Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

২৭ জুলাই, ২০২০ ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

আজকের পুষ্টি আগামীদিনের অর্থের সঞ্চয়

আমি যখন থেকে একটা ক্লাসের শ্রেনি শিক্ষকের দ্বায়িত্ব নিয়েছে, তখন থেকে আমার ক্লাসের অনেক কিছুই পরিবর্তন করা শুরু করি, আমার ক্লাস টেনের দ্বায়িত আছে। আমি প্রায় সময় দেখতাম ক্লাসের শুরুতেই অনেক মেয়ের চেহেরা মলিন হয়ে আছে । আমি খোজ নিতাম কি খেয়েছে? কখন খেয়েছে ? কি নিয়ে আজ স্কুলে আসছে। তখন বুঝতে পারলাম টিফিন আনা নিয়ে তাদের তেমন কোন মাথা ব্যথা নেই। যেহুতু আমি ক্লাস টিচার ছিলাম তাই কিছু ক্লাস পরিচালনার ক্ষমতা থাকে । আমি আমার সেই ক্ষমতার ব্যবহার করে আমার ক্লাসে টিফিন আনা বাধ্যতামুলক করলাম। তখন অনেক শিক্ষার্থীর অবহেলা, অভিভাবকের অবহেলা সামনে এলো। আমার জন্য সমালোচনা জমা হলো প্রধান শিক্ষকের টেবিলে । কিন্তু বরাবরই মতো স্যার আমাকে সাপর্ট দিয়ে আমার সহকর্মী আর অভিভাবক কে বুঝালেন। কেবল যে সমালোচনার সামনে পেয়েছি তা না আমি অনেকের অভিনন্দন ও পেয়েছি। বিভিন্ন অভিভাবক আমার কাজের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আমি অভিভাবক কে এইটা বলেছি মেয়ে প্রতিদিন খাবারের জন্য দশ টাকা না দিয়ে একটা ডিম সিদ্ধ আর ভাত দিয়ে দেন। ক্লাসের ক্যপ্টিন কে বললাম , সবাই প্রয়োজনের চেয়ে একমুট বেশি খাবার আনবে যেন যে আজ টিফিন আনেনি সে যেন তোমার সাথে খেতে পারে । যখন স্কুলে মিড-ডে মিল চালু হয়, আমি খুবই খুশি হলাম। এই বয়েসে পুষ্টির খুব প্রয়োজন। ছেলে বা মেয়ে বিষয় না। সবার পুষ্টি প্রয়োজন। আমাদের দেশে মেয়েরা এমনি পারিবারিক ভাবে পুষ্টিহীনতার স্বীকার হয়। তারপরে মেয়েদের খাবার নিয়ে একটা অবহেলা আছেই। আমি এই সিদ্ধান্তে অনেক খুশি হই এখন আর কারো কোন কথা থাকবে না। সত্যি কথা বলতে কি আমরা যতই বড় হই না কেন , এখনও আমরা ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাই, আমরা অপেক্ষা করি অনয কেউ কিছু বলে দিলে আমরাতা করবো। যতদিন আমাদের পিছন থেকে তাড়া দেয়া না হয়, ততদিন আমরা ভালো কাজেও সামনে যেতে চাই না। টিফিনে একটা তেলে ভাজা সিংগারা খাওয়ার চেয়ে একটা আলুসিদ্ধ খাওয়া ভালো। টিফিন সময় আমার ক্লাস রুম একটা ডায়নিং এ রূপান্তর হয়, সবাই সবার খাবার ভাগ করে খায়, কেউ খাবার না আনলেও সমস্যা হয় না। আনন্দের সাথে তাদের খাওয়া দেখলেই আমারই ভালো লাগে। আমার খুব ভালো লাগে আমার ক্লাসে সবাই বাসা থেকে টিফিন আনে। এই ধরনের উদ্দেগ্য নেবার জন্য আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাই। 

মন্তব্য করুন