Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ মার্চ, ২০২৬ ০৬:০৩ অপরাহ্ণ

সিয়ামের মাহাত্ম্য (গ্রন্থপ্রেরণা: মিশকাতুল মাসাবীহ) মোঃ মুজিবুর রহমান

সিয়ামের মাহাত্ম্য

(গ্রন্থপ্রেরণা: মিশকাতুল মাসাবীহ)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

সওম মানে থেমে যাওয়া,

প্রবৃত্তির সব ডাক থামানো;

খাবার-পান, ভাষার ঝড়—

আত্মাকে তার শুদ্ধ বানানো।

নির্দিষ্ট কালে নির্দিষ্ট পথে

রবের আদেশ মানা—

নির্দিষ্ট কর্ম হতে বিরত থাকা,

তাঁর সন্তুষ্টি আনা।

ইমসাকের এই গূঢ় সংজ্ঞা—

সময়, শর্ত, বিধান;

নফসকে দমন, অন্তর শোধন,

তাকওয়ার জয়গান।

যেমন বলে সূরা মারইয়াম—

নীরবতার সেই মানত;

রহমানের তরে কথা ত্যাগ—

আত্মসমর্পণের ইবাদত।

 

যখন আসে রমযান মাস,

রহমতের খোলে দ্বার;

আসমানের সব ফটক খোলে,

ঝরে নূরের ধার।

জান্নাতেরও দুয়ার উন্মুক্ত,

বন্ধ জাহান্নাম;

শৃঙ্খলবদ্ধ শয়তান সব—

শান্ত হয় অন্ধ ধাম।

হে কল্যাণ-পথের যাত্রী!

এগিয়ে চলো আজ;

হে মন্দপথের অনুসারী!

থেমে যাও লাজ।

প্রতি রাতে ডাকে আসমান—

মুক্তি চাই যে প্রাণ?”

রব বলেন— “আমি ক্ষমাকারী,

এসো আমার জ্ঞান।”

জান্নাতে আছে আটটি দ্বার,

একটির নাম “রইয়্যান”;

সায়িম ছাড়া কেউ প্রবেশে

পাবে না অনুমান।

তৃষ্ণার তরে যারা কেঁদেছে,

রবের প্রেমে ক্ষুধার্ত;

সেই দরজাতে ডাক পড়িবে—

যে রাখে সওম ঈমানভরে,

সওয়াবের আশায় প্রাণে—

তার অতীতের সব গুনাহ

মুছে যায় অজানায়।

যে দাঁড়ায় রাতে কিয়ামে,

লাইলাতুল কদর খোঁজে—

হাজার মাসের চেয়ে উত্তম

রাতটি রহমত রোজে।

বঞ্চিত যে ঐ রাত হতে,

বঞ্চিত সে সবখানে;

অভাগা সে— যে চিনল না

নূরের ঝর্ণাধারে।

আদমসন্তান যত নেক কাজ—

দশ হতে সাতশ গুণ;

কিন্তু সওম আল্লাহর তরে—

এর প্রতিদান অগুণ।

আমিই দেবো দাম;

আমার তরে ক্ষুধা তৃষ্ণা

সহে যে নীরব প্রাণ।”

সায়িমের দুটি খুশির ক্ষণ—

ইফতারের সে হাসি;

আরেকটি দিন, রবের সনে

সাক্ষাতেরই আভাসি।

মুখের গন্ধ মিশকের চেয়ে

প্রিয় তার দরবারে;

সিয়াম ঢাল, আগুন হতে

রক্ষা দিবে তোরে।

যদি কেহ গালি দেয় তোকে,

বিবাদ করে রোষে—

বলিস শুধু— “আমি সায়িম”,

শান্ত থাকিস হেসে।

এ মাস ধৈর্যের, এ মাস দয়ার,

এ মাস ভাগাভাগির;

অল্প দুধে, এক খেজুরে

মেলে জান্নাতের নূর।

যে করাবে ইফতার কারো,

পাবে সমান সওয়াব;

হাওযে কাওসার হতে পানি—

তৃষ্ণা হবে অবসান।

প্রথম ভাগে রহমত ঝরে,

মাঝে মাগফিরাত;

শেষ দশকে মুক্তির সুর—

আগুন হতে নাজাত।

যে সহজ করে দাসের ভার,

ক্ষমা পায় সে প্রাণ;

রমযান যেন নূরের সাগর—

তীরে দাঁড়ায় জান্নাত ধ্যান।

হে আল্লাহ! দাও সে সওম

যা বদলায় অন্তর;

যে সিয়ামে জাগে তাকওয়া,

মুছে পাপের ঘোর।

রমযানের প্রতিটি ক্ষণ

করো নূরে ভরা;

রইয়্যান দ্বারে ডেকো আমায়—

হে রব, করো সাড়া।

 ***

** সিয়ামের নাশীদ  **

রমযান এলো রহমত ভরা, খুলল নূরের দ্বার,

আসমানে আজ দয়ার বৃষ্টি, ঝরে অপরিসীম ধার।

জান্নাত খুলে হাসে নীরব, বন্ধ জাহান্নাম,

শৃঙ্খলবদ্ধ শয়তান আজ স্তব্ধ তারই গ্রাম।

সওম মানে নফস দমন, সংযম সাধন প্রাণ,

খাবার-পান আর কু-কথা হতে বিরত থাকা জ্ঞান।

নির্দিষ্ট সে সময় জুড়ে নিয়তেরই বল,

রবের তরে ত্যাগের মাঝে জাগে প্রেম অমল।

ঈমানভরে রাখে যে জন সওমের প্রতিদিন,

মুছে যায় তার পূর্ব পাপের আঁধার যত ঋণ।

কিয়াম রাতে অশ্রু ঝরে কদরেরই আশায়,

হাজার মাসের সেরা সে রাত নূরের বন্যায় ভাসায়।

জান্নাতে আছে দ্বার একটির নাম “রইয়্যান”,

সায়িম ছাড়া পাবে না কেউ সে দুয়ারের মান।

তৃষ্ণার তাপে যারা কেঁদে রেখেছে উপবাস,

ডাক পড়িবে— “এসো তোমরা, শেষ হোক সব ক্লেশ।”

সব নেক কাজ বাড়ে বহু গুণ, দয়ার অপার দান,

সওম তবে আল্লাহর তরে, তিনিই দিবেন মান।

ইফতারে এক সুখের হাসি, আরেক সুখের দিন—

রবের সাথে সাক্ষাৎ হবে, মিটবে প্রাণের ঋণ।

সবর এ মাস, দয়ার এ মাস, সহমর্মী প্রাণ,

এক খেজুরে ইফতার দিলে মেলে জান্নাত দান।

প্রথম দশক রহমতে ভরা, মাঝে মাগফিরাত,

শেষ দশকে মুক্তি মেলে জাহান্নামের আগুন হতে নাজাত।

হে প্রভু দাও এমন সিয়াম, শুদ্ধ করুক মন,

তাকওয়ার আলো জ্বালুক প্রাণে দূর করুক শোক-ক্রন্দন।

রমযানের প্রতিটি ক্ষণ হোক ইবাদত-ভরা জ্ঞান,

রইয়্যান” দ্বারে ডাকো আমায়— এই হোক আরমান।

 ***

(কঠোর ১৪ মাত্রার সমমাত্রিক অক্ষরবৃত্ত)

রমযান এলো রহমত ভরা, খুলল নূরের দ্বার,

জান্নাত খুলে হাসে নীরব, বন্ধ অগ্নিঘর।

শৃঙ্খলিত সব শয়তান আজ স্তব্ধ অন্ধকার,

আসমানে দয়ার ধারা ঝরে অপার অপর।

সওম মানে নফস দমন, সংযম সাধনা,

খাবার-পান আর কুকথা হতে নীরব বিরতনা।

নির্দিষ্ট সে সময় জুড়ে নিয়তেরই গান,

রবের তরে ত্যাগে জাগে প্রেমেরই সম্মান।

ঈমান নিয়ে রাখে যে জন সওমের প্রতিদিন,

মুছে যায় তার পূর্ব গুনাহ যত কালো ঋণ।

কদর রাতে কিয়াম করে অশ্রুভরা নয়ন,

হাজার মাসের চেয়ে উত্তম সে পবিত্র ক্ষণ।

জান্নাতে এক দ্বার রয়েছে নাম তার রইয়্যান,

সায়িম ছাড়া প্রবেশ পাবে না কোনো প্রাণ।

তৃষ্ণা-ক্ষুধা সহে যে জন আল্লাহরই তরে,

ডাকা হবে— এসো বান্দা, শান্তিরই ঘরে।

সওম শুধু আল্লাহর তরে, দিবেন তিনি ফল,

ইফতারে এক সুখের হাসি, শেষে সাক্ষাৎ ফল।

সবর দয়ার সহমর্মী এই বরকতমাস,

প্রথম রহমত, মাঝে মাগফিরাত, শেষে নাজাতবাস।

হে আল্লাহ দাও এমন সওম শুদ্ধ হোক অন্তর,

তাকওয়ার নূর জ্বালো প্রাণে দূর কর অন্ধকার।

রইয়্যান দ্বার ডেকে নিও কিয়ামতেরই দিন,

সিয়ামেরই এই নাশীদ হোক মুমিন হৃদয়বীণ।

 ***

রমযান এলো নূরের ডালি, রহমতের আহ্বান,

খুলে গেলো জান্নাত-দুয়ার, স্তব্ধ জাহান্নাম।

আসমানে আজ দয়ার বৃষ্টি, করুণারই ঢেউ,

শৃঙ্খলিত সব শয়তান যেন শক্তিহীন ঢেউ।

সওম মানে আত্মশুদ্ধি, সংযমেরই পাঠ,

ক্ষুধা-তৃষ্ণায় জাগে অন্তর তাকওয়ার প্রভাত।

খাবার-পান আর কু-কথা হতে বিরত প্রাণ,

নিয়তেরই পবিত্রতায় জাগে ঈমান-গান।

দিনের বেলা নীরব সাধন, অন্তর জাগে ভয়,

রবের তরে ত্যাগের মাঝে লুকায় সুখময়।

ঈমান নিয়ে রাখে যে জন সওমের প্রতিক্ষণ,

মুছে যায় তার গুনাহ-ধূলি, জাগে নূরের মন।

কদর রাতের পবিত্র ক্ষণ হাজার মাসের শ্রেষ্ঠ,

যে খুঁজে নেয় সিজদার অশ্রু, সে-ই ভাগ্যবতী শ্রেষ্ঠ।

রাত্রি জেগে কুরআন পড়ে, ডাকে ক্ষমার রব,

ফেরেশতার দোয়া ঝরে, মুছে পাপের সব।

জান্নাতে এক সুধাদ্বার— নাম তার “রইয়্যান”,

সায়িম ছাড়া পাবে না কেউ সে সম্মানের স্থান।

তৃষ্ণার তাপে যারা কেঁদে রেখেছে উপবাস,

ডাক শুনিবে— “এসো আমার শান্তির পরশবাস।”

সওম কেবল আল্লাহর তরে, প্রতিদান অগণন,

ইফতারে এক হাসির আলো, শেষে দিদার-ক্ষণ।

মুখের গন্ধ মিশকের চেয়ে প্রিয় তাঁরই কাছে,

সবর-ঢালে রক্ষা পায় প্রাণ দহন-আগুন নাচে।

এ মাস দয়ার, এ মাস ধৈর্য, সহমর্মী প্রাণ,

এক খেজুরে ইফতার দিলে মেলে মুক্তিদান।

প্রথম ভাগে রহমত ঝরে, মাঝখানে ক্ষমা,

শেষ দশকে মুক্তি মেলে আগুন হতে চিরমা।

হে প্রভু দাও এমন সিয়াম, শুদ্ধ করুক হৃদয়,

তাকওয়ার দীপ জ্বালো প্রাণে দূর হোক সব ভয়।

রমযানের প্রতিটি শ্বাস হোক ইবাদত-সুর,

রইয়্যান” দ্বারে ডাকো আমায়— এই হোক শেষ নূর।

 ***

রমযান এলো— রুহের আকাশে রৌদ্রিম রৌশনাই,

রহমতের রেশমি রোশন ধারা নেমে আসে তাই।

নূরের নদী নবীন স্রোতে ভাসায় ভুবনভূমি,

দয়ার দীপ জ্বলে দিগন্তে, দূরে যায় আঁধার ঘুমি।

জান্নাত যেন জুঁই-সুবাসে খুলে দিলো দ্বার,

জাহান্নামের জ্বালা নিভে স্তব্ধ অগ্নিঘর।

শৃঙ্খলিত সব শয়তান আজ ছায়াহীন ছায়া,

করুণার কিরণ কাঁপায় অন্তর— কাঁদে পাপের মায়া।

সওম এক সোনালি সেতু— নফস হতে নূরে,

সংযম যেন সাগর-ঢেউ থামে তাওবার সুরে।

ক্ষুধা এখানে কুসুম-কাঁটা, তৃষ্ণা তপস্যার ফুল,

দহন মাঝে দীপ্ত হীরক— তাকওয়ারই মূল।

খাবার-পান আর ভাষার বিষ ত্যাগের তীর্থযাত্রা,

নিয়তের নিভৃত নক্ষত্র জ্বলে আত্মার মাত্রা।

নীরবতা নীল আকাশে ধ্যানের দোয়েল ডাকে,

সিজদাতে সে সোনার সকাল স্রষ্টার সনে মাখে।

ঈমান যেন ইন্দ্রধনু, ইহতিসাবের রঙ,

পাপের পাহাড় গলে যায়— অশ্রু-অরুণ ঢঙ।

কিয়াম রাতের কাঁপা কণ্ঠে কুরআনের কলি,

লাইলাতের লাজুক চাঁদে জাগে রহমত-জলি।

হাজার মাসের হীরামণি সে এক রজনী,

ফেরেশতার ফুলেল ডানায় ভাসে বাণী ধ্বনি।

যে হারালো সে রাত-রতন, হারালো সব হায়,

নূরের নীড়ে নাম লেখাতে না-পারা সে দুঃখ পায়।

জান্নাতে এক জ্যোতির-দ্বার— নাম তার “রইয়্যান”,

তৃষ্ণা-তপে তপস্বীরা পায় সে মহিমান।

উপবাসের উষর পথে যারা ছিল ধীর,

ডাক শুনিবে— “এসো প্রিয়, শান্তিরই নীর।”

সওম বলে— “হে রব আমার! রেখেছি তাকে তোরে,”

কুরআন বলে— “রাতের ঘুম কেড়েছি তোরই তরে।”

দুই সাথী দুই সুধাধারা শাফা‘আতের সুর,

করুণার কণ্ঠে কবুল হবে প্রেমের মঞ্জুর।

ইফতারের ইন্দ্রালোক হাসে খেজুর-জলে,

এক চুমুকে অমৃত-আশা ঝরে অন্তরতলে।

হাওযে কাওসারের কাঁপা ঢেউ ডাকে দিবসশেষে,

তৃষ্ণাহীন তৃপ্ত প্রাণ যায় জান্নাতের দেশে।

প্রথম দশক ফুলেল ফজর— রহমতেরই রাগ,

মাঝের প্রহর মাগফিরাতে মুছে পাপের দাগ।

শেষের রাতে মুক্তির মশাল জ্বলে নাজাত-নাম,

আগুন হতে আঁধার ছিঁড়ে জাগে শান্তি-ধাম।

এ মাস ধৈর্য-দীপ, দয়ার দিগন্ত-দোলা,

সহমর্মী সুরে সাজে হৃদয়-হাওয়ার বোলা।

এক খেজুরে এক চুমুকে খুলে কৃপাদ্বার,

সামান্য দান সাগর-সওয়াব— অফুরন্ত উপহার।

হে আল্লাহ! দাও সে সওম— সুবাসিত সমর্পণ,

যেখানে নফস নিভে যায়, জ্বলে নূরের স্পন্দন।

প্রাণের প্রান্তে প্রতিটি শ্বাস হোক ইবাদত-গান,

রইয়্যান” দ্বারে রের্খো আমায়— চির-শান্তির মান।

মন্তব্য করুন

ব্লগ