Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

২৮ আগস্ট, ২০২০ ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ

সকল বিষয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্যের অবসান চাই...........................।।
সকল বিষয়ের শিক্ষকদের বেতনের সমতা চাই--
১। বেসরকারি বিদ্যালয়ে একজন সম্মানিত কৃষি শিক্ষক এবং একজন গণিত শিক্ষক স্নাতক পর্যায়ে একই বিষয়গুলো (গণিত এবং জীব বিজ্ঞান) নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। গণিতে নিবন্ধন করে চাকুরী নিলে বেতন স্কেল ১২৫০০ টাকা। কৃষি শিক্ষায় নিবন্ধন করে চাকুরী নিলে স্কেল ১৬০০০ টাকা। এটা কি বৈষম্য নয়?
বৈষম্য দিয়েই আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। লক্ষ্য করুন, উদ্ভিদবিজ্ঞান/ প্রাণীবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে কৃষি শিক্ষার শিক্ষক হলেই ১০ম গ্রেড বা ১৬০০০টাকা স্কেল কিন্তু উদ্ভিদবিজ্ঞান/ প্রাণীবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়েও জীববিজ্ঞানের শিক্ষক হলে ১১তম গ্রেডে বা ১২৫০০ টাকা স্কেলে বেতন পান। ভৌত বিজ্ঞান (রসায়ন বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান) এসব বিষয়ের শিক্ষক হলে ১১তম গ্রেডে বা ১২৫০০ টাকা স্কেলে বেতন পান। কিন্তু কৃষি শিক্ষায় সোনায় সোহাগা।
২। সরকারি বিদ্যালয়ে সম্মানিত শিক্ষক মন্ডলী ১৬০০০ টাকা স্কেলে চাকুরী শুরু করছেন। তবে শর্ত থাকছে পাঁচ বছরের মধ্যে বিএড ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। কিন্তু বেসরকারি বিদ্যালয়ে বি এড ডিগ্রি অর্জন করার পরেই কেবল মাত্র বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ( পদার্থ, রসায়ন), সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক মন্ডলী ১৬০০০ টাকা স্কেলে পৌঁছাতে পারেন। এটা কি বৈষম্য নয়?
জেনারেল শিক্ষক দের নিম্নতম একাডেমিক ডিগ্রি স্নাতক। আর অন্যান্য শিক্ষক দের ওই সমস্ত কোর্স পর্যন্ত ওনাদের একাডেমিক ডিগ্রি। কারন ওই কোর্স গুলো করার পরই ওই পদে ওনারা যোগ্য হোন।
তাঁর মানে বিএড জেনারেল শিক্ষক দের বাড়তি যোগ্যতা। এবং এই কোর্সের প্রধান লক্ষ্য দক্ষ ভাবে শিক্ষণ শিখন কার্যক্রম পরিচালনা। যেহেতু ওহি নাযিল বন্ধ আছে, সেহেতু এই বিএড ডিগ্রি সবার জন্য বাধ্যতা মূলক করা হোক। আর না হয় সবার জন্য বাদ হোক এই ডিগ্রি। ডিফেন্সে ট্রেনিং বন্ধ করে ওহি নাযিল হওয়া প্লেয়ার ভর্তি করা হয় না তবুও কর্তৃপক্ষের কাছে বিএডের গুরুত্ব কম হলে বন্ধ হোক বিএড। আমরা চাই বেতন বৈষম্য দূর হোক। বিএড কখনো উচ্চতর স্কেল নয়।
আইসিটি এবং বিপিএড এর শিক্ষক মন্ডলীর কথা বাদ দিলাম কিন্তু ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক মন্ডলীর স্কেল বিএড ছাড়া ১৬০০০ টাকা। এখানে হযবরল নীতি নয় কি?
৩। যারা চাকুরী কালীন বিএড ডিগ্রি অর্জন করেছেন তাদের বিএড স্কেল প্রাপ্তি থেকে অভিজ্ঞতার দশ বছর গননা করলে, অভিজ্ঞতার সময় গননায় আবার তারা বৈষম্যের শিকার হবে। বিএড ডিগ্রি অর্জনের আগে তিনি কি শিক্ষক ছিলেন না?
৪। বিএড ডিগ্রির মাধ্যমে একজন শিক্ষক বৈষম্য কাটালো, এবং অন্যান্য শিক্ষকের পর্যায়ে পৌছালো। এটা কি করে উচ্চতর স্কেল হয়। এটা তো দশ বছর সময়ে অর্জিত নয়। এখানেও হযবরল নীতি নয় কি?
৫। এমন বৈষম্যের কারনে আমরা আগামী প্রজন্ম কে গণিত, ইংরেজি, বাংলা, বিজ্ঞান ( পদার্থ, রাসায়ন), সমাজ বিজ্ঞান বিষয় গুলো থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছি না তো?
৬। বিএড ডিগ্রি অর্জন হয় শিক্ষণ শিখন কার্যক্রম হাতে কলমে পরিচালনার মাধ্যমে। এই ডিগ্রির সাথে জড়িয়ে আছে পাঠের বিষয় বস্তুর বিশ্লেষণ, পাঠদান পদ্ধতি ও কৌশল, শিক্ষা ক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, ফিডব্যাক, আত্ব মূল্যায়ন, শিখনফল, পাঠ টিকা, ডায়েরি, উপকরণ তৈরি ও ব্যবহার, প্রশ্ন পদ্ধতি, শিক্ষা ব্যবস্হা, শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার সবল দিক, দুর্বল দিক, ডেমো ক্লাস, টিপি প্রভৃতি। সুতরাং এই ডিগ্রি নিয়ে নয় ছয় করে এর গুরুত্ব কমালে আমরা জাতীগত ভাবে দক্ষ হতে পারবো না।
আশা করি বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে...
মন্তব্য করুন