শিক্ষার্থীদের মানবিক ও মানুসিক বিকাশে অভিাববকদের গুরুত্ব অনেক। বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে কার্য়কর যোগাযোগ খুবই জরুরি। বর্র্তমানে বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশের গুরুত্ব বেড়েছে। প্রায় সকল বিদ্যালয়ই তা করে থাকে। সকল অভিভাবকগণকেই এই সমোবেশে উপস্থিত থাকা প্রয়োজন। একজন শিক্ষার্থীমর সৃজনশীল বিকাশের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের দায়িত্ব রয়েছে। তাই শিক্ষক
এবং শিক্ষকদের মতো বড়দের সঙ্গে বাচ্চাদের যত্নের বিষয়টা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
শিশুদের জীবনে এবং তাদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে অভিভাবক এবং শিক্ষকদের প্রভাব
অপরিসীম।বিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীরই শুধু নয়, যোগাযোগ থাকতে হয় অভিভাবকদেরও।
অভিভাবকরাও নানা পরামর্শ দিতে পারেন শিক্ষার মানোন্নয়নে। কিংবা বিদ্যালয়ের
নানা অসংগতি অনেক সময় অভিভাবকদের চোখেই হয়তো ধরা পড়ে। সে জন্য বিদ্যালয়ের
শিক্ষকদের সঙ্গে অভিভাবকদেরও সম্পর্ক থাকতে হয়। বিদ্যালয়ের সঙ্গে
অভিভাবকদের সম্পর্ক জুড়ে দিতে পারে অভিভাবক সভা। একজন ছাত্রের বা বাচ্চার সঠিক বিকাশের ক্ষেত্রে শিক্ষক ও
অভিভাবকদের মধ্যে দৃঢ় পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা একান্ত আবশ্যক। যখন
একজন ছাত্রের স্কুলজীবনে কিছু সমস্যা দেখা যায় তখন অভিভাবক এবং শিক্ষকদের
পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। এই সমস্যা ছাত্রটির পড়াশোনাকে
ঘিরে, স্বাস্থ্যজনিত, সামাজিক বা তার আচরণগত হতে পারে। সাধারণত শিক্ষকরাই
এই পরিস্থিতিতে চালকের আসনে বসেন। আবার এমনও হয় যখন শিক্ষকরা ছাত্রের
সমস্যার কথা তার বাবা-মায়ের সামনে তুলে ধরেন এবং বাবা-মা তখন তাদের
সন্তানের সমস্যা সমাধান করে তাদের জীবন রক্ষা করেন। কিছু ক্ষেত্রে আবার এও
দেখা যায় যে, বাবা-মায়েরা তাদের বাচ্চাদের উপর রেগে যায় বা তাদের নানাভাবে
দোষারোপ করে এবং একজন শিক্ষক তখন সেই বাচ্চাটিকে সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা
করতে এগিয়ে আসেন। এই দুইয়ের মধ্যে যে ব্যবস্থাই নেওয়া হোক না কেন, সমস্যা
সমাধান বা জটিল পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে এই দুটোই খুব কার্যকরী।শিক্ষাদানে শিক্ষকের ভূমিকা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, ছাত্রছাত্রীদের
সফলতার পিছনে অভিভাবকদের সচেতনতা ও সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীর মনঃসংযোগ ও
মেধার প্রশ্ন জড়িত। বিশিষ্ট চিন্তাবিদদের মতে, ঘরই হচ্ছে শিক্ষার প্রধান
আধার। প্রবাদ আছে ‘Home is the seminary of all other institutions’ তারপর
আসবে শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। ফরাসি লেখক Alphonse Dauded-i ÔThe
Last LessonÕ প্রবন্ধে শিক্ষক গ. Hamel তাঁর ছাত্র Franz পড়া যখন ঠিকমতো
বলতে পারেনি তখন তিনি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে Franz-কে বলেছিলেন, I won’t scold
you,…. You are not the worst, poor little Franz. We’ve all a great deal
to reproach ourselves with. Your parents were not anxious enough to
have you learn. They preferred to put you to work on a farm or at the
mills, so as to have a little more money. And I? I’ve been to blame
also. Have I not often sent you to water my flowers instead of learning
your lessons? And when I wanted to go fishing, did I not just give you a
holiday?
বাচ্চারা
যখন অভিভাবকদের উচ্চাশা পূরণ করতে পারে না তখন অভিভাবকদের মধ্যে একধরনের
হতাশা, আতঙ্ক জন্মায়। এইসময় অভিভাবকদের প্রয়োজন কিছু সময় যাতে নতুন
পরিস্থিতির সঙ্গে তারা মানিয়ে নিতে পারে। আর শিক্ষকদের এটা আশা করা
একেবারেই অবাস্তব যে অভিভাবকরা বাচ্চাদের ব্যর্থতা খুব ধীর-স্থিরভাবে মেনে
নেবে। এই সমস্যা সমাধানে শিক্ষকদের উচিত বাচ্চাদের বাবা-মায়েদের সাহায্য
করা।
বিদ্যালয় অভিভাবক সম্পর্ক জোরদার করা যায়-
১। প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের জন্য সাক্ষাৎকারের একটা নির্ধারিত সময় রাখবেন। তাদের সাথে মতবিনিময় করবেন।
২। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের আমন্ত্রণ জানাবেন।বিদ্যালয়ের সুযোগ সুবিধা নিয়ে সকলের সাথে আলোচনা করবেন।
৩। শিক্ষক-অভিভাবকদের নিয়ে পিটিএ গঠন করা। তা সচল রাখা।
৪। বছরে কয়েক বার অভিভাবক দিবস, মা দিবস করা যেতে পারে।
৫। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বা বিভিন্ন জাতীয় দিবস বা মেলার প্রদর্শনী করে অভিভাবকদের আমন্ত্রণ জানালে তারা আগ্রহ প্রকাশ করবে এতে বিদ্যালয়ের সাথে অভিভাবকদের দূরত্ব কবে।
৬। শিক্ষকদের কাছ থেকে অভিভাবক সরাসরি বা ছাত্রের মাধমে প্রগতি পত্র( এতে আচার-আচরন উল্লেখ থাকবে) বছরে কয়েকবার দেখলে বিদ্যালয় অভিভাবক সম্পর্ক দৃঢ় হয়।
৮। মাদক বিরোধী কমিটি, যৌতূক নিরোধ কমিটি, বাল্যবিবাহ রোধ কমিটি সহ এজাতীয় কর্মকাণ্ডে শিক্ষিত সচেতন অভিভাবক যুক্ত করা উচিত।
৯। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির সময় অভিভাবকের সাথে আলোচনা বা সাক্ষাৎকারের নিয়ম রাখা উচিত। এতে অভিভাবক বিদ্যালয়ের নিয়ম কানুন সম্পর্কে জানতে পারবেন।
১০। ৯ম শ্রেণিতে উঠার সময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের সাথে সভা করে শিক্ষার্থীর মেধা অনুসারে বিজ্ঞান, বানিজ্য,মানবিক শাখা বাছাই করা যেতে পারে।
১১। বিদ্যালয়কে সমাজ শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে বিদ্যালয়েঅভিভাবকদের নিয়ে বিভিন্ন খেলাধূলার আয়োজন করা যেতে পারে।
সর্বপরি, পড়ালেখার ব্যাপারে শিশু-কিশোরদের আগ্রহ কেমন সেদিকে নজর থাকে শিক্ষকদের।
শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাসের পড়া তৈরি করে নিয়ে এলেও পড়ালেখার ব্যাপারে
আগ্রহ কেমন তা বুঝতে পারেন একজন অভিভাবক। পড়ালেখার প্রতি আন্তরিকতা কতটুকু
তা অভিভাবকরা ভালো বুঝতে পারেন। বিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মধ্যে বীজ বপন করে
দেয়। সেই বীজকে ফসলে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্বটা
অভিভাবকদের ভাগেই বেশি পড়ে। এ জন্যই শিক্ষকদের সঙ্গে অভিভাবকদের মতবিনিময়
হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার মানের দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া বেশ এগিয়ে। অন্য দেশগুলো তাই
অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করে। ১৯৮৭ সাল থেকে দেশটিতে কাজ করছে
‘ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া’ বা আইইএএ নামের
প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত সমীক্ষা চালায়
আইইএএ। সমীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ তুলে দেওয়া হয়
সরকারের হাতে। অস্ট্রেলিয়া সরকার গুরুত্বের সঙ্গে সেসব পরামর্শ বাস্তবায়নের
চেষ্টা করে থাকে। শিক্ষার সঙ্গে অভিভাবকদের সংশ্লিষ্ট করার এই চেষ্টা
বাংলাদেশেও হতে পারে।