সহকারী অধ্যাপক
০২ মার্চ, ২০২৬ ০৫:৫৯ অপরাহ্ণ
ই‘তিকাফ - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
ই‘তিকাফ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
ই‘তিকাফের নীরব প্রহর, নূরের ধ্যান-দীপ জ্বলে,
রহমতের ঢেউ দোলে রমাযানের কোমল কোলাহলে।
মধ্য দশকের নির্জন রাতে প্রেমের প্রার্থনা ভাসে,
দয়াময়ের দরবারপানে অন্তর অশ্রু হাসে।
হঠাৎ একুশের সোনালি প্রভাত—বিদায়ের ক্ষণ আসে,
প্রিয় নবী বলিলেন সবারে স্নিগ্ধ উপদেশের ভাষে—
“যারা ছিলে আমার সাথে, থেকো শেষ দশ দিন,
সেই গোপন রাতের খোঁজে জাগাও অন্তর-বীণ।
স্বপ্নে আমায় দেখানো হয়েছিল কদরের ঐ মহারাত,
পরে তার নির্দিষ্ট ক্ষণ ভুলিয়ে দিলেন রব্বুল জগৎ।
তবে দেখেছি প্রভাত বেলায় সিজদা করি আমি,
কাদা-পানির বুকে লুটাই, প্রেমে ভেজে প্রাণখানি।
তোমরা খোঁজো শেষ দশকে, বেজোড় রজনীতে,
লাইলাতুল কদর লুকায় রহমতের গোপন স্মৃতিতে।”
সে রাতে ঝরল আকাশ হতে করুণাধারা বৃষ্টি,
খেজুর-পাতার ছাউনিতে পড়ে টপটপ শব্দ সৃষ্টি।
মসজিদের মাটির বুকে জমল কাদা-পানি,
সিজদার চিহ্নে দীপ্ত হলো নবীর পবিত্র কপালখানি।
দুই নয়নে সাহাবি দেখল সে দৃশ্য অনুপম,
মাটির সাথে নূরের মিলন—ভক্তির শ্রেষ্ঠতম।
কাদা-পানির ঐ দাগ যেন কদরের মহা-প্রমাণ,
নম্রতায় যে শীর্ষে ওঠে, সেই পায় রহমত-দান।
হে মুমিন! তুমিও খোঁজো সে রাত হৃদয়-প্রদীপ জ্বেলে,
বেজোড় রাতে অশ্রু ঢালো সিজদার নীরব খেলায় মেলে।
হয়তো তোমার ললাটেও পড়বে করুণার ছাপ,
কাদা-পানির সিজদাতে মুছবে সকল পাপ।
রমাযানের শেষ প্রহরে জাগো প্রেমের তরে,
লাইলাতুল কদরের আলো নামুক তোমার ঘরে।
***
রমাযানের নীরব রাতে ই‘তিকাফের ডাকে,
মসজিদের কোণে বসে মন ডুবে যায় আলোর ফাঁকে।
মধ্য দশকে প্রিয় নবী, ধ্যানে নিমগ্ন প্রাণ,
রহমতের সাগর ছুঁয়ে করে যান প্রার্থনাগান।
একুশের সেই প্রভাত এল বিদায়ের পূর্বক্ষণ,
তিনি বলিলেন সাথিদের স্নিগ্ধ বাণী তখন—
“যারা ছিলে আমার সাথে, থেকো আরও দিন,
শেষ দশকে খোঁজো সবাই রহস্যময় সেই রজনী।
স্বপ্নে আমায় দেখানো হল কদরের সে রাত,
পরে তার নির্দিষ্ট সময় করলেন প্রভু আড়ালপাত।
তবে আমি দেখেছি প্রাতে সিজদার সে দৃশ্য—
কাদা-পানির ভেজা মাটিতে লুটায় প্রেমের স্পর্শ।
শেষ দশকের বেজোড় রাতে খোঁজো তাকে নিরন্তর,
যে রাতেতে নাজিল হয় রহমতের অফুরন্ত দর।”
সেই রাতে আকাশ ভেঙে বর্ষে করুণাধারা,
খেজুর পাতার ছাউনিতে বাজে বৃষ্টির সুরধারা।
মসজিদের মাটির বুকে জমে কাদা-পানি,
সিজদাতে নত প্রিয় নবীর উজ্জ্বল ললাটখানি।
প্রভাত আলো ফুটল যখন শেষ হল রজনী,
দুই চোখে দেখা গেল কপালে কাদার চিহ্নখানি।
মাটির সাথে নূরের মিলন—নম্রতার মহিমা,
সিজদার মাঝে জাগ্রত হলো বান্দার সত্য সীমা।
হে হৃদয়! তুমিও জাগো শেষ দশকের তরে,
বেজোড় রাতের অশ্রু ঢালো সিজদারই ঘরে।
হয়তো কোনো নিরব ক্ষণে দয়ার দ্বার খুলে,
লাইলাতুল কদরের আলো নামবে তোমার কূলে।
নম্র ললাট, কাঁদে যে মন—সেই পায় মহাদান,
কাদা-পানির সিজদাতে মেলে কদরের সম্মান।
৪
৪ মন্তব্য