সহকারী অধ্যাপক
০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০৩ অপরাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
গাঁজন প্রক্রিয়া (Fermentation)
গাঁজন হলো এক ধরনের অ্যানারোবিক জৈব রসায়নিক প্রক্রিয়া, যেখানে ইস্ট (Yeast) বা ব্যাকটেরিয়া শর্করাকে ভেঙে ভিন্ন ভিন্ন পদার্থে রূপান্তর করে।
সহজ ভাষায়:
ইস্ট বা জীবাণু → চিনি ভাঙে → নতুন পদার্থ তৈরি হয়।
---
গাঁজনের মূল ধারণা
গাঁজন প্রক্রিয়া ঘটে অক্সিজেন ছাড়া (anaerobic condition)
সাধারণত শর্করা (গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ, সুক্রোজ ইত্যাদি) ভেঙে ইথানল, ল্যাকটিক অ্যাসিড, CO₂, ইত্যাদি উৎপন্ন হয়
প্রক্রিয়াটি ঘটে এনজাইমের মাধ্যমে
---
গাঁজনের সাধারণ সমীকরণ
১. ইস্ট দ্বারা অ্যালকোহলিক গাঁজন
C_6H_{12}O_6 \rightarrow 2C_2H_5OH + 2CO_2 + \text{Energy}
(এখানে গ্লুকোজ → ইথানল + কার্বন ডাই-অক্সাইড)
এটি শুধু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা; কোনো ব্যবহারিক নির্দেশ নয়।
---
২. ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ল্যাকটিক অ্যাসিড গাঁজন
C_6H_{12}O_6 \rightarrow 2C_3H_6O_3 + \text{Energy}
(গ্লুকোজ → ল্যাকটিক অ্যাসিড)
---
গাঁজনের ধরণ
১. অ্যালকোহলিক গাঁজন
ইস্ট করে
শর্করা ভেঙে ইথানল ও CO₂ তৈরি হয়
রুটি ফুলতে CO₂ সাহায্য করে
২. ল্যাকটিক অ্যাসিড গাঁজন
ব্যাকটেরিয়া করে
দই, চিজ, আচার ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহৃত
পেশীতে তীব্র ব্যায়ামের সময়ও ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি হয়
৩. অ্যাসিটিক অ্যাসিড গাঁজন
ভিনেগার (অম্ল) তৈরিতে ব্যবহৃত
ব্যাকটেরিয়া ইথানলকে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে অ্যাসিটিক অ্যাসিডে রূপান্তর করে
---
গাঁজন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব
খাদ্য সংরক্ষণে সাহায্য করে
খাদ্যের স্বাদ ও গন্ধ পরিবর্তন করে
দই, চিজ, আচার, রুটি ইত্যাদি খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত
জৈব জ্বালানি (biofuel) উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ
৩
৩ মন্তব্য