Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

আসছে ইন্টারনেটের ভয়াবহতা!

পৃথিবীতে দিন দিন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে সেই সাথে বাড়ছে মানুষের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম। আর কমছে দুরত্ব। সবকিছু অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছে। মনে হয় যেন হাতের নাগালেই সবকিছু। একটা স্মার্টফোন থাকলেই হলো – এমনকি কম্পিউটারেও দরকার পড়ছে না। কারন কম্পিউটার এখন মানুষের পকেটে পকেটে। আমাদের দেশও কম যাচ্ছে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে। ৫ হাজার টাকায় পাওয়া যায় স্মার্টফোন আর ভবিষ্যতে হয়তো ১০০০ টাকা বা তারও কমে পাওয়া যাবে স্মার্টফোন। এমনকি ফ্রি গেজেট পাওয়াটাও অবাক করা কোন ব্যাপার হবে না। আমার মতে ভবিষ্যতে ইন্টারনেট এনাবেল করা গেজেটগুলো এতই সহজলভ্য হবে যে একটি প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট সংযোগ অথবা মোবাইল অপারেটরের সংযোগের সাথে ফ্রি তে গেজেট, স্মার্টফোন বা কম্পিউটার পাওয়া যাবে। আমি মোটেই বাড়িয়ে বলছি না। চিন্তা করে দেখুন – আমাদের দেশে যখন প্রথম প্রথম ডায়াল-আপ ইন্টারনেট সংযোগ চালু হয়েছিল অথবা নতুন নতুন মোবাইল সংযোগ চালু হয়েছিল তখন দাম কেমন ছিল আর এখন কেমন! কত অল্প সময়ের ব্যবধানে কোথায় পৌছে গেছে সব!

ইন্টারনেটের সৃষ্টি হয়েছে মূলত পৃথিবীর পরিধিকে ছোট করে আনার জন্য – যোগাযোগের মাধ্যমকে আরও সহজতর করার জন্য। ইন্টারনেট চালু হবার পরে চালু হয়ে নানারকম সেবা! কেউ সার্চ ইঞ্জিন আবার কেউ স্যোশাল নেটওয়াকর্ আবার কেউ অনলাইনে নানারকম বিনোদনের মাধ্যম তৈরী করে বসে আছে। কাগজের পত্রিকা আজকাল বিলুপ্তির পথে আর জায়গা করে নিয়েছে অনলাইন পত্রিকাগুলো। অনেক আগে নান প্রতিষ্ঠান বা ডাটাবেজ জাতীয় কাজের জন্য ব্যবহার করা হতো নানারকম প্রোগ্রাম যা শুধু কম্পিউটারেই থাকত কিন্ত এখন সবকিছু হয়ে গেছে ইন্টারনেট বেজ্ড আর এসেছে নানারকম কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। আগে মানুষ ডায়রী লিখত আর এখন সেই ডায়রীকে রিপ্লেস করেছে অনলাইন ব্লগ! ল্যান্ডলাইনের ফোন এখন তেমন কেউ ব্যবহারই করে না বরং মোবাইলফোন একজনের কাছে একের অধিক থাকে। ঘরে বসেই সব তথ্য পেয়ে যাচ্ছেন। গুগলে লিখে সার্চ করে পাওয়া যাবে না এমন কিছু নেই – এতই শক্তিশালী তাদের নেটওয়ার্ক সিস্টেম। ইমেইল ছাড়া দিনই যায়না আর এখন ইমেইলের বদলে ফেসবুকের মেসেজের প্রায়োরিটি অনেক বেশী। চিন্তা করে দেখুন – এমনকি ইমেইলেরও রিপ্লেসমেন্ট হয়ে যাচ্ছে নানারকম স্যোশাল নেটওয়ার্ক সাইট অথবা মেসেঞ্জার দিয়ে! মোবাইলে দেখা যায় টিভি আর টিভি হয়ে উঠেছে স্মার্টটিভি। আছে স্মার্টওয়াচ যা আপনার শরীরের নানা বিষয় খেয়াল রাখছে – আপনার হার্টবিট বা ব্লাডপ্রেসার কাউন্ট করছে!

উপরের কথাগুলো বলার মানেটা কি বুঝতে পেরেছেন? ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্ক সিস্টেম কিভাবে কাজ করে? অনেকগুলো পদ্ধতির একটি হলো অনলাইনে ইউজার ডাটা কালেকশন। ফেসবুকে একাউন্ট খোলার জন্য আপনি দিচ্ছেন আপনার জীবন বৃত্তান্ত, মোবাইল নাম্বার এমনকি আপনার জিওগ্রাফিক লোকেশন। গুগলে লগিন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখায় আপনি কোন দেশ থেকে লগিন করেছেন এবং সেদেশের সাথে রেলেভেন্ট সার্চ রেজাল্ট ডিসপ্লে করে। ঠিক কি না? আমাদের দেশে সব ইন্টারনেট সেবা পপুলার না হলেও অন্যান্য দেশে আরও অনেক অনলাইন সেবা আছে যেগুলো সমান জনপ্রিয় যেমন স্মার্টফোনে পেমেন্ট করা, ট্রাভেল এডভাইজার, নানারকম রেটিং সিস্টেম, আশে পাশের এলাকায় বন্ধু খোজার জন্য প্রোগ্রাম বা আরও কত কি! আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সমানে ব্যবহার করছে ইন্টারনেট।

এবার বলুন, ইন্টারনেটের ভয়াবহতা ঠিক কোন জায়গায়? 

ইন্টারনেট হলো অনেক বড় একটি ডাটাবেজের মত। যেখানে আছে কোটি কোটি মানুষের নানা রকম তথ্য। কারো নাম ঠিকানা, কারও ব্য্ক্তিগত নানা তথ্য যেমন রিলেশনশিপ ইন্ফরমেশন, জন্মতারিখ এমনকি ব্লাডগ্রুপও, কারও আছে ন্যাশনাল আইডি ডাটাবেজ কোথাও আছে স্বাস্থ্য বিষয়ক ডাটাবেজ। ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরাগুলোও কাজ করে ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি অথবা নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটির মাধ্যমে আজকাল এবং খুবই সস্তা এবং কোন না কোনভাবে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত। এবার চিন্তা করে দেখুন – এত সব ডাটা, এত চোখ আর এত ব্য্ক্তিগত তথ্য সব কিন্তু আছে কতিপয় প্রতিষ্ঠানের হাতে। সবার কাছে না! শুধু একবার চিন্তা করে দেখুন যদি এসব তথ্য সবগুলো যদি এক হয়, একটি সেন্ট্রাল সিস্টেমের মধ্যে চলে আসে কি হতে পারে? না, আমি কোন হলিউড সিনেমার গল্প বলছি না। শুধু চিন্তা করে দেখুন পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশী মানুষের তথ্য অনলাইনে আছে এবং এগুলো সব এক করা হলো। কি হতে পারে? আপনার ফেসবুকের মেসেজ হতে শুরু করে গুরুত্বপূর্ন ইমেইল এমনকি টপ-সিক্রেট কোন ব্যাপার – সবকিছুই সেভ হয়ে আছে কোথাও না কোথাও এবং কোন একটি নির্দিষ্ট সিস্টেম থেকে এক্সেস করা যায়। তাই না? উদাহরন হিসেবে, আপনার ফেসবুকের কোন একটি চ্যাট মেসেজ, কনভারসেশন শেষ হবার ধরেন ডিলিট করে দিলেন। আপনার কি মনে হয় সেটি আসলে ডিলিট হয়ে গেছে? Not at all! ডিলিটেড ইউজার মেসেজ নামক কোন না কোন ডাটাবেজে এটি আছে। এভাবে আপনার ফুটপ্রিন্ট সবখানেই আছে। আর এসব কিছুই যদি একটি সেন্ট্রাল সিস্টেমে এক জায়গায় চলে আসে তাহলে কি হতে পারে জানেন? আপনার জীবন আর আপনার থাকবে না। আপনাকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবে সেই প্রতিষ্ঠান, সিস্টেম বা গোষ্ঠী যাদের কাছে আছে সবকিছুর এক্সেস। ধরুন আমেরিকা – তাদের দেশ থেকেই বড় বড় সব ইন্টারনেট সেবা পরিচালিত হচ্ছে। আপনি কটায় ঘুম থেকে উঠেন আর কবে অফিসে যান এবং আপনার অফিস কোথায়, আপনার ছেলেমেয়ে কোথায় আছে বা আপনি কত আয় করেন, আপনার ক্রেডিট কার্ডের নাম্বার বা আপনার প্রেয়সীর নাম, অথবা আপনার গোপন কোন ব্যাপার no matter whatever it is – ইন্টারনেট এবং ডাটাবেজ কিন্তু সবকিছুই শুনছে। এবার বলুন আপনাকে নিয়ন্ত্রন করা সহ্জ না কঠিন?

ইন্টারনেটকে যদি ধরা হয় একটি মস্তিস্ক তাহলে শুধু কল্পনা করে দেখুন সেই মস্তিস্কে কত তথ্য বা কত জ্ঞান আছে! পুরো পৃথিবীর ইন্টারনেট নেটওয়ার্ককে যদি একটি সেন্ট্রাল কোরে আনা যায়, তাহলে সেটি কতটুকু ক্ষমতা রাখতে পারে বুঝতে পারছেন? আর এমনটি যে হচ্ছে না তা কিভাবে বলবেন? গুগলের এত বড় নেটওয়ার্ক আর চোখ জুড়ানো সব সেবা আর বিলিয়নের উপরে ব্যবহারকারী – কোথায় যাচ্ছে এসব ডাটা? সবই সেভ হয়ে আছে গুগলের কোন না কোন ডাটা সেন্টারে। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত এসব ডাটা সেন্টার আর সংখ্যাও কম না! এমনকি প্রতিটি দেশে আছে তাদের ডাটাসেন্টার। গুগল ম্যাপ তো এখন সবকিছুতেই ব্যবহার করা হচ্ছে। গুগলের চোখ দিয়ে আপমার বাড়ির ছাদও দেখা যায় এখন। কোথায় পৌছে গেছে সবকিছু!

মানুষ ইন্টারনেট সৃষ্টি করেছে কিন্তু সব মানুষ বানায়নি। কিন্তু বেশীরভাগ মানুষ ব্যবহার করছে। আর সব তথ্য চলে যাচ্ছে কিছু মানুষের হাতে বা দু-একটা দেশের কাছে। বাংলাদেশে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র আছে তাদের সব তথ্য ইন্টারনেটেই আছে – রাইট? অনলাইনে ভেরিফাই করা যায়, আছে করবিভাগের সমস্ত তথ্য। কি নেই! বাংলাদেশের মত ছোট দেশেও কত বিশাল ডাটাবেজ! সব কিছুই ইন্টারনেটে আছে। আর ইন্টারনেট শুধু একটি নেটওয়ার্ক না। ইন্টারনেটকে একটি ব্রেইন হিসেবে দেখুন – আর কল্পনা করুন এটি কতটা শক্তিশালী। আর যদি পুরো ইন্টারনেট সিস্টেমটি যদি ইতিমধ্যেই একটি সেন্ট্রাল কোরে সংযুক্ত থাকে তাহলে ধরে নিন বীজ রোপন করা হয়ে গেছে এখন শুধু পাকার অপেক্ষায় আছে।

আমরা প্রযুক্তির দাস হয়ে যাচ্ছি। আমরা ইন্টারনেটের দাস হয়ে যাচ্ছি ধীরে ধীরে। আমাদের নিয়ন্ত্রন করা কোন ব্যাপারই না। এবং সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপার হলো, আমারা এই বিস্তারকে ঠেকাতে পারব না। এটি এমন একটি পর্যায়ে চলে গেছে যে এটিকে থামানো অসম্ভব। হলিউডের Transcendence সিনেমাটিতেও অনেক কিছু ফুটে উঠেছে কিন্তু শুধু কল্পনা করে দেখুন – আমি এতক্ষন যা বললাম, তার কোন অংশ মিথ্যা কিনা! যাবার আগে শুধু একটি ছোট্ট উদাহরন দেই। ধরুন একটি অনলাইন পত্রিকা যার কয়েককোটি রেগুলার পাঠিক আছে। সেই পত্রিকার হঠাত করে ইচ্ছে হলো আপনাকে শেষ করে দিবে কারন তাদের আপনাকে কোন কারনে পছন্দ হয়নি। আর তারা আপনাকে নিয়ে পোস্ট করে দিল একটি মিথ্যা খবর আর সাথে সাথে পৌছে গেল কোটি মানুষের হাতে। কি করবেন আপনি? মামলা করবেন? আপনার মামলার খবর কারো কাছে পৌছাবেনা। কিন্তু আপনার নামে সেই মিথ্যা খবর সবার কাছে পৌছে গেছে। তাহলে কি হলো? একটি উপায়ে সেই পত্রিকা আপনার জীবনকে নিয়ন্ত্রন করল। পত্রিকাটি আপনাকে বলল, “ঠিক আছে, আমাদের ১ কোটি টাকা তাহলে আপনার এই খবর আমরা ছাপাবো না” – কিভাবে করা হলো আপনার নিয়ন্ত্রন। এটি সবচেয়ে ক্ষুদ্র এবং বেসিক উদাহরন এবং এটি সবে শুরু। শুরুতেই এটি হচ্ছে এবং এখনকার সময়েও এটি হচ্ছে। সামনে কি হতে পারে কেউ বুঝতে পারছেন?

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট