সহকারী অধ্যাপক
০২ মার্চ, ২০২৬ ০৩:২৩ অপরাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
ষোড়শ শতাব্দীতে রানী এলিজাবেথের আর্থিক উপদেষ্টা স্যার থমাস গ্রেসাম (Sir Thomas Gresham) লক্ষ্য করেন যে, যখন বাজারে একই মূল্যের দুই ধরনের মুদ্রা (যেমন: নতুন ও পুরনো বা খাঁটি ও খাদ মেশানো) প্রচলিত থাকে, তখন মানুষ ভালো মুদ্রাগুলো নিজের কাছে জমিয়ে রাখে এবং খারাপ মুদ্রাগুলো লেনদেনে ব্যবহার করে।
সহজ কথায়: "খারাপ টাকা ভালো টাকাকে বাজার থেকে বের করে দেয়।" (Bad money drives out good money.)
ধরুন, সরকার বাজারে দুই ধরনের স্বর্ণের মুদ্রা ছাড়লো। দুটিরই গায়ের মান (Face Value) ১০০ টাকা। কিন্তু: ১. একটি মুদ্রা খাঁটি স্বর্ণের তৈরি (ভালো টাকা)। ২. অন্যটিতে কিছুটা তামা মেশানো হয়েছে (খারাপ টাকা)।
সাধারণ মানুষ তখন খাঁটি স্বর্ণের মুদ্রাটি গলিয়ে বা জমিয়ে নিজের কাছে রেখে দেবে এবং তামা মেশানো মুদ্রাটি দিয়ে বাজারে কেনাকাটা করবে। ফলে ধীরে ধীরে বাজার থেকে খাঁটি মুদ্রাটি উধাও হয়ে যাবে এবং কেবল নিম্নমানের মুদ্রাই চালু থাকবে।
এই বিধিটি কার্যকর হওয়ার জন্য কিছু বিশেষ পরিস্থিতি প্রয়োজন:
দ্বি-ধাতব মান: যখন দুটি ভিন্ন ধাতুর (যেমন সোনা ও রুপা) মুদ্রা একই সাথে চলে।
মুদ্রার অভাব: যখন বাজারে মুদ্রার পর্যাপ্ত জোগান থাকে না।
আইনগত বৈধতা: যখন সরকার উভয় মুদ্রাকেই সমানভাবে গ্রহণ করার ঘোষণা দেয়।
আধুনিক যুগে ধাতব মুদ্রার প্রচলন কমে গেলেও কাগজের নোটের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। মানুষ সাধারণত নতুন ও কড়কড়ে নোটগুলো মানিব্যাগে জমিয়ে রাখতে পছন্দ করে আর পুরনো বা ময়লা নোটগুলো আগে হাতবদল করতে চায়। তবে বর্তমানে ইলেকট্রনিক মানি বা ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার ফলে এই বিধির প্রভাব কিছুটা সীমিত হয়ে এসেছে।
গ্রেসামের বিধি আমাদের শেখায় যে, মুদ্রার মান কেবল আইনি আদেশের ওপর নির্ভর করে না, বরং মানুষের আস্থা এবং মুদ্রার অন্তর্নিহিত মূল্যের ওপরও নির্ভর করে। শিক্ষার্থীদের এই সহজ উদাহরণগুলোর মাধ্যমে আমরা মুদ্রাস্ফীতি এবং মুদ্রাবাজারের জটিল বিষয়গুলো সহজে বোঝাতে পারি।
৩
৩ মন্তব্য