Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৭:১৫ পূর্বাহ্ণ

প্রত্যেক নর-নারীর উপর হজ্জ ফরজ

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে হজ্জ একটি অন্যতম স্তম্ভ। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর জীবনে একবার হজ্জ করা ফরজ। হজ্জ ফরজ হওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে যা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: 
হজ্জ ফরজ হওয়ার সাধারণ শর্তাবলি (নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য) 
কোনো ব্যক্তির ওপর হজ্জ ফরজ হতে হলে তাকে অবশ্যই নিচের পাঁচটি শর্ত পূরণ করতে হবে:
১. ইসলাম: হজ্জ পালনের জন্য ব্যক্তিকে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে। অমুসলিমদের ওপর এটি প্রযোজ্য নয়।
২. আকল (বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন): ব্যক্তিকে সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হতে হবে। মানসিক ভারসাম্যহীন বা পাগলের ওপর হজ্জ ফরজ নয়।
৩. বালেগ হওয়া (প্রাপ্তবয়স্কতা): হজ্জ কেবল প্রাপ্তবয়স্ক বা বালেগ ব্যক্তির ওপর ফরজ। শিশুদের হজ্জ নফল হিসেবে গণ্য হয়।
৪. স্বাধীনতা: হজ্জ ফরজ হওয়ার জন্য ব্যক্তিকে স্বাধীন হতে হবে। পরাধীন বা দাসের ওপর হজ্জ ফরজ নয়।
৫. সামর্থ্য (শারীরিক ও আর্থিক): মক্কায় গিয়ে হজ্জ পালন করে ফিরে আসা পর্যন্ত যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ বহনে সক্ষম হতে হবে। একই সাথে ঐ সময়ে তার পরিবারের ভরণপোষণের ব্যয়ভার নিশ্চিত করতে হবে। 
নারীদের জন্য অতিরিক্ত শর্ত
নারীদের ওপর হজ্জ ফরজ হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে:
মাহরাম থাকা: সফরের সময় নারীর সাথে অবশ্যই তার স্বামী অথবা কোনো মাহরাম পুরুষ (যাদের সাথে বিবাহ চিরতরে হারাম, যেমন: পিতা, ভাই বা পুত্র) থাকতে হবে।
মাহরামের সামর্থ্য: মাহরামের হজ্জের খরচও ঐ নারীকে বহন করতে হবে যদি মাহরামের নিজের খরচ দেওয়ার সামর্থ্য না থাকে।
নিরাপত্তা: যাত্রাপথ নিরাপদ হওয়া এবং নারীর শারীরিক সুস্থতা থাকা আবশ্যক। 
হজ্জ ফরজ হওয়ার গুরুত্ব
কুরআনে এর নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, "মানুষের মধ্যে যারা সেখানে পৌঁছানোর সামর্থ্য রাখে, তাদের ওপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ করা ফরজ" (সূরা আল ইমরান, আয়াত: ৯৭)। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্জ না করাকে হাদিসে মারাত্মক অবহেলা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ