Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

৩১ মে, ২০২১ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

হিন্দু বর্নবাদ

হিন্দু ধর্মের প্রকৃত নাম হল সনাতন ধর্ম। কৌলীন্য প্রথাই এ ধর্মে বর্ণভেদের একমাত্র কারণ। নৈতিক আচরণভেদ, গায়ের রঙ ও পেশার ভিত্তিতে হিন্দু ধর্মে বর্ণভেদের সৃষ্টি হয়েছে। প্রচলিত সাধারণ অর্থে বর্ণভেদ বলতে বুঝায় হিন্দু ধর্মীয় সমাজের স্তর। তবে বিশেষভাবে একে হিন্দু ধর্মের সামাজিক শ্রেণীবিন্যাস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বর্ণবাদ বলতে হিন্দু ধর্মালম্বী চারটি সম্প্রদায়কে ভিন্ন ভিন্ন চারটি ভাগে খন্ডিত করা হয়েছে। এই চারটি ভাগ হল-ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শুদ্র। কেউ কেউ মনে করে বর্ণ হল বিবাহভিত্তিক এক ধরনের শ্রেণী বিন্যাস। এর সদস্যপদ শুধু মাত্র জন্মসূত্রে অর্জন করা যায়। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে,’বর্ণ’ হল এক ধরনের কর্ম বিভাজক শ্রেণী যার সদস্য জন্ম সূত্রে নির্ধারিত হয়ে থাকে। আর এর যে নির্দিষ্ট বিধি বিধান আছে তা কেউ লংঘন করতে পারে না।
ব্রাহ্মণ:হিন্দু শাস্ত্র মতে-‘ব্রহ্মা’-এর মুখ থেকে সৃষ্টি হয়ে ছে। তাই তারা ঈশ্বরের (ব্রহ্মার) পক্ষ থেকে কথা বলতে পারে।দাবি করা হয় ‘ব্রহ্মা’ ব্রাহ্মণদের জন্য ছয়টি কাজ দিয়েছেন। যেমন- মনুসংহিতায় বর্ণিত আছে-‘‘অধ্যাপন মধ্যয়নং সজমং জাজসং তথা দানং প্রতি গ্রহেবো ব্রাহ্মণা নাম কলপয়ৎ।’’ অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা ব্রাহ্মণের জন্য অধ্যয়ন, অধ্যাপনা, যজন, যাজন, দান এবং প্রতিগ্রহ- এই ছয়টি কর্তব্য পরিকল্পনা করলেন। ব্রাহ্মণ বা পুরোহিতদের স্বভাব সম্বন্ধে গীতায় বলা হয়েছে-মানসিক স্থিরতা, সংযম, তপস্যা, পবিত্রতা, ক্ষমা, সরলতা, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আস্তিক্য হল ব্রাহ্মণদের স্বভাবজাত। সুতরাং এ সম্পর্কীয় কাজগুলো শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ বা পুরোহিতদের জন্য নির্দিষ্ট। মোটকথা, হিন্দু সমাজে সবচেয়ে উচ্চশ্রেণী হল ব্রাহ্মণরা। যারা নানাবিধ চিন্তা-সাধনার মাধ্যমে এবং সৎকর্মের মাধ্যমে জীবনের নানাবিধ মূল্যবান দিক লাভ করার সামর্থ্য রাখে, তারাই হিন্দু সমাজে পুরোহিত শ্রেণীতে পরিণত হয়।
ক্ষত্রিয়দের অবস্থান: যারা শাসন সংক্রান্ত কাজে পারদর্শী তারা এ সম্প্রদায়ভুক্ত। শাস্ত্রীয় মতে ক্ষত্রিয়রা যেহেতু ঈশ্বরের (ব্রহ্মার) বাহু থেকে সৃষ্টি হয়েছে, তাই তাদের কাজ হল প্রজা প্রতিপালন, দান, অধ্যয়ন ইত্যাদি কর্তব্য পালন করা। সৃষ্টিকর্তা ক্ষত্রিয়দের জন্য প্রজা প্রতিপালন, দান, অধ্যয়ন, যজ্ঞ ইত্যাদি কর্তব্য পরিকল্পনা করেছেন। দেশে শাসন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দেশ ও সমাজকে বহিঃশক্রর আক্রমণ থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব ক্ষত্রিয়দের উপর ন্যস্ত। প্রশাসনের আমলা ও সৈন্যরা ক্ষত্রিয় শ্রেণীভুক্ত। এদের সম্পর্কে গীতায় বলা হয়েছে সাহস, তেজ, দক্ষতা, যুদ্ধে দৃঢ়পদ, দান এবং কর্তৃত্ব করার প্রবৃত্তি হল ক্ষত্রিয়দের স্বপ্ন।
বৈশ্যদের অবস্থান: হিন্দু ধর্মমতে, বৈশ্য জাতীয় লোকদেরকে ঈশ্বর পশু পালন, দান, যজ্ঞ, অধ্যয়ন, জল ও স্থলপথে বানিজ্য, কৃষিকর্ম, সম্পদ বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ-এ সকল দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ সম্পর্কে গীতায় বলা হয়েছে-‘‘বৈশ্যের স্বভাব হল-কৃষিকর্ম, গো-রক্ষা ও বাণিজ্য। ’’পশু পালন, দান, যজ্ঞ, অধ্যয়ন, বাণিজ্য, কৃষিকর্ম-এ সব কর্তব্যের জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত। সমাজে এ বর্ণের লোকেরা নানাবিধ ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী, শিল্পী এবং কৃষক। এরা জীবন-যাপনের প্রয়োজনীয় সমূদয় জিনিসপত্র তৈরি করার কাজে নিয়োজিত। এ সম্পর্কে গীতায় বলা হয়েছে-‘‘বৈশ্যের স্বভাব হল- কৃষিকর্ম, গো-রক্ষা ও বাণিজ্য।’’
৪.শূদ্রের অবস্থান: শূদ্র যেহেতু ঈশ্বরের (ব্রহ্মার) পা থেকে সৃষ্টি হয়েছে, তাই এ বর্ণের লোকদের একমাত্র কাজ হল ব্রাহ্মন, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যের সেবা করা। সৃষ্টিকর্তা শূদ্রের জন্য একটিমাত্র কর্তব্য পরিকল্পনা করলেন। আর তা হলো- ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য-এই তিন বর্ণের লোকদের সেবা করা এবং তাদের আদেশ পালন করা।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট