Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:২৬ অপরাহ্ণ

কেউ মৃত ব্যক্তির জন্য সদকা করলে কি নিজেও সেই সদকার সওয়াব পাবে?

প্রশ্ন:

যদি কেউ মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা করে, তাহলে কি সে নিজেও সেই সদকার সওয়াব পাবে?

-মাহমুদুল হাসান, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।

উত্তর:

আলহামদুলিল্লাহ, সালাত ও সালাম রাসূলুল্লাহ  (সা.)-এর উপর। মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা করলে তা তার উপকারে আসে এবং এর সওয়াব তার কাছে পৌঁছে—এ ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর ইজমা (ঐকমত্য) রয়েছে। একই সঙ্গে, যে ব্যক্তি সদকা করে, সেও এ সদকার সওয়াব লাভ করে।এর দলিল হলো— সহীহ মুসলিম (হাদিস নং ১০০৪)-এ বর্ণিত হয়েছে, আয়েশাহ বিনতে আবী বকর (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা) থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি নবী (সা.)-কে বলল:  “আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন। আমার ধারণা, যদি তিনি কথা বলার সুযোগ পেতেন তবে সদকা করতেন। তাহলে আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদকা করি, আমার কি সওয়াব হবে?”
তিনি (সা.)  বললেন: “হ্যাঁ।” 

ইমাম নববী (রহ.) বলেন: “এই হাদিসে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা করা জায়েয ও মুস্তাহাব হওয়া প্রমাণিত হয়।এর সওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে এবং তা তার উপকারে আসে। একই সঙ্গে সদকাকারী ব্যক্তিও উপকৃত হয়। এ বিষয়ে মুসলিমদের সর্বসম্মত ঐকমত্য রয়েছে।” (শারহ সহিহ মুসলিম ১১/৮৪)

এছাড়া শায়খ আব্দুল আযীয ইবন বায (রহ.) বলেন: “সদকা মৃত ব্যক্তির উপকারে আসে।আর সদকাকারীর জন্যও অনুরূপ সওয়াবের আশা করা যায়; কারণ সে একজন সৎকর্মশীল দানকারী। যেমন নবী (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের পথ প্রদর্শন করে, তার জন্য সে কল্যাণ সম্পাদনকারীর অনুরূপ সওয়াব রয়েছে।’

সুতরাং মুমিন যদি কোনো কল্যাণে আহ্বান করে বা অন্যের জন্য কল্যাণকর কাজ করে, তার জন্যও অনুরূপ সওয়াবের আশা করা যায়।

যদি কেউ তার পিতা বা মাতার পক্ষ থেকে সদকা করে, তাহলে যার পক্ষ থেকে সদকা করা হয়েছে সে সওয়াব পাবে, আর দানকারীও সওয়াব পাবে।

অনুরূপভাবে, যদি কেউ তার পিতা বা মাতার পক্ষ থেকে হজ করে; তাহলে তার জন্যও সওয়াব রয়েছে এবং পিতা-মাতার জন্যও সওয়াব রয়েছে। বরং তার উত্তম কাজ, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের কারণে তার সওয়াব সমান বা আরও বেশি হওয়ার আশা করা যায়।

এ ধরনের বিষয়ে শরীয়তের মূলনীতি হলো—

যে ব্যক্তি অন্যের উপকার করে, সে মহান প্রতিদান পায়। আর যখন সে অন্যের পক্ষ থেকে কোনো সৎকর্ম সম্পাদন করে, তখন যার জন্য তা করা হয়েছে তার মতো সওয়াব পাওয়ার আশা করা যায়। আর আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত ব্যাপক।”

উৎস: (ফাতাওয়া নূর ‘আলাদ-দারব ১৪/৩১৩)


মন্তব্য করুন

ব্লগ