Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৫:৪৯ অপরাহ্ণ

উযূর নূর - মোঃ মুজিবুর রহমান

 উযূর নূর

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

কিয়ামতের প্রভাতে ডাকা হবে উম্মাতকে নূরের পরিচয়ে,

উযূর জ্যোতিতে দীপ্ত হবে মুখ, হাত-পা উজ্জ্বল আলোয়।

বলেছিলেন প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)—

যার যত সাধ্য, বাড়াও সে নূর, পরিশুদ্ধতায় হও অগ্রগামী সর্বদা।”

জলধারাতে ধুয়ে নাও পাপের ধূলি, হৃদয়ের কালিমা,

তিনবার ধোও হাত, মুখমণ্ডল— জাগুক তাকওয়ার মহিমা।

কুলি করো, নাকে টানো পানি, শুচিতা হোক অন্তরে,

কনুই পর্যন্ত ধোও বাহু, আলো জ্বালো প্রান্তরে।

মাথায় মাসেহ করো বিনয়ে, পা ধোও টাখনু ছুঁয়ে,

প্রতিটি ফোঁটা জলের সাথে গুনাহ ঝরে যায় বয়ে।

এভাবেই উযূ করতেন মহান সাহাবী উসমান ইবনু আফফান,

সুন্নাহর পথে ছিলেন দৃঢ়, ছিলেন নবীর অনুগামী আপন।

বলেছিলেন তিনি— শুনেছি আমি প্রিয় নবীর বাণী,

যে এভাবে উযূ করে, পড়ে দুই রাক‘আত খুশূ‘র টানি—

দুনিয়ার খেয়াল ভুলে যদি দাঁড়ায় রবের দরবারে,

পূর্বের পাপ ক্ষমা হয় তার, রহমতের অপার স্রোতধারে।”

রাতের নিস্তব্ধ ক্ষণে, মিসওয়াকে শুচি করেন মুখ,

নবীর সুন্নাহ জীবন্ত ছিল প্রতিটি শ্বাসে সুখ।

দেখেছিলেন সাহাবী, কী যত্নে তিনি করতেন পরিচ্ছদ—

উম্মাতকে শিখালেন শুচিতা, তাওবার উজ্জ্বল পথ।

শয্যায় যাও যখন তুমি, করো সালাতের মত উযূ,

ডান পাশে শুয়ে বলো দো‘আ— হৃদয় ভরুক নূর-সুরভূ।

হে আল্লাহ! প্রাণ দিলাম তোমায়, সমর্পিলাম সব কাজ,

ভয়-আশার ডানায় ভর করে নিলাম তোমারই লাজ।

তুমি ছাড়া আশ্রয় নেই, নেই পরিত্রাণের স্থান,

তোমার কিতাবে আনলাম ঈমান, প্রেরিত নবীর প্রতি প্রাণ।”

এ দো‘আয় যদি ঘুম ভাঙে মৃত্যুর অচেনা প্রহরে,

ইসলামের আলোয় মৃত্যু হবে শান্তির সুবহে-সকালে।

হে মুমিন! উযূ কেবল জল নয়— আত্মার দীপ্ত শপথ,

প্রতিটি ফোঁটা সাক্ষী হবে কিয়ামতের সে মহামত।

পবিত্রতার এই নূর ধরি জীবন-রাত্রি-দিন,

উযূর জ্যোতিতে জ্বালো প্রাণ— এ পথেই জান্নাতের ঋণ।

আলোর অঙ্গ হোক উজ্জ্বল, হৃদয় হোক পবিত্র সার,

উযূর নূরে গড়ি জীবন— এ হোক মুমিনের অহংকার।

 ****

কিয়ামতের মহাপ্রভাতে যখন উঠিবে ধ্বনি আসমানে,

ডাকা হবে উম্মাতকে নূরের দীপ্ত চিহ্নখানে।

বলেছিলেন প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)—

উযূর জ্যোতিতে মুখ ও অঙ্গ হবে আলোকিত প্রাণে।

যে পারে বাড়াতে এ নূর, বাড়াক সে সাধনাতে,

পবিত্রতার দীপ জ্বালো অন্তরের আরাধনাতে।”

তিনবার ধোও হাতের তালু, ঝরুক গুনাহ ধূলি,

কুলি করে শুচি করো মুখ— মুছে যাক অন্তর মলিনতা ভুলে।

নাকে টানো নির্মল পানি, দূর হোক অহংকার,

মুখমণ্ডলে ঢালো তিনবার জল— জাগুক নূরের ধার।

কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও বাহু— কর্ম হোক পবিত্র আজ,

মাথায় মাসেহ করো বিনয়ে— স্মরণে থাকুক রবের সাজ।

টাখনু ছুঁয়ে ধোও দুই পা— চলার পথে ন্যায়ের শপথ,

প্রতিটি ফোঁটা সাক্ষ্য দেবে— ছিলে তুমি সত্যপথ।

এভাবেই উযূ শিখালেন মহান সাহাবী উসমান ইবনু আফফান,

সুন্নাহর রূপে রাখলেন জাগ্রত নববী শিক্ষার দীপ।

তিনি বললেন— শুনেছি আমি প্রিয় নবীর বাণী সুধা,

যে উযূ করে এ নিয়মে, রাখে না দুনিয়ার কু-চিন্তা,

দুই রাক‘আতে দাঁড়ায় যদি একাগ্র অন্তর ভরে—

পূর্বের গুনাহ ক্ষমা হয় তার, রহমত নামে ঝরে।”

রাতের আঁধার নিঝুম হলে, মিসওয়াকে শুচি মুখ,

নবীর সুন্নাহ জীবন্ত ছিল— স্নিগ্ধ, নির্মল সুখ।

ঘুমের আগে করো উযূ, সালাতের মত করে,

ডান পাশে শুয়ে পড়ো শান্ত মনে দো‘আর অমৃত ঝরে—

হে আল্লাহ! জীবন দিলাম তোমায়, সমর্পিলাম সব কাজ,

ভয় ও আশার ডানায় ভর দিয়ে নিলাম তোমারই লাজ।

তুমি ছাড়া আশ্রয় নাই, নাই কোন নিরাপদ স্থান,

তোমার কিতাবে আনলাম ঈমান, প্রেরিত নবীর প্রতি প্রাণ।”

যদি সে রাতে মৃত্যু আসে নিঃশব্দ অজানায়,

ইসলামের আলোয় মৃত্যু হবে শান্তিরই গানে।

হে মুমিন! উযূ কেবল জল নয়— আত্মার জাগরণ,

প্রতিটি ধোয়ায় ঝরে পড়ে পাপের কালো আবরণ।

উযূর নূরে গড়ি জীবন, করি হৃদয় শুদ্ধ-সার,

এ পবিত্রতার আলোকেই জান্নাতের অবারিত দ্বার।

🌿 এসো তবে শুচিতার পথে দৃঢ় করি অঙ্গীকার—

উযূর নূরে উজ্জ্বল হোক আমাদের সবক’টি প্রহর।

মন্তব্য করুন

ব্লগ