Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৯ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:১০ অপরাহ্ণ

আগ্নেয় পর্বত

পর্বতের শ্রেণিগত নাম। ভূগর্ভের উত্তপ্ত গলিত তরল শিলা বা ম্যাগমা ভূস্তরের ফাটল দিয়ে লাভারূপে বাইরে বেরিয়ে এসে শীতল ও কঠিন হয়ে যে গম্বুজাকৃতি পর্বতের সৃষ্টি হয় তাকে সঞ্চয়জাত পর্বত বা আগ্নেয় পর্বত বলে।

পাতসঞ্চালন তত্ত্ব 
(Plate Tectonic Theory) অনুসারে কোনো একটি মহাসাগরীয় পাত অপর একটি মহাদেশীয় পাতের দিকে অগ্রসর হলে দুইটি পাতের সংযোগস্থলে মহাসাগরীয় প্লেটের প্রান্তসীমা মহাদেশীয় পাতের নিচে ঢুকে যায়। একে বলা হয় অধোগামী (subduction) প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার ফলে দুটি পাতের সংযোগস্থলে প্রচণ্ড চাপের ফলে ভূপৃষ্ঠের একটি অংশের ৮০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার নিচে তাপমাত্রা ভয়ানক বেড়ে যায়। এই তাপে ভূ-অভ্যন্তরের বিভিন্ন পদার্থ গলে গিয়ে তরল শিলাস্রোত বা ম্যাগমা (Magma) এবং গ্যাসের উৎপত্তি হয়। এর গ্যাসীয় অংশের চাপে ভূ-গর্ভের অতি উত্তপ্ত তরল শিলাস্রোত ভুত্বকের নলের মতো ফাটল বা সুড়ঙ্গ তৈরি করে এবং ওই পথে ভূপৃষ্ঠের উপরে উঠে আসে। ফলে আগ্নেয় গিরির শীর্ষদেশে অবস্থিত জ্বালামুখ নামে এক বা একাধিক মুখ বা গহ্বর (crater) দিয়ে লাভা রূপে ছড়িয়ে পড়ে ।

তবে ঊর্ধ্বগামী সমস্ত শিলাস্রোত একসঙ্গে ভূপৃষ্ঠে উঠে আসে না। সাধারণত দেখা যায় ভূপৃষ্ঠের ৩-৫ কিলোমিটার নিচে বিশালাকার গহ্বরে ম্যাগমা সঞ্চিত হয়। এই ঘরকে ম্যাগমা ঘর 
(Magma Chamber) বলা হয়। এই ঘরে থাকা অবস্থায় গ্যাসের চাপ যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তা হলে ম্যাগমা স্রোত ক্রমান্বয়ে ভূগর্ভ থেকে ভূপৃষ্ঠে উঠে আসে। জ্বালামুখ দিয়ে ভূপৃষ্ঠে নির্গত লাভা ক্রমশ শীতল ও কঠিন হয়ে আগ্নেয়গিরি বা আগ্নেয় পর্বতে পরিণত হয়।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট