সহকারী অধ্যাপক
০৪ মার্চ, ২০২৬ ০৩:০৪ পূর্বাহ্ণ
দুই সাগরের মাঝে প্রাচীর (সূরাঃ আল-ফুরকান আয়াতঃ ৫৩ মাক্কী, সূরাঃ আর-রাহমান আয়াতঃ ১৯-২০,৫৫ ) - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
দুই সাগরের মাঝে প্রাচীর
(সূরাঃ আল-ফুরকান আয়াতঃ ৫৩ মাক্কী, সূরাঃ আর-রাহমান আয়াতঃ ১৯-২০,৫৫ )
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
স্রষ্ঠা বইয়েছেন দুই সাগর পাশাপাশি,
একটি মিঠে, নির্মল, সুধারাশি;
অপরটি লোনা, ক্ষার-স্বাদে গম্ভীর,
তবু দু’টির মাঝে প্রাচীর অদৃশ্য, স্থির।
মিশে যায় দৃষ্টি-পথে তরঙ্গের ঢেউ,
তবু সীমা লঙ্ঘন করে না কেউ;
অন্তরায় রেখেছেন অদেখা দেয়াল,
আদেশে তাঁর থেমে যায় জোয়ারের কাল।
এক সাগরে মিঠে স্বাদ প্রাণের আহার,
অন্য সাগর গর্জে মহিমার উচ্চারণ;
উভয়ের মাঝে রহস্যময় বাঁধ,
স্রষ্টার শক্তির নিদর্শন সাধ।
তিনিই পানি হতে মানুষ গড়েন,
রক্তে-রেখায় বংশের সূত্র ধরেন;
বিবাহ-সম্পর্কে গাঁথেন হৃদয়,
সমাজ-সূত্রে জুড়ে দেন মানব-ময়।
তিনিই ধরাকে করেছেন বাসোপযোগী,
বয়ে দিয়েছেন নদী কলকল রাগিণী;
স্থির পর্বত বসিয়ে মাটির বুকে,
রেখেছেন ভারসাম্য নিখুঁত সুখে।
বল তবে, কে এমন বিধানকারী?
কে এমন ক্ষমতার অধিকারী?
দুই সাগরের মাঝখানে যিনি দেয়াল তোলেন,
ঝর্ণা প্রবাহে জীবনধারা খোলেন।
তিনি এক, তিনি মহামহিম,
সৃষ্টি-সৌন্দর্যে অতুল অদ্বিতীয় মহিম;
তাঁর আদেশে তরঙ্গ ওঠে নামে,
তাঁর ইশারায় জীবন জাগে প্রাণে।
****
দুই সাগর—দুই স্বভাব, পাশাপাশি ধায়,
একটি অমৃত-মিঠে, অন্যটি লবণ-মায়;
তবু সীমারেখা টেনে অদৃশ্য প্রাচীর,
থামিয়ে দেন ঢেউ—হয় না অতিক্রমের নীর।
দৃষ্টিতে তারা যেন আলিঙ্গন-প্রিয়,
বাস্তবে বিধানে সীমাবদ্ধ নির্ভয়;
মাঝে তাঁর কুদরতের নীরব দেয়াল,
অবাধ্য হতে পারে না জোয়ারের কাল।
মিঠে জলে ঝর্ণাধারা প্রাণে সুর তোলে,
লোনা জলে গর্জন ওঠে মহাসাগর-কোলে;
দুই ধারার মাঝখানে নীরব ঘোষণা—
“আমিই সর্বশক্তিমান”—চির অমোঘ ভাষা।
পানি হতে মানুষ—মাটিরই নয়ন,
রক্তে-সম্পর্ক, বিবাহে বন্ধন;
বংশের মালা গেঁথে দিলেন তিনি,
সমাজ হলো প্রেমের বাগানখানি।
পৃথিবীকে করলেন বাসযোগ্য ভূমি,
নদী বইয়ে দিলেন, সবুজের ঘুমই;
পর্বত বসালেন ভারসাম্য রক্ষায়,
দুই সাগরের মাঝে অন্তরায় রাখায়।
বল হে মানব, চিন্তা করো একবার—
কার হাতে এমন সুষমার ভার?
যে দেয় সীমা ঢেউয়ের উচ্ছ্বাসে,
ঝর্ণা বইয়ে দেয় নীরব আভাসে।
তিনি এক, তিনি অশেষ ক্ষমতার ধনী,
তাঁরই কুদরতে বিশ্বরাগিণী;
দুই সাগর নত, নদী করে গান—
তাঁর মহিমায় মুখরিত বিশ্ব-প্রাণ।
***
দুই সাগর ধায় পাশাপাশি নিরবধি,
একটি মিঠে সুধা, প্রাণে আনে সমৃদ্ধি;
অন্যটি লোনা, গভীর নীল গম্ভীর,
তবু মাঝখানে বাঁধা অদৃশ্য এক নীর।
তরঙ্গ ছুঁয়ে যায় পরস্পরের বুকে,
তবু সীমা ভাঙে না বিধাতার সুখে;
অন্তরাল রেখেছেন মহাশক্তিধর,
অতিক্রমে অক্ষম উচ্ছ্বাসী ঘোর।
মিঠে জলে তৃষ্ণা মেটে, ফোটে জীবন,
লোনা জলে জাগে সাগরের স্পন্দন;
দুই ধারার মাঝে বিধানের রেখা—
সৃষ্টি-শাসনে অটল সেই দেখা।
পানি হতে মানুষ করলেন সৃষ্টি,
রক্তে দিলেন বংশের পবিত্র দৃষ্টি;
বিবাহ-বন্ধনে গাঁথলেন প্রাণ,
সম্পর্ক-সূতায় গড়লেন জ্ঞান।
পৃথিবীকে করলেন বাসোপযোগী ভূমি,
নদী বইয়ে দিলেন কলতান-ধ্বনি;
পর্বত বসালেন ভারসাম্য রাখতে,
মাটির বুকে স্থিরতা আঁকতে।
বল তবে, কে এমন বিধানকারী?
কে এমন কুদরতে বিশ্ব-ধারী?
দুই সাগরের মাঝে যে রাখে প্রাচীর,
ঝর্ণাধারায় ভরে তোলে সমীর।
তিনি এক, মহিমায় অনুপম,
তাঁর আদেশে জাগে বিশ্বধ্বনিময় গম;
তরঙ্গ, পর্বত, নদীর গান—
সবই তো তাঁর শক্তির প্রমাণ।
***
** দুই সাগরের সীমানা **
দুই সাগর ধায় পাশাপাশি—
একটি মিঠে, সুধা-ভরা হাসি;
অপরটি লোনা, গম্ভীর-গাঢ়,
তবু নেই বিশৃঙ্খলা, নেই কোনো ঝাড়।
মিশেছে যেন দৃষ্টির সীমানায়,
তবু সীমা ভাঙে না বিধান-ছায়ায়;
মাঝখানে আছে অদৃশ্য প্রাচীর,
অতিক্রমে থেমে যায় তরঙ্গ-নীর।
মিঠে জলে তৃষ্ণার তৃপ্তি মেলে,
লোনা জলে গভীরতা খেলে;
দুই ধারার মাঝে সুনির্দিষ্ট রেখা—
স্রষ্টার আদেশে স্থির সে দেখা।
পানি হতে মানুষ করলেন গঠন,
রক্তে দিলেন বংশের বন্ধন;
বিবাহ-সূত্রে হৃদয় জুড়ালেন,
সম্পর্ক-মালা নিজে গাঁথালেন।
পৃথিবী করলেন বাসের উপযুক্ত,
নদী দিলেন স্রোতে অবিরত যুক্ত;
পর্বত বসালেন স্থিতির ভার,
মাটির বুকে দৃঢ়তার দ্বার।
বল হে মানুষ, চিন্তা করো—
কার কুদরতে এ বিশ্ব ভরো?
কে দিল সাগরে সীমার দান?
কে রাখে ভারসাম্যে ধরার প্রাণ?
তিনি এক, মহাশক্তিমান,
তাঁর আদেশে জাগে প্রাণ;
তরঙ্গ, নদী, পর্বতের গান—
সবই তো তাঁরই প্রমাণ।
৪
৪ মন্তব্য