনন্ত অমৃতধারার ধূপ।

তাই তো জ্ঞানীরা খোঁজে সেই স্থায়ী আলোর পথ,

যেখানে রবের রহমত চিরদিনের রথ।

রবের দান অপরিমেয়, সীমাহীন কল্যাণ,

তাঁরই করুণা ঢেলে দেয় অনন্ত সম্মান।

মুত্তাকীদের জন্যই সেই মহিমান্বিত স্থান,

যেখানে সুখের আলোয় জ্বলে চিরকাল প্রাণ।

সাফল্যের সেই জান্নাত নূরের সিংহাসন,

রবের পক্ষ হতে আসে মহান পুরস্কার।

তাকওয়ার পথে চললে মানুষ পাবে সে সম্মান,

চিরশান্তির বাগানে তখন ফুটবে সুখের গান।

মন্তব্য করুন

ব্লগ