Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ মার্চ, ২০২৬ ০৭:৩৮ অপরাহ্ণ

পৃথিবীর সবচেয়ে ধৈর্যশীল ব্যক্তি।

🪵 বনের গহীনে ধৈর্যের এক পাহাড়: মুসা (আ.) ও সেই কাঠুরিয়া ✨


হযরত মুসা (আ.)-এর মনে একবার কৌতূহল জাগল। তিনি আল্লাহর দরবারে আরজ করলেন, "হে রাব্বুল আলামীন! আপনার অগণিত বান্দাদের মধ্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে ধৈর্যশীল কে? আমি সেই মহান ব্যক্তিকে দেখতে চাই।"


আল্লাহ তাআলা উত্তর দিলেন, "হে মুসা! তুমি অমুক গহীন জঙ্গলে চলে যাও। সেখানে একজন কাঠুরিয়াকে দেখতে পাবে, সেই আমার সবচেয়ে ধৈর্যশীল বান্দা।"


১. জঙ্গলের সেই নির্মম দৃশ্য

মুসা (আ.) আল্লাহর নির্দেশমতো সেই জঙ্গলে পৌঁছালেন। দেখলেন, এক ব্যক্তি ঘাম ঝরিয়ে কুড়াল দিয়ে গাছের ডাল কাটছেন। লোকটির খুব কাছেই তার ছোট সন্তান পরম আনন্দে খেলাধুলা করছিল।


হঠাৎ এক ভয়ংকর দৃশ্য মুসা (আ.)-এর নজরে এল। ঝোপের আড়াল থেকে একটি বিষাক্ত সাপ বেরিয়ে এল এবং নিমেষের মধ্যে বাচ্চাটিকে দংশন করল। বিষের নীল যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে শিশুটি কাঠুরিয়ার চোখের সামনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল।


২. কাঠুরিয়ার অভাবনীয় প্রতিক্রিয়া

কাঠুরিয়া তার কাজ থামিয়ে কয়েক মুহূর্ত নিথর হয়ে সন্তানের নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে রইলেন। মুসা (আ.) ভাবলেন, হয়তো এখনই এক হৃদয়বিদারক আর্তনাদ শোনা যাবে। কিন্তু কাঠুরিয়া চোখের পানি মুছে আকাশের দিকে তাকিয়ে শান্ত কণ্ঠে বললেন—


"হে আল্লাহ! আপনি যা করেন, নিশ্চয়ই তার মধ্যে কোনো কল্যাণ নিহিত আছে। আপনিই প্রাণ দিয়েছেন, আপনিই ফিরিয়ে নিয়েছেন। আপনার ফয়সালায় আমি সন্তুষ্ট।"


অতঃপর তিনি আবার তাঁর কুড়াল তুলে কাজে মন দিলেন, যেন কিছুই ঘটেনি।


৩. মুসা (আ.)-এর বিস্ময় ও প্রশ্ন

হযরত মুসা (আ.) অবাক হয়ে কাঠুরিয়ার কাছে এগিয়ে গেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর বান্দা! আপনি কেমন মানুষ? আপনার কলিজার টুকরা সন্তান চোখের সামনে মারা গেল, আর আপনি একটুও বিচলিত হলেন না? আপনি কি ব্যথিত হননি?"


কাঠুরিয়া বিনয়ের সাথে উত্তর দিলেন, "হে আল্লাহর নবী! পিতা হিসেবে আমার হৃদয়ে কষ্টের পাহাড় জমেছে। কিন্তু আমি জানি, আমার আল্লাহ কোনো অন্যায় করেন না। তাঁর প্রতিটি হুকুমের পেছনে এমন এক রহস্য (হিকমত) থাকে যা আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে বোঝা সম্ভব নয়। তাই স্রষ্টার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমি অভিযোগ তুলব না।"


৪. ধৈর্যের প্রকৃত পুরস্কার

ঠিক তখনই গায়েবি আওয়াজ এল। আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.)-কে বললেন, "হে মুসা! তুমি দেখলে তো? দুনিয়ার মানুষের কাছে হয়তো এটি একটি দুর্ঘটনা, কিন্তু এই বান্দার কাছে এটি আমার পরীক্ষা। সে আমার ওপর এতটা ভরসা রাখে যে, নিজের সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হারিয়েও আমার প্রতি তার বিশ্বাস টলেনি। এই হলো আমার সবচেয়ে ধৈর্যশীল বান্দার পরিচয়।"


গল্পের শিক্ষা:

বিপদে অটল থাকা: মুমিনের পরিচয় কেবল সুসময়ে নয়, বরং চরম দুঃসময়েও আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ধরে রাখার মাধ্যমে ফুটে ওঠে।


তাকদীরে বিশ্বাস: আল্লাহ যা করেন তাতে আমাদের জন্য মঙ্গল থাকে, যা তাৎক্ষণিকভাবে না বুঝলেও সময়ের সাথে স্পষ্ট হয়।


তাওয়াক্কুলের শক্তি: যে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখে, কোনো বিপদই তাকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলতে পারে না।

মন্তব্য করুন

ব্লগ