সহকারী শিক্ষক
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১১:১৩ অপরাহ্ণ
একজন মহান উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা স্যারের পেশা জীবনের সমাপ্তি
একটি বিজোড় সংখ্যা—৫৯ আর প্রিয় উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা স্যারের পেশা জীবনের সমাপ্তি এবং মায়াবী চেয়ার!
সংখ্যাটি যেন কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় লেখা একটি অঙ্ক নয়, বরং একটি দীর্ঘ পথচলার শেষ প্রহর। ৫৯ বছর বয়সে এসে প্রিয় উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা স্যারের পেশা জীবনের সমাপ্তি!এ যেন এক নীরব সূর্যাস্ত, যেখানে আলো ফুরায়, কিন্তু উষ্ণতা থেকে যায় চিরকাল।
তিনি ছিলেন শুধু একজন কর্মকর্তা নন, ছিলেন শিক্ষার বাতিঘর। তাঁর কণ্ঠের দৃঢ়তা, সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞা আর হৃদয়ের কোমলতা,সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন শিক্ষাঙ্গনের অভিভাবক। প্রতিটি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, প্রতিটি শিক্ষকের সমস্যা, প্রতিটি শিশুর স্বপ্ন,সবকিছুই তিনি আপন করে নিয়েছিলেন।
উপজেলার প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে তাঁর পদচারণার স্মৃতি আছে, প্রতিটি শিক্ষকের হৃদয়ে তাঁর পরামর্শের ছাপ আছে। কখনো কঠোর হয়েছেন শৃঙ্খলার জন্য, আবার পরক্ষণেই হয়েছেন স্নেহময়। একজন সত্যিকারের পথপ্রদর্শক।
আজ তাঁর অবসর যেন কেবল একটি দাপ্তরিক সমাপ্তি নয়; এটি একটি অধ্যায়ের শেষ পৃষ্ঠা। কিন্তু তিনি যে আলোর শিখা জ্বালিয়ে গেছেন, তা নিভে যাওয়ার নয়। তাঁর সততা, নিষ্ঠা আর কর্মপ্রেম আগামী প্রজন্মের শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
৫৯ বিজোড় একটি সংখ্যা। কিন্তু এই বিজোড়তার মাঝেই লুকিয়ে আছে পূর্ণতার মহিমা। কারণ তিনি তাঁর কর্মজীবনকে পূর্ণতা দিয়েছেন দায়িত্ব, আদর্শ আর ভালোবাসা দিয়ে।
স্যার, আপনার পদচিহ্ন আমাদের পথ দেখাবে। আপনার অবসর আমাদের কাছে বিদায় নয়।এ এক গভীর কৃতজ্ঞতা, এক অবিরাম শ্রদ্ধা।আগামীকাল থেকে হবে অন্য সকাল। সিড়ি দিয়ে সেই চিরচেনা বসন্তের যুবরাজ উঠবে না উপরে। সেই চেয়ারে বসবে না। এ যেন একটি মায়াবী চেয়ার!দেখতে সাধারণ, অথচ তার ভেতরে জমে আছে অসংখ্য দিনের স্মৃতি, সিদ্ধান্ত, স্বপ্ন আর সংগ্রামের দীর্ঘশ্বাস।হয়তো চেয়ারটি দীর্ঘদিন পুড়াবে!কাঠের নয়, আগুনের নয়,পুড়াবে স্মৃতির অদৃশ্য শিখায়।
যেখানে প্রতিটি সকাল শুরু হতো দায়িত্বের ভারে,
আর প্রতিটি সন্ধ্যা শেষ হতো পরিতৃপ্ত ক্লান্তিতে।
কিন্তু সেই শূন্যতা যেন শব্দ করে কাঁদে।টেবিলের ওপর রাখা ফাইলগুলো নীরব,
দেয়াল ঘড়ির কাঁটা যেন ধীরে চলে!সবকিছুই বুঝি অনুভব করে অনুপস্থিতির ভার।এই মায়াবী চেয়ার হয়তো ক্ষতচিহ্ন এঁকে দেবে হৃদয়ের বাম কোণে!
একটি দীর্ঘশ্বাসের মতো,
একটি অপ্রকাশিত কৃতজ্ঞতার মতো,
একটি না-বলা বিদায়ের মতো।তবু এই ক্ষত ব্যথার নয় একান্তই এটি ভালোবাসার দাগ,
শ্রদ্ধার চিহ্ন,আর এক অমূল্য সময়ের সাক্ষ্য।
চেয়ারটি খালি হলেও,
যিনি তাকে মহিমান্বিত করেছিলেন,তিনি থাকবেন স্মৃতির গভীরতম আসনে।
অমলিন, অক্ষয়, অনির্বাণ।
৪
৪ মন্তব্য