সহকারী শিক্ষক
০৯ ডিসেম্বর, ২০২০ ০২:০১ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ প্রথম
বিষয়ঃ English for Today
অধ্যায়ঃ প্রথম অধ্যায়
প্রতিবেদন : শিক্ষা সফর 2020 খ্রি:
“ঘুরে দেখব চা’য়ের রাজধানী”
আমার উপর অর্পিত ভ্রমন দায়িত্ব কার্যক্রমের পরিসমাপ্তি হল আজ। (এক দিনের শিক্ষা সফর)
........................................................
সূচনা: ভ্রমন বা শিক্ষা সফর মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করে । ভ্রমন মানুষের জীবনের ক্লান্তি দূর করে মানসিক প্রশান্তি আনতে সাহায্য করে । জীবনের সাথে শিক্ষার সম্পর্ক যেমন নিবিড়, শিক্ষার সাথে সফরের সম্পর্কও তেমনি নিবিড়।তাই সফর শিক্ষার অবিচ্ছেদ-অঙ্গ।শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেএেই সফরের গুরূত্ব রয়েছে। মানুষকে সুন্দর ও ধরনীর রহস্যে মধ্যে স্নান করার সুযোগ করে দেয় সফর।এটি শিক্ষা জীবনের একটি গুরুত্ব অঙ্গ।পূঁথিগত বিদ্যার বাহিরে সামাজিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের সুস্হ ধারার মানসিকতা বিকাশ সাহায্য করে । “ বিশ্ব ভুবনের চায়ের রাজধানী বলে কাছে আই, চার দেওয়ালের গন্ডি ছেড়ে,” তাইতো ছোটে যায়, অনেক অনেক দূরে ভ্রমনে যেতে আমাদের সকলের সাধ, কিন্তু নানা করণে দূরের ভ্রমন সম্ভব হয়ে ওঠেনা । ভ্রমন মানে অচেনাকে চেনা, অজানাকে জানা এবং বিমূর্ত কে মূর্ত করে নেওয়া ।
আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব কেউ দূরে থাকলে তার বাড়িতে ঘুরতে যাওয়া ভ্রমন হলেও , ভ্রমন মানুষের সদূর বিলাশী বিষয় , সবাই ভালবাসে উষার মরু পেরিয় মৌলিক হিমালয় জয় করে কৃষ্ণবর্ণ অরর্ণ্যে মশাল জ্বেলে পথ খুঁজে আজীবন বেড়াতে কিন্তু ছোট বেলা থেকে যে সামান্য পথ ঘুরেছি তাতে ভ্রমনের সাধ মেটেনি । তাই পায়ের শেকল বাঁধা পাখির মতন ছটফট করছি আর দ্বীজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই বহুল বিখ্যাত কবিতাটি বারা বার আবৃত্তি করছি -
“ইচ্ছা সম্যক গ্রমন ভ্রমনে, কিন্তু পাঠের নাস্তি, পায়ে শিকল মন উড়ু উড়ু একি দৈত্যে শান্তি” ।
একটি বিশেষ দিনে,
ঘুরে দেখব চায়ের রাজধানী শিক্ষা সফরের সূএপাত করেন ১৫ অক্টোবর ২০২০ খ্রি: অ্যাম্বাসেডর জনাব লোকমান খানের নেতৃত্বে ।
“থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে
দেখব এবার জগৎ টারে ,
কেমন করে ঘুরছে মানুষ “
................ ..........
শিক্ষা সফরের ভ্রমনের স্থান নির্ধারণ এবং দায়িত্ব বন্টন:
ভ্রমনের স্থান নির্ধারণ করাছিল আমাদের কাছে কঠিন একটি কাজ।কয়েকটি তারিখ পরির্তনের পর ২০ নভেম্বর ২০২০ খ্রি: তারিখে জনাব প্রসিত কুমার দেব এর সভাপতিত্বে এবং জনাব লোকমান খানের পরিচালনায় Zoom মিটিং এর মাধ্যমে সকলের সম্মতিক্রমে আমরা স্থির করলাম মৌলভী বাজার, কমলগঞ্জ, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, মাধবপুর লেক ও অন্যান্য জায়গায় ভ্রমনে যাব ।
“হৃদয়ে আমাদের নাচেরে আজিকে
ময়ূরেরে মত নাচে -রে
শত বরনে ভাব উচ্ছ্বাস
ক্লপের মত করছে বিকাশ
আকুল পরাণ চাহিয়া
উল্লাস করে নাচে -রে” ।
২০ নভেম্বর শিক্ষা সফর যাবার তারিখ নির্ধারণ করা হল । উপ-কমিটির মাধ্যমে নির্ধারিত কাজের দায়িত্ব বন্টন করা হল । ২২ নভেম্বর ২০২০ খ্রি: ভ্রমনের পয়োজনীয় সরঞ্জাম জনাব লোকমান খানের পরিচালনায় ক্রয় করা হয় এবং ম্যাগাজিন প্রকাশের জন্য নোটিশের মাধ্যমে Google ফর্ম দেয়া হয়।
২৩ নভেম্বর ভ্রমন সূচী প্রকাশ করা হয় ।
২৪ নভেম্বর Zoom মিটিং এর মাধ্যমে দায়িত্ব পাপ্তদের হইতে দায়িত্বের অগ্রগতি সম্মন্ধে জেনে নেয়া হয় ।
২৫ নভেম্বর ২০২০ খ্রি: তরিখে নির্বাচনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দায়িত্ব বন্টন করা হয় এবং ভ্রমনের পূর্ব প্রস্তুতি পরিসমাপ্তি ঘঠে
.......”পরের দিন ,”
দিনটি ছিল ২৬শে নভেম্বর ২০২০ খ্রি: রোজ বৃহস্পতিবার। সিলেট বিভাগের অন্যতম একটি জেলা হবিগঞ্জ,যা ০৯ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। উপজেলা গুলো হলো, হবিগঞ্জ সদর, লাখাই, মাধবপুর, চুনারুঘাট, বাহুবল, নবীগঞ্জ, বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও শায়েস্তাগঞ্জ। এই ৯ টি উপজেলার অনলাইন টিচার্স গ্রুপের সমন্বয়ে হয়েছিল স্মৃতির পাতায় চা’য়ের রাজধানী ।
“কী করে আজ ভেবে না পাই
পথ হরিয়ে কোন বনে যাই “
১৬৩ জন শিক্ষক/ শিক্ষিকা নিয়ে ছিলো আমাদের আয়োজন। আয়োজনটি সফল করতে যিনি সর্বাত্মক শ্রম দিয়েছেন তিনি হবিগঞ্জ অনলাইন টিচার্স গ্রুপের সম্মানিত সভাপতি ও এটুআই জেলা অ্যাম্বাসেডর জনাব মোঃ লোকমান খান , স্যারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি এমন আয়োজন সফল ভাবে সম্পন্ন করার জন্য।
ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। এরপরও বিভিন্ন স্থানের গুরুত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানকে রাজধানী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। যেমন, বাংলাদেশের আধ্যাতিক রাজধানী হিসেবে সিলেট পরিচিত, বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রাম ,ঠিক তেমনি ভাবে মৌলভীবাজার হলো চা'য়ের রাজধানী। ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য মৌলভীবাজারে রয়েছে, চা-বাগান, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত,ইকোপার্ক, বাইক্কাবিল,হাকালুকি হাওর, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, হযরত শাহ মোস্তফা (র) এর মাজার, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, মনিপুরী পল্লী, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট ছাড়াও রয়েছে আরো নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। সবগুলো স্থানই ভ্রমণ পিপাসুদের মনে আনন্দ দেওয়ার মতো উপযোগী।
আমাদের এই বিশাল বহরের যাত্রা ও ছিলো এই সব উল্লেখিত স্থানের মধ্যে বেশ কিছু স্থান দেখার জন্য। সেই সাথে সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার বিদায়ী নাস্তা সহ ছিল কিছু খেলাধুলার আয়োজন। যা সত্যিই সবার মনে আনন্দ দেওয়ার মতো। যার যার অবস্থান থেকে ০৭ টায় যাত্রা শুরু করেন, ভ্রমন সিডিউল অনুযায়ী আমরা সকাল ০৮ টা ভিতরে বিভিন্ন উপজেলা থেকে সবাই একত্রিত হয়েছিলাম মিরপুর থেকে প্রায় ০৩ কিলোমিটার পূর্বে কামাইছড়া (দারাগাও) চা বাগান মাঠে। সে স্থানে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ স্যারের উপস্থিতিতে আনন্দঘনমূহুর্তে, সবাই মিলে জাতীয় সংগীত পাঠের মাধ্যমে আমাদের সম্মিলিত যাত্রা শুরু হয়। যাত্রা শুরুর পূর্বেই উপজেলা ভিত্তিক যিনি প্রতিনিধি ছিলেন উনার দায়িত্বে প্রত্যেক্ষে নির্ধারিত টি-শার্ট ও ক্যাপ বুঝিয়ে দেন, তা পরিধান করে আমরা পরবর্তী স্থান অর্থাৎ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি, মধ্য পথে চা'য়ের দেশে স্বাগতম ভাস্কর্যের সামনে ফটোসেশান করা হয়। ১১ টায় স্মৃতিসৌধে পৌছে , অবসর প্রাপ্ত চ-শ্রমিক পাশি লালের গল্পের মধ্য দিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ জীবনি জেনে নেওয়ার বিষয় সম্পন্ন করে, সকালের নাস্তা সেরেনিলাম । তারপর, চলে এলাম মাধবপুর লেকে। সেখানে এসে বিভিন্ন পাহাড়ের চূড়ায় ফটোসেশান ও লাইভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপস্থিত বিভিন্ন উপজেলার প্রধান শিক্ষকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৫০ মিনিট অবস্থান শেষে আমরা মধ্যভোজের জন্য ফিরে আসি শ্রীমঙ্গল পানসী রেস্টুরেন্টে। এখানে আমাদের বিরতি ছিল প্রায় ৪৫ মিনিট। মধ্যভোজ পরে শুরু হলো আমাদের খেলাধুলার আয়োজন আর এই খেলাধুলার জন্য আমরা চলে আসি শ্রীমঙ্গল শহর থেকে কিছু দূর কাইক্কা বাজার হাইস্কুল মাঠে।
খেলাধুলার কথা শুনলেই যেন, আমাদের মনচিটকানো শুরু করে !
খেলাধুলা আয়োজন ছিল :
শিক্ষকদের জন্য ,
১. ফুটবল খেলা
২. বস্তা দৌড়
শিক্ষিকাদের জন্য
৩. জুড়িতে বল নিক্ষেপ
খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে সমাপ্তি এবং ঘুরে দেখব চা’য়ের রাজধানী শিক্ষা সফরের ইতি টানি ।
“সব ঠাঁই মোর ঘর আছে
আমি সেই ঘর লব খুঁটির”
এরপর প্রত্যেক উপজেলার সম্মানিত শিক্ষক/ শিক্ষিকাগণ নিজ নিজ গাড়ি বহরে, নিজ দায়িত্ব, নিজ বাসভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।
এরখম গল্পের মধ্য দিয়ে আমাদের আনন্দময় একদিনের শিক্ষা সফর পরিসমাপ্তি ঘটে।
..............................................
লেখক
-মো: আব্দুর রহিম তালুকদার
সহকারী শিক্ষক ( বি.এস-সি - গণিত)
B.Sc & M.Sc (Math -1st Class)
C.Ed (2nd), B.Ed (1st), M.Ed (Final) , LL.B (2nd) .
সঈদপুর বাজার ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসা
নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ।