সহকারী শিক্ষক
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ইসলামের কিছু গুরুত্বপূর্ণ জীবন।যাঁরা আমাদের কাছে সম্মানিত।
মালিক ইবন নাদর (রা.) ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান সাহাবি এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্যতম শ্রদ্ধেয় সেবক আনাস ইবন মালিক (রা.)-এর বাবা। তাঁর শাহাদাতের ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী এবং আল্লাহ তা'আলা কীভাবে তাঁর প্রিয় বান্দাদের সম্মান রক্ষা করেন, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
উহুদ যুদ্ধের দিন মালিক ইবন নাদর (রা.) অসুস্থ ছিলেন। বার্ধক্য এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিতে পারছিলেন না। কিন্তু জিহাদের প্রতি তাঁর আবেগ ছিল প্রবল। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, যুদ্ধে অংশ নিতে না পারলেও অন্তত মুসলিম সেনাদের জন্য পানি নিয়ে যাবেন এবং তাদের সেবা করবেন।
তিনি যখন পানি ও অন্যান্য রসদ নিয়ে উহুদের ময়দানের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন পথেই একদল মুশরিকের আক্রমণের শিকার হন। যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই শত্রুদের হাতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
মালিক ইবন নাদর (রা.)-এর শাহাদাতের পর মুশরিকরা তাঁর দেহের অসম্মান করতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রিয় বান্দার সম্মান রক্ষা করলেন। এমন এক অলৌকিক ঘটনা ঘটল, যা দেখে সাহাবিরা বিস্মিত হয়েছিলেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) পরে এই ঘটনা সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন:
"আমি দেখেছি, মালিক ইবন নাদর (রা.)-এর জানাজার নামাজ ফেরেশতারা আদায় করেছে এবং তারা তাঁকে এমন জায়গায় দাফন করেছে যা শত্রুদের দৃষ্টির আড়ালে ছিল। আল্লাহ তাঁর দেহকে অপমান থেকে রক্ষা করেছেন।"
ফেরেশতারা শুধু তাঁর জানাজাই পড়েননি, তাঁর পবিত্র দেহকে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করে এক নির্জন ও নিরাপদ স্থানে দাফন করেছিলেন।
শিক্ষণীয় দিক
মালিক ইবন নাদর (রা.)-এর ঘটনা প্রমাণ করে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর দ্বীনের পথে সামান্যতম প্রচেষ্টাকেও কতটা মূল্য দেন। তিনি শারীরিকভাবে অক্ষম হলেও জিহাদের স্পৃহা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন এবং এই ইখলাসপূর্ণ নিয়তের কারণেই আল্লাহ তাঁকে অনন্য মর্যাদা দান করেছিলেন। ফেরেশতাদের দ্বারা জানাজা ও দাফন—এ ছিল তাঁর প্রতি আল্লাহর অসীম ভালোবাসা ও সম্মানের নিদর্শন।
উৎস: ইমাম আহমদ (রহ.)-এর মুসনাদ, ইবনে হিশামের সিরাত এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সিরাত গ্রন্থ।
২
২ মন্তব্য