সহকারী শিক্ষক
০৯ আগস্ট, ২০২০ ০৯:৫১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ দ্বিতীয় অধ্যায়
জীববিজ্ঞান নিয়ে বিশ্বব্যাপী শৈশব বা তরুণশিক্ষার চিত্রটা কী এখনো সে বোধ আসন পাতে নাই। এদেশের চিত্রটা নিয়ে আফসোস আছে, এমনকি নিজের অভিজ্ঞতাই খুব ভালো না। জীববিজ্ঞান যে একই সাথে অসাধারণ, বিস্তৃত এবং বহুমাত্রিক ও বিচিত্র জ্ঞানভাণ্ডার তার হদিস আড়াল করা হয় আমাদের কাছে সমাজের আরোপিত বিশ্বাসের মাধ্যমে। এমনকি উদ্ভিদের জীবন আবিষ্কার করা জগদীশ চন্দ্র বসুর অরিচয় আমরা দেই বাঙালি বিজ্ঞানী হিসেবে! কি সাংঘাতিক! একজন বিজ্ঞানীর পরিচয় দিতে গিয়ে আমাদের জাতীয়তার বেড়ি থেকে আমরা বেরুতে পারছি না।
আমরা কতটা সংকীর্ণ চিন্তাধারার ভেতর দিয়ে এগিয়ে যেতে চাইছি। সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে কজন এগুনো যায়? একটা জাতি যদিও মানুষের সংখ্যা দিয়ে বিচার করার জন্য বহু উপাদানের একটি নির্দেশক তবুও এই সমালোচনাটুকু করা যায়।
৭০ এর দশকে এসে মানব জিনোম নিয়ে কাজ শুরু হয় আর এ বিষয়ক বই, তাও গল্পচ্ছলের লেখনী পাচ্ছি ২০০২ এর প্রকাশনায়, আর আমি সেটা পড়ছি ২০২০ এর প্যান্ডেমিক সময়ে। এই পরিস্থিতির একটি অনুকূল ব্যাখ্যা হতে পারে আমি এই বিষয়ের প্রাসঙ্গিক শিক্ষার্থী নই, কিন্তু একটা প্রতিকূল সংকট তো রয়েই যাচ্ছে— বইটা তো গল্পচ্ছলে লেখা। আমি তো আরো এক দেড়যুগ আগেই পাঠক হতে পারতাম।
অক্সিজেন আবিষ্কারের আগে মানুষ দম নেয়ার সময় কী কল্পনা করত আমি জানি না। কিন্তু এখন যখন আমি বড় শ্বাস নেই তখন মাথায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাবনা কাজ করে অক্সিজেনের প্রশান্তি। জিন আবিষ্কারের পর কি এইরকমই একটা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে না?
ডাল্টনের পরমাণুবাদ সব পদার্থের ভিত্তি করে দিয়ে আমাদের ভাবিয়েছিল আসলে সবই এক। কেবল ভিন্ন ভিন্ন চেহারা, বুনট। জিনও তো তাই করছে! একটা শালিকের দিকে তাকিয়েও কাক ভাবতে ইচ্ছে করছে, ম্যালেরিয়া রোগের কথা ভেবে আফ্রিকার রেজিস্টিভ মানুষদের কথা মাথায় আসছে। এই চলমান মিউটেশনের গতি আমাদের কত বিজ্ঞানের পিছনে রয়ে গেছে।
মানুষের শারীরিক ক্রিয়াকলাপ, শিল্পসত্তা, বুদ্ধিবৃত্তি কোনটা পরিবেশপ্রভাবিত, কোনটা একেবারে জীবনের ভেতরে বীজবোনাথাকা সূত্রে লিখিত! কত সামগ্রিক বিষয় ঘেরাও করে জিনবিদ্যা। যখন পৃথিবী জিনবিদ্যার মূলধনে যোগ করছে জিনপ্রকৌশলের একের পর এক খুঁটিনাটি, দক্ষতা তখন আমরা বসে আছি সেই বাইরের পৃথিবীর কোথাও থেকে কোনো ফেরেশতা এসে আমাদের কিছু দান করে যায় কিনা।
করোনা পরিস্থিতিতে বইটি প্রাসঙ্গিক নয়, তবে আমি প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি খুঁজে পেয়েছিলাম বেশ আগে, এখন সেটা এর সাথে সম্পর্কিত করে ফেলছি। দেশে জিনোম সিকোয়েন্সিং মেশিন আছে ২৫টি, যার কোনোটাই অপারেট করা হচ্ছে না। কেবল সরকারি টেন্ডার খরচ করে এ পকেট থেকে ও পকেট করাই যার পেছনের কারবার।