সহকারী শিক্ষক
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৭:৫১ অপরাহ্ণ
ইসলাম মুয়াযযিন বিলাল (রঃ) এর সম্পর্কে কিছু কথা।
বিলাল (রা.) ছিলেন একজন কৃষ্ণাঙ্গ সাহাবি এবং মক্কার এক নিষ্ঠুর অধিপতির দাস। কিন্তু তাঁর অন্তরে যখন ঈমানের আলো জ্বলে উঠল, তখন দুনিয়ার কোনো শক্তি তাঁকে আর দমন করতে পারল না।
মরুভূমির তপ্ত বালু এবং 'আহাদ আহাদ'
বিলাল (রা.) যখন ইসলাম গ্রহণ করলেন, তাঁর মালিক উমাইয়া ইবনে খালাফ তাঁর ওপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করল। মরুভূমির তপ্ত দুপুরে আগুনের মতো গরম বালুর ওপর তাঁকে শুইয়ে দেওয়া হতো এবং তাঁর বুকের ওপর একটি বিশাল ভারী পাথর চাপা দেওয়া হতো। উমাইয়া তাঁকে বলেছিল, "মুহাম্মাদের ধর্ম ত্যাগ করো, নাহলে এভাবেই তোমার মৃত্যু হবে।"
চরম যন্ত্রণার মাঝেও বিলালের (রা.) মুখ থেকে কেবল একটি শব্দই বের হতো— "আহাদ, আহাদ" (আল্লাহ এক, আল্লাহ এক)। সেই পাথরের ভার তাঁর শরীরকে পিষ্ট করতে চেয়েছিল, কিন্তু তাঁর আত্মাকে নয়। অবশেষে আবু বকর (রা.) তাঁকে কিনে নিয়ে মুক্তি দান করেন।
মদিনায় হিজরতের পর যখন সালাতের জন্য মানুষকে ডাকার প্রয়োজন হলো, তখন নবীজি ﷺ বিলাল (রা.)-কে বেছে নিলেন। তাঁর সেই গম্ভীর অথচ সুরেলা কণ্ঠে যখন প্রথম 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি মদিনার আকাশে প্রতিধ্বনিত হলো, তখন ইসলামের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রিয় মুয়াজ্জিন।
মক্কা বিজয়ের সেই ঐতিহাসিক দিনে, নবীজি ﷺ বিলাল (রা.)-কে নির্দেশ দিলেন কাবার ছাদে উঠে আজান দিতে। একসময়ের লাঞ্ছিত সেই দাস আজ কাবার ওপরে দাঁড়িয়ে বিশ্বজয়ের ঘোষণা দিচ্ছেন—এটি ছিল ইসলামের সাম্য ও মর্যাদার শ্রেষ্ঠ দৃশ্য।
নবীজি ﷺ-এর ইন্তেকালের পর বিলাল (রা.) এত বেশি শোকাতুর হয়ে পড়েছিলেন যে, তিনি আর মদিনায় আজান দিতে পারতেন না। নবীজির বিচ্ছেদে তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে যেত। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি সেই ভালোবাসা বুকে নিয়ে সিরিয়ায় কাটিয়েছিলেন।
শিক্ষা: বিলাল (রা.)-এর জীবন আমাদের শেখায় যে, মানুষের মর্যাদা তার গায়ের রঙে বা বংশে নয়, বরং তার তাকওয়া এবং ধৈর্যের মধ্যে নিহিত। সত্যের পথে হাজারো পাথর বুকে এলেও যে অবিচল থাকে, আল্লাহ তাকেই সর্বোত্তম উচ্চতায় আসীন করেন।
উৎস: সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম এবং সীরাত ইবনে হিশাম।
২
২ মন্তব্য