Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

১৭ জুলাই, ২০২০ ০৬:৫৬ অপরাহ্ণ

এক জন শিক্ষকে গল্প

সারা বিশ্ববাসী যেখানে করোনা নামক এক ভয়াবহ মহামারী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থমকে গেছে গোটা মানবজাতির চলন। থেমে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা, ভাটা পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে । এমনকি রেড সিগন্যালের মতো যেভাবে থেমে যায় রাস্তায় চলমান মোটরযানহগুলো তেমনিভাবে কোন এক অজানা শক্তি থামিয়ে দিচ্ছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। আগামীদিনের ভবিষ্যত কর্ণধার যারা তারাই আজ দুচোখে এক ভয়াবহ বিষ্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে  এই পৃথিবীর দিকে। শুধু একটাই প্রশ্ন কবে ঠিক হবে পরিস্থিতি, কবে আবার মুক্ত আকাশের নিচ দিয়ে কাধে স্কুলের ব্যাগটি নিয়ে যাবো প্রিয় ক্যাম্পাসটিতে এই মহামারিতে যখন দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয় তখন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যেন এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। কিন্তু আসলেই কি তাই? হ্যা দর্শক আপনাদের মতো আমিও তাই ভেবেছিলাম কিন্তু দেশের এ সংকটকালেও শিক্ষা ব্যবস্থাকে যারা রীতিমতো উপরে টেনে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা হলো এ দেশের শিক্ষকবৃন্দ। তারা কিন্তু ঠিকই অনলাইনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্লাস নিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। শিক্ষার্থীদের মনে আশার আলো জাগিয়ে এদেশকে নিরক্ষর মুক্ত করতে যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে শিক্ষকবৃন্দ। তেমনি আজ আপনাদের যে গল্প শোনাব তা একজন শিক্ষিকাকে নিয়ে।যাকে হয়তো আমরা এখন সবাই চিনি। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অনলাইন জগতে ইংরেজি কøাসগুলোতে এমনকি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা পোর্টাল শিক্ষক বাতায়ন সেখানেও যার বিচরণ। যিনি সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছেন কিভাবে সংকটকালে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে তাদের শিক্ষাদান করা যায়। নিজের অক্লান্ত পরিশ্রম আর পরিবারের সহযোগীতায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে প্রতিনিয়ত সহায়তা যাচ্ছে। যাকে আমরা সবাই রাফিয়া ম্যাম নামে চিনি। তার আসল নাম মোসা: রাফিয়া খাতুন। ইউটিউব ও ফেসবুক জগতে তাকে আমরা চিনি ইংলিশ উইথ রাফিয়া ম্যাম নামে। রাফিয়া ম্যাম বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ গ্রীন ভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। দেশে যখন করোনার প্রকোপে শিক্ষার অচলাবস্থা ঠিক তখনই তার মাথায় বিভিন্ন চিন্তা ঘুরপাক খেতে শুরু করে কিভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চলবে। আর এর সহজ সমাধান দিয়ে স্বামী মো. সুমন আহমেদ পাশে থেকে অভয় দিয়ে এক উদ্ভাবনী কার্যক্রম শুরু করতে বলেন। খুলে দিলেন ইউটিউব চ্যানেল, শুরু করলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস। যা দেখে শিক্ষার্থীরা যেন প্রাণ ফিরে পেলো। প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ অনলাইন স্কুল দিয়ে যাত্রা শুরু করে একে একে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগভিত্তিক অনলাইন পেজে ক্লাস দিয়ে এগোতে থাকলেন। এবার মনে হয় বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। একজন নারী হয়েও কখনো মায়ের ভূমিকা, কখনও স্ত্রীর ভ’মিকা, আবার কখনো কখনো প্রচন্ড গরমের মধ্যে ফ্যান ছাড়া ঘরে হাতে পেন্সিল নিয়ে ওহাইটবোর্ডে ক্লাস ধারনে পাঠ করে চলেছে একজন দায়িত্ববান শিক্ষিকার। যিনি কিনা একজন ভবিষ্যত সমাজ কর্ণধার তৈরির কারিগর। যার শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে হাজারো শিক্ষার্থী। করোনা সমাজের চলনের পথটা আগলে ধরে রাখলেও দমাতে পারেনি শিক্ষা অর্জনআগ্রহী শিক্ষার্থীদের। বর্তমানে নারীরাও কোন অংশে পিছিয়ে নেই। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে নারীদের অবদান যেন কোন অংশে কম নয় তা রাফিয়া ম্যামকে দেখলেই বোঝা যায়। বেগম রোকেয়া যেমন সমাজ দেখতে চেয়েছিলেন হয়তো রাফিয়া ম্যামের চোখে সেই স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য দিনের পর দিন লড়াই করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের শিক্ষায় যেন কোনরকম অশুভ ছায়া না পড়ে সে জন্য তিনি সহ যে সকল শিক্ষকবৃন্দ কাজ করে যাচ্ছেন তাদের জন্য সত্যিই গর্বে বুকটা ভরে উঠে। ইংরেজি নিয়ে যেন আর কোন শিক্ষার্থী যেন ভয় না পায় সে জন্য রাফিয়া ম্যামের এ পর্যন্ত ইউটিউবে প্রায় ৩০০ টি ক্লাস দেওয়া আছে। আমার বিশ্বাস একজন মাধ্যমিক লেভেলের শিক্ষার্থী যদি রাফিয়া ম্যামের ইউটিউব চ্যানেলটির প্রত্যেকটি ভিডিও ভালোভাবে দেখে তাহলে তার ৮০% নম্বর চলে আসবে। শুধু তাই নয় শিক্ষার্থীরা যেন ক্লাস দেখে যদি কোন কিছু না বুঝতে পারে তার জন্য প্রতি সপ্তাহে একটি করে লাইভ ক্লাস এবং ফেসবুক আইডি প্রদান করেছেন তিনি। যেন খুব সহজেই একজন শিক্ষার্থী তার সমস্যা ম্যাডামকে অবহিত করতে পারে এবং সমাধান পেতে পারে। শিক্ষক বাতায়ন নামে যে বড় ওয়েব পোর্টালটি আছে সেখানে সর্বোচ্চ কন্টেন্ট দাতাদের মধ্যে সেরা ১০ জনের মধ্যে তিনিও আছেন। আর এসব কাজের বিপরীতে সবসময় তাকে যে সহায়তা ও সাহস জুগিয়ে যাচ্ছেন তার নামটি না বললেই নয়। তিনি হচ্ছেন তার স্বামী মো. সুমন আহমেদ। যিনি কিনা একজন শিক্ষকের সন্তান এমনকি তিনি ও একসময় শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। বর্তমানে সময়ের প্রেক্ষাপটে সেটাকে চলমান রাখেন নি। কিন্তু শিক্ষকতাকে তিনি মনের মধ্যে পুষে রাখেন। আর শিক্ষকতাকে মহান পেশা হিসেবে উল্লেখ করে স্ত্রীকেও শিক্ষকতায় সহায়তা করে যাচ্ছেন। তার স্বপ্ন এদেশ একদিন বিশ্ব দরবারে মাথা উচু করে দাড়াবে। ইন্টারন্যাশনাল পর্যায়ে নেতৃত্ব দিবে এদেশেরই সন্তান। আর তাদের সুশিক্ষায় স্বশিক্ষিত করে তুলতে এ মহিয়সী প্রচেষ্টা। রাফিয়া ম্যামের ইংরেজি ক্লাস যেন একজন শিক্ষার্থীকে একাডেমিক শিক্ষাই দেয়না শিক্ষা দেয় শিষ্ঠাচার, মূল্যবোধ, আদর্শ,। শিক্ষার্থীদের সহজ পদ্ধতিতে ও সাবলীল ভাবে  কিভাবে ইংরেজি শেখানো যায় সে ব্যাপারে যথেষ্ট খেয়াল রাখেন রাফিয়া ম্যাম । আর তারই ধারাবাহিকতায় একের পর এক চেষ্টা করে যাচ্ছেন এবং প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যাচ্ছেন নিজের সাথে। 

মন্তব্য করুন