সহকারী শিক্ষক
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ল্যাপটপ বা নোটবুক কম্পিউটার কিনতে গেলেই আজকাল আমরা অনেক বেশী কনফিউজ্ড থাকি। কারন বাজারে আছে শত শত মডেলের ল্যাপটপ। কোনটি ফেলে কোনটি কিনব এটাই বুঝে উঠতে পারি না অনেক সময়। বাজেটেরও ব্যাপার থাকে। সবকিছু সমন্বয় করে সেরা ল্যাপটপ কে না কিনতে চায়! তাই এবারের বাংলাদেশীজমের প্রযুক্তি আয়োজনে রাখলাম দেশের বাজারে এই মুহুতর্ে ৫টি সেরা ল্যাপটপ যা আপনার কাজটিও করবে আবার বাজেটকেও সীমিত রাখবে।
প্রথমেই বলি, ল্যাপটপ কেনার আগে কিছু কমন ব্যাপার আছে যেগুলোর দিকে একটু নজর রাখতে হয়। নিজের অভিজ্ঞতার কথা যদি বলি, আমার কাছে ল্যাপ্ট্পের প্রধান এবং প্রথম ফিচার হলো ল্যাপটপের আকার এবং ওজন এরপরে আসে প্রসেসর আর ডিসপ্লে রেজুলেশন ইত্যাদি। যদি আমি ল্যাপটপ কিনি তাহলে আমি ১৩ ইঞ্চির ডিসপ্লে আছে এমন ল্যাপটপই আমি সবার আগে পছন্দ করব কারন ল্যাপটপ হওয়া উচিত সহজে বহনযোগ্য। বড় এবং ভারী ল্যাপটপ বহন করা অনেক কস্টসাধ্য ব্যাপার। তাই ল্যাপট্প যত হালকা হয় তত ভাল। এরপরের ব্যাপারটি আসে প্রসেসর আর হার্ডড্রাইভ। নুন্যতম Intel Core i3 হলেই ভাল তবে Core i5 প্রসেসর থাকলে অনেকটা নিশ্চিত থাকা যায় অনেক ভারী কাজের ব্যাপারে। মিনিমাম ৫০০ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক স্পেস থাকা উচিত। আমি তো আরও বেশী প্রেফার করি। আর যদি তা না হয় তাহলে একটা এক্স্টারনাল USB 3 হার্ডড্রাইভ কাজটা সেরে ফেলবে। এরপর আসে গ্রাফিক্স। যদি গেমিং করতে চান তাহলে ১ গিগাবাইট মেমোরীর ডেডিকেটেড গ্রাফিক্স কার্ড থাকা ভাল তবে সেক্ষেত্রে বাজেট বেড়ে যেতে পারে। আমি ডিভিডি ড্রাইভ পছন্দ করিনা তার চাইতে পেন ড্রাইভ ব্যবহার করা অনেক ভাল কিন্তু আপনার যদি প্রয়োজন থাকে তাহলে আপনি ডিভিডি ড্রাইভ আছে এমন নোটবুক কিনতে পারেন। এরপর সবচেয়ে গুরুত্ব্পুনর্ হলো ব্যাটারী লাইফ। এখন অনেক ল্যাপটপে ৭-১০ ঘন্টা ব্যাটারী লাইফ থাকে কিন্তু আসলে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ততক্ষন চাজর্ আসলে থাকে না। এদিকে এগিয়ে আছে Apple এর নোটবুক কম্পিউটারগুলো। নীচে কিছু ল্যাপটপের মডেল দিলাম। এগুলো আপনার দৈনন্দিন কম্পিউটিং এর কাজ স্বাচ্ছন্দে করতে পারবে এবং আপনার বাজেট রাখবে সীমিত। আর হ্যা, বাংলাদেশের কম্পিউটার বাজারে এগুলো সহজলভ্য আর দাম ৩৭,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকার মধ্যে।

লাইটওয়েট ল্যাপটপের মধ্যে Apple এর ল্যাপট্পটি এই মুহুতের্ বাজারের সেরা আমার মতে আর বাংলাদেশের বাজারে এর দামও অনেক কমে এসেছে। এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে স্লিম নোটবুক কম্পিউটার বলা হয় আর এটি এতটাই হালকা যে বহন করার সময় মনেই হবে না আস্ত একটা ল্যাপটপ আপনি কাধে নিয়ে ঘুরে বেরাচ্ছেন। Core i5 প্রসেসর আর সলিড স্টেট ড্রাইভ সংযুক্ত এই ল্যাপটপটি সারা বিশ্বে যথেস্ট সমীহ কুড়িয়েছে এই মুহুর্তে। এটিতে আছে Mac OS X Snow Leopard ওপারেটিং সিস্টেম যা অনেক বেশী সহজ এবং নিরাপদ আর ভাইরার নেই বললেই চলে। আর যদি আপনার ইচ্ছা করে, আপনি চাইলে Windows 8-ও ইন্সটল করতে পারবেন এই ল্যাপটপে অনায়াসেই। তার জন্য আপনার আলাদা কোন ধরনের স্কিলের দরকার হবে না। এই ল্যাপ্টপের সবচেয়ে আকর্ষনীয় দিক হলো এর ডিজাইন আর ব্যাটারী লাইফ। সর্বোচ্চ ১৫ ঘন্টা পর্যন্ত চলবে একবার চাজর্ দিলে যা অন্যান্য যেকোন ল্যাপটপের দ্বারা সম্ভব না। এটিতে কোন ডিভিডি ড্রাইভ নাই।

ল্যাপট্প দিয়ে যদি গেমিং করতে চান, তাহলে আমি বলব এই মুহুতর্ে এই ল্যাপটপটি সেরা। কারন এতে আছে Core i7 প্রসেসর আর nVidia GForce GT 470 গ্রাফিক্স কার্ড। আরও আছে ১ টেরাবাইট হার্ডডিস্ক আর একটি টাচ স্ক্রীন। এই কম্পিউটারের গ্রাফিক্স কার্ড খুব ভাল তাই গেমিং এর জন্য সেরা এই ল্যাপটপ এই মুহুতর্ে – অন্ত্ত বাংলাদেশের বাজারে আর বাজেট দামের মধ্যে। ৭ ঘন্টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই নোটবুকটি ব্যাটারীতে চালানো যাবে একবার চাজর্ করে। এতে ডিভিডি ড্রাইভ আছে। Apple MacBook Air এর মত অতটা স্লিম না হলেও, খুব একটা ভারী না অন্যান্য ল্যাপটপের মত। এটি Ultrabook ক্যাটাগরীর মধ্যেই পড়ে।

এটিও একটি টাচস্ক্রিন সমৃদ্ধ নোটবুক কম্পিউটার সাথে আছে ব্যাকলিট কীবডর্ অর্থাত অন্ধকারে কীবোডর্ের কী এর নীচে আলো জ্বলবে। প্রসেসর Intel Core i5। আর গ্রাফিক্স কার্ড সাধারন – তাই গেমিং এর জন্য এর পারফরম্যান্স ততটা ভাল না তবে অন্যান্য কাজগুলো করতে পারবেন অনায়াসেই। যথেষ্ট দ্রুত গতির এই নোটবুকে আছে বেশ কিছু পোর্ট, ডিভিডি ড্রাইভ, ভাল রেজুলেশন ডিসপ্লে আর লাইটওয়েট ডিজাইন। যদি উপরের দুটি ল্যাপ্টপ থেকে এটি একটু ভারী, তবে তাতে কোন সমস্যা হবার কথা না। বেশ কিছু পোর্ট আর ভাল প্রসেসর এই নোটবুকটিকে এন্ট্রি লেভেলে সেরা ল্যাপটপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে অনেক আইটি রিভিউ প্রতিষ্ঠান। তাছাড়াও Lenovo ল্যাপটপ অনেক টেকসই হয়।